একটি ইউটিউব স্টুডিও বানাতে হলে কি কি লাগবে ??
আপনি যদি আপনার ইউটিউব ভিডিও বানানোর জন্য একটা ইউটিউব স্টুডিও তৈরি করতে চান তাহলে কি কি লাগবে তা আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা শেয়ার করব ,
ক্যামেরা : একটা ইউটিউব স্টুডিও বানানোর ক্ষেত্রে সবথেকে প্রথম লাগবে হলো আমাদের একটা ক্যামেরা , প্রথম অবস্থায় আমি ক্যামেরা কেনার কথা বলবো না তার কারণ হলো যে সব মানুষেরই বাজেট কম থাকে প্রথম অবস্থায় , ক্যামেরার বদলে আপনি আপনার স্মার্টফোনটি ও কিন্তু ব্যবহার করতে পারেন , তবে অবশ্যই ভালো মানের একটা স্মার্টফোন হতে হবে কিন্তু , যখন আস্তে-আস্তে আপনার ইউটিউব চ্যানেল গ্রো করবে পরবর্তীতে আপনি একটা ভালো ক্যামেরা কিনে নিতে পারবেন , এবং আমি নিজেও এভাবেই করেছিলাম আমি প্রথমে মোবাইল দিয়ে শুট করতাম এবং তারপর যখন আমার ইউটিউব চ্যানেল একটু একটু করে গো করা শুরু করলো , আমি ক্যামেরা কিনেছিলাম |
লাইটিং : একটা ইউটিউব স্টুডিও বানানোর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আরো একটা বিষয় হলো লাইটিং , যদি লাইটিং ভালো না হয় তাহলে কিন্তু আপনার ভিডিও কোয়ালিটি কখনোই ভালো হবে না , তবে প্রথম অবস্থায় আমি বলবো ছোটখাটো কিছু লাইট হলেই চলবে , কারণ খুব বেশি প্রফেশনাল লাইট কিনতে গেলে আপনার অনেক টাকা চলে যাবে , তাই সব থেকে ভালো হয় প্রথম অবস্থায় আপনি দুই অথবা 5000 টাকা দিয়ে রিং লাইট কিনতে পারেন , এই রিং লাইট দিয়ে আপনার মোটামুটি সব কাজ চলে যাবে , তবে 3 মাস 6 মাস কাজ করার পর আপনার কাছে মনে হবে রিং লাইট যথেষ্ট নয় তখন আপনি অবশ্যই প্রফেশনাল লাইট কিনবেন | আমিও প্রথমে 6000 টাকা দিয়ে দুইটি রিং লাইট কিনেছিলাম এবং তারপরে এখন আমি অনেক প্রফেশনাল লাইট ব্যবহার করি |
টেবিল চেয়ার : প্রথম অবস্থায় আমি টেবিল বা চেয়ার কেনার কোন রকম সাজেশন দিব না , কারণ ইউটিউব এ শুরু করার আগে যদি আপনি অনেক বেশি টাকা ইনভেস্ট করেন আর ইউটিউব এর সফলতা না পান তখন আপনি হতাশ হয়ে যাবেন , আমরা চেষ্টা করব যত কম বাজেট দিয়ে আমরা ইউটিউব স্টুডিও টা তৈরি করতে পারি প্রথম অবস্থায় , তাই আপনার বাসা বাড়িতে ব্যবহার করা যে টেবিল আছে বা চেয়ার আছে আপনি সেটা দিয়েই প্রথমে শুরু করুন
মাইক্রোফোন : ভিডিও তৈরি করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিডিওর অডিও , আর অডিও ভালো করার জন্য আমরা ছোট্ট একটা মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারি , এখানেও বলবো যে খুব বেশি দামি মাইক্রোফোন এর দরকার নাই মার্কেটে 1000 টাকা হলেই অনেক ভালো ভালো মাইক্রোফোন কিনতে পাওয়া যায় | আমিও এমনটাই করেছিলাম আমি যখন ইউটিউব ভিডিও বানানো শুরু করেছিলাম আমি 1000 টাকা দামের একটা মাইক্রোফোন ব্যবহার করতাম , তবে এখন কিন্তু আমি 26 হাজার টাকা দামের একটা মাইক্রোফোন ব্যবহার করি |
এই ছোট্ট ছোট্ট চারটা বিষয় যদি আপনি একটু মাথায় রেখে ইউটিউব স্টুডিও বানান তাহলে আপনি খুব সিম্পল এবং অল্প বাজেটের মধ্যে একটি ইউটিউব স্টুডিও বানাতে পারবেন , এবং সময়ের সাথে সাথে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেল গ্রো করবে আপনার ইনকাম বাড়বে তখন আপনি একটু একটু করে ইউটিউব স্টুডিওর পিছনে ইনভেস্ট করবেন , যেমন যদি একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই আমি যখন ইউটিউব স্টুডিও বানিয়েছিলাম প্রথমে তখন আমি মাত্র 5000 টাকা ইনভেস্ট করেছিলাম , আর এখন আমি যে ইউটিউব স্টুডিও টা ব্যবহার করি এটার পিছনে কম করে হলেও প্রায় 10 লক্ষ টাকা আমার ইনভেস্টমেন্ট আছে , আর তাই বারবার বলছি কম ইনভেসমেন্ট নিয়ে শুরু করা যায় ততই ভালো |
পোস্টটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই অবশ্যই একটু কমেন্ট করে জানাবেন , ধন্যবাদ