Incredible India monthly contest of February #2| Do you believe behind every successful man, there is a woman?

in Incredible India2 days ago (edited)
1000050507.png

বাংলায় লিখছি নিজের অভিমত, ইচ্ছেছিল গতকাল অংশগ্রহণের কিন্তু একেবারেই সময় করে উঠতে পারিনি, কারণ কমিউনিটির পোস্ট লেখা ছিল পাশাপশি কিউরেশন!

তবে, আজ এই পবিত্র শিবরাত্রির দিনে একজন নারী হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে এসে ভালো লাগছে, কারণগুলো লেখায় উল্লেখ করবো অবশ্যই, আশাকরি কিছু বন্ধু নিশ্চই লেখাটি পড়বেন।


Do you believe the proverb behind every successful man; there is a woman? Explain!
1000050516.jpg

অবশ্যই!
কথাটি আমি বিশ্বাস করি। তবে, সেই বিশ্বাসের পিছনে রয়েছে, মহাকাব্যের শিক্ষা তথা দৈনন্দিন শিক্ষার উদাহরণ।

প্রথমে নিজের বিশ্বাসের দৃষ্টান্ত হিসেবে দৈনন্দিন জীবনের একটি বিষয় তুলে ধরতে চাইবো।
শৈশবের সকলের জীবনের একজন সবচাইতে বড় উৎসাহের মাধ্যম হলেন,

মা

যিনি একজন নারীর প্রতীকী এবং তার হাতে প্রথম আকার পেয়ে থাকে শিশুরা।

কাজেই, সেই শিক্ষার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ভবিষ্যত সফলতার ভিত্তি স্তম্ভ সেটা অস্বীকারের জায়গা বোধহয় আমাদের কারোর নেই।

তাহলে, সফলতার ভিত সৃষ্টির কারিগর একজন নারী, এটা আশাকরি কেউ অস্বীকার করবেন না? আবার কেউ বিষয়টিতে দ্বিমত পোষন করতেই পারেন, তবে সেটা মন্তব্যে যুক্তিযুক্ত কারণ দেখিয়ে অথবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে করবেন।

এরপর, আসবো পুরাণের কাহিনীতে, যেখানে সমস্ত দেবকুল মহিষাসুরকে বধ করতে অসমর্থ হয়ে মা দুর্গাকে আহ্বান জানান এবং তার হাতেই অসুর নিধন হয়েছিল।

আজকের এই শিবরাত্রি পালিত হয় ভালোবাসার একটি জুটি শিব পার্বতীর বিবাহ দিবস রূপে, এবং হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয়, শিব ঠাকুর খুব সহজেই ভক্তের ইচ্ছে পূরণ করেন যদি একটু মন থেকে স্মরণ করা যায়।

আর কুমারী মেয়েরা শিবের ন্যায় জীবনসঙ্গী পেতে আজকে উপোষ করে থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো কেনো?

কারণ, মহাদেবকে সতীর (পার্বতীর পূর্বজন্মের নাম)পিতা(দক্ষ)জামাই হিসেবে মেনে নিতে পারেন নি, কারণ রাজকন্যার মেয়েকে মহাদেবের মত একজন সর্বত্যাগী মানুষের হাতে তুলে দিতে নারাজ ছিলেন, তবে সতী কিছুতেই শিবকে ছাড়া কাউকে বিবাহ করতে রাজি ছিলেন না!

ইচ্ছে করে সকলকে নিমন্ত্রণ জানালেও রাজা দক্ষ শিবকে নিমন্ত্রণ করেননি কন্যা সতীর সয়ম্বরে!

তবে কন্যা মহাদেবকে বিবাহ করলেও জামাতাকে একটি যজ্ঞের আয়োজনে অপমানিত হতে দেখে স্ত্রী সতী সহ্য করতে না পেরে সেই অগ্নিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

এরপর আরো অনেক কাহিনী আছে, শান্ত শিবের রুদ্র রূপের কাহিনী।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভালোবাসা যেখানে, স্ত্রী তাঁর স্বামীর অপমান মেনে না নিয়ে দেহত্যাগ করেন! ওপর দিকে স্বামীর স্ত্রীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য করে ত্রিলোক কাপিয়ে তুলেছিলেন!

সবটাই বোঝায়, একটি পুরুষ শিক্ষিত হলে সংসার চলে, তবে একটি নারীর শিক্ষায় শিক্ষিত হয় গোটা সমাজ।



How can we remain balanced in our relationship?
1000050319.jpg
1000050320.jpg
আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর - একজন সফল যোগ্য মহিলা।

যোগ্য সম্মান!
একটা সম্পর্কের ভারসাম্যের অধিক টাই নির্ভর করে উভয় এর প্রতি উভয়ের যোগ্য সম্মানের নিরিখে।

সামাজিক উন্নয়ন তথা সময়ের বিবর্তনের সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও এখনো অনেক মানুষের মানসিকতার উন্নয়ন সম্ভব হয়নি।

তাই আজও নারীরা কলুষিত হন ঘরে ঘরে, কখনও শারীরিক ভাবে আবার কখনও মানসিক ভাবে!

যারা শৈশব থেকে জীবনের পাঠ পড়িয়ে গড়ে তুলেছেন, তারাই যোগ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত! এটা সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বিষয়।

দিন হোক অথবা রাত নারী সুরক্ষায় পিছিয়ে বহু দেশ! এটা দুর্ভাগ্যজনক!
সম্পর্কের ভারসাম্য হারিয়ে যাবার আরেকটি কারণ সম্মানের পরে রয়েছে বিশ্বাসের ভিত নড়ে যাওয়া!

পড়তে গিয়ে অনেকের হয়তো অবাক লাগতে পারে, তবে একটি সম্পর্কের মুল দুটি স্তম্ভের একটি যোগ্য সম্মান হলে অপরটি হলো যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাসকে অক্ষুন্ন রাখা।
এখন, বেশিরভাগ সম্পর্কেই যেটি প্রায় বিলীন!

এরপর হলো অধিকার! বাক স্বাধীনতার সমানাধিকার অধিকার, স্বপ্ন পূরণের সমানাধিকার, একটি নিজস্ব সত্ত্বার নিজের মতো করে বাঁচতে দেবার অধিকার, সবটাই মনে হয় একটি সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রয়োজনীয়।



Do you think in the modern era, men and women should get equal respect, opportunity and recognition everywhere? Share your viewpoint.
1000028549.jpg

কেবলমাত্র আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে নয়, প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ বহু যুগ আগে থেকেই এটা বুঝেছিলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে, সমাজ তথা দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে হলে নারী পুরুষ নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।

প্রথম ভারতীয় মহিলা ইঞ্জিনিয়ার আয়ালসোমায়াজুল ললিতা যার জন্ম ১৯১৯ সালে, আপনারা চাইলে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নিতে পারেন।

যদি সেই সময় তার ঘরের শিক্ষা গতানুগতিক ধারাবাহিকতার বাইরে গিয়ে তাকে এই লেখাপড়ার সুযোগ করে না দিতো তাহলে ব্যতিক্রমী বিষয়(সময়ের প্রেক্ষাপটে দাড়িয়ে) নিয়ে তার এগিয়ে যাওয়া কি সম্ভব হতো?

এরকম বহু উদাহরণ বিশ্বের সর্বত্রই রয়েছে। যারা উন্নত মানসিকতায় বড় হয়েছেন, তারা লিঙ্গ বৈষম্যে বিশ্বাসী নন, তারা কন্যা সন্তানের জন্মলগ্ন থেকে তার বিবাহের যৌতুক গোছানোয় বিশ্বাসী নন!

তারা মানুষ পরিচয় দিয়ে তাদের সন্তানকে বড় করেন, এবং এই শিক্ষা দিয়ে যান তোমার যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করে যেতে হবে সমাজে এমন কিছু যেটি ভবিষ্যত প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে।

কারণ, সেই ঘরোয়া শিক্ষায় আমার বলে কিছু থাকে না, সেখানে শেখানো হয়, তুমি যা কিছু পেয়েছো সবটাই এই পৃথিবী থেকে, তাই এটা মানুষ হিসেবে দায়িত্ব যাবার আগে সমাজে তার বেশ খানিক ফিরিয়ে দিয়ে যাওয়া।

পূর্বেই উল্লেখিত, তাই আর পুনরাবৃত্তি করছি না, আমি অবশ্যই মনে করি *একটি সুস্থ্য সমাজ গড়তে নারী পুরুষ সকলের সমানাধিকার পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং যোগ্য সম্মান তো প্রত্যেকের অধিকার।

কেউ দিলে ভালো, নইলে ছিনিয়ে নেওয়া উচিত, কিছু ক্ষেত্রে তো প্রতিবাদী হতে হবে, বিশেষ করে যেখানে আত্মসম্মান তথা আত্ম মর্যাদার প্রশ্ন আসবে।

এই ছিল প্রতিযোগিতার বিষয়ে নিজের অভিমত।
সম্মান দিলেই সম্মান অর্জন করা যায়, এই শিক্ষা ভুলে গেলে চলবে না।

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
 2 days ago 

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট, যেখানে আপনি নারীর গুরুত্ব এবং সমানাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আপনি যে নারীদের শক্তি এবং সমাজে তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন আমাদের সাথে, সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নারীর জন্য সমান সুযোগ এবং সম্মান দরকার, যেমনটা আপনি বলেছেন আপনার পোস্টটি আমি আপনার কথায় একমত পোষণ করি দিদি। একটি নারী পুরো সমাজটাকে পরিবর্তন করতে পারে।
আমি মনে করি,আমরা যদি নারীদের যথাযথ সম্মান না দিই, সমাজ কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে না। আপনাকে অভিনন্দন জানাই দিদি, এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য। আপনি খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। নারীদের যথাযথ সম্মান এবং সমান সুযোগ প্রদান সমাজের সুষ্ঠু এবং উন্নত দিকে অগ্রসর হবে।

Loading...
Loading...

El rol de las mujeres es muy importante tanto dentro del hogar como fuera de este. Ellas son las escultoras de las sociedades. Me encantó leerte. Suerte.

 20 hours ago 

আপনার সাথে আমিও সহমত পোষণ করছি। একজন সফল মানুষের পেছনে একজন নারীর ভূমিকা অপরিসীম। ছোটবেলা থেকেই তো আমরা একজন মায়ের কাছ থেকে নিজেদের প্রথম শিক্ষাটা পেয়ে থাকি। তাই আমার মনে হয় সফলতার প্রথম ধাপ একজন নারীর মাধ্যমেই প্রথম আমরা অতিক্রম করতে পারি, সেটা একটা মেয়ে হোক কিংবা একটা ছেলে।

যত হোক না কেন প্রতিটা মানুষের পেছনে একজন নারীর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা। অনেকেই হয়তো বা দ্বিমত পোষণ করতে পারে। তবে আমি আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি আপনি আপনাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফল মহিলার কথা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। তার যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। এখানে দ্বিমত পোষণ করার কোন জায়গা নেই।

এটা আপনি ঠিক বলেছেন বহু বছর আগে থেকেই অনেকেই বুঝতে পেরে গেছে, এই পৃথিবী তথা এই সমাজকে উন্নত করার জন্য দুই জনের ভূমিকা অপরিসীম। এজন্যই হয়তোবা কেউ একজন বলেছিল আমার নাম মনে নেই, এ পৃথিবীতে যতটুকু উন্নত হয়েছে অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। অর্থাৎ যত কিছুই আজ পর্যন্ত এই সমাজ কিংবা এই দেশে উন্নতি হয়েছে। সবটাই কিন্তু নারী এবং পুরুষের অবদান। অসংখ্য ধন্যবাদ প্রতিযোগিতার প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য। ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.15
TRX 0.23
JST 0.032
BTC 84310.81
ETH 2218.39
USDT 1.00
SBD 0.65