আত্মকথা
বাবা এসেছিলেন দেখতে
গত দুদিন হলো মোটরবাইক এক্সিডেন্ট করেছি,খুব আহামরি তেমন কোন শারীরিক ক্ষতি হয়নি। তবে স্থানীয় মানুষের মানসিকতা দেখে, মনটা কিছুটা তিক্ততায় ভরে গিয়েছে। নিজের আত্মকথা খুব একটা বেশি বলতে ইচ্ছে করে না, তারপরেও আজ কিছুটা লিখতে বাধ্য হচ্ছি।
বাবা-মা উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত আছেন, সম্ভবত আর বছরখানেক পরেই তারা অবসরে চলে যাবেন। আমার নিজের জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠা মফস্বল শহরের প্রাণ কেন্দ্রতেই। তবে পড়াশোনার তাগিদে মোটামুটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করতে হয়েছে। বিদ্যে-বুদ্ধি ঝুলিতে বেশ কম, তারপরেও দীর্ঘ সাত বছরের অধিক সময় মেডিকেল প্রফেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।
স্বেচ্ছায় প্রফেশন ইস্তফা দিয়েছি, ভালো লাগতোনা তাই । আমার আসলে যান্ত্রিক জীবনের থেকে, ধীর গতির নিরিবিলি জীবন বহু আগে থেকেই বেশ টানতো। একটা সময়ের পরে তো মনস্থির করেছিলাম গ্রামেই আবাসস্থল গড়ে তুলব। মনস্থির করা চিন্তাভাবনা অবশ্য বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বহুদিন হলো গ্রামেই আছি।
গ্রামীণ জীবনটা আর যাইহোক শহরের মতো গতিশীল না, তাই হয়তো সহজেই মানিয়ে নিতে পেরেছি। এইতো প্রতিনিয়ত বই পড়া, ইন্টারনেটে টুকটাক লেখালেখি আর জমিজমা সংক্রান্ত কাজ করে দিব্যি দিন চলে যাচ্ছে।
যেহেতু প্রতিবাদী সত্তা নিজের ভিতরে লালিত করি ও পরিবর্তনে ভীষণ বিশ্বাসী, তাই মোটামুটি অনেকের সঙ্গেই মতের অমিল থাকে। সেটা শহরে থাকতেও হয়েছিল কিংবা বর্তমানে গ্রামে যেখানে আছি সেখানেও হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়েও লেখালেখির কারণে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল। তাছাড়া স্থানীয় গ্রামীণ যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার জন্য সচেতন মূলক কার্যকলাপ প্রতিনিয়ত করেই যাচ্ছি, যদিও ব্যাপারটা বেশ কষ্টসাধ্য। তারপরেও প্রশাসনের সহযোগিতায় কয়েকটা সফল অভিযান চলানো হয়েছে, তবে প্রকৃতপক্ষে মাদকের জাল সমাজে আষ্টেপৃষ্ঠে ছড়িয়ে গিয়েছে।
যেখানটাতে থাকি সেখানকার গ্রামীণ রাস্তার অবস্থাও বেশ নাজুক। যদিও রাস্তা পাকাকরণের জন্য, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকটে চিঠি দিয়েছি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করার চেষ্টা করেই যাচ্ছি , তাছাড়া নিজের ইচ্ছা আছে ব্যক্তি উদ্যোগে উন্মুক্ত পাঠাগার বানানোর এবং স্থানীয় গ্রামীণ তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিগত দিকে অগ্রশীল করানোর, এজন্য অবশ্য টুকটাক কাজ চলমান আছেই ।
তবে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে যদি বলতেই হয় তাহলে বলবো, আমার এহেন কর্মকাণ্ডে দূরের শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পাচ্ছি বেশ ভালোভাবে। তবে ওই যে লেখার শুরুতেই বললাম, তিক্ততায় মনটা ভরে গিয়েছে , তার প্রধান কারণ স্থানীয় মধ্যবয়স্ক গ্রামবাসীর অনেকের চোখে আমি বিষ হয়ে গিয়েছি, এজন্য আমার এক্সিডেন্টের খবর শোনা মাত্রই, অনায়াসেই তারা বলে ফেলেছে, হাত-পা ভাঙলে ভালো হতো তারথেকেও বেশি ভালো হতো যদি চিরতরে বিদায় নিত।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

VOTE @bangla.witness as witness

OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার উদ্যোগ গুলো মহত, তবে সেটা সবার ভালো লাগবে না। যারা মূর্খ, অন্ধ, নেশাখোর তারা আপনার কাজের বাধা দিবে, বদদোয়া দিবে। তাই বলে আপনি পিছবা হবেন না। সৎ পথে থাকলে প্রথমে সমালোচনা করবে, পরে আপনার পথ অনুসরণ করবে। ধন্যবাদ।
আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই।
ভাই বর্তমান যুগে যারা অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চায় এবং ন্যায়ের পথে চলতে চায়,তারা বেশিরভাগ মানুষের চোখেই বিষ হয়ে যায়। আপনার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। তবে যে যা-ই বলুক না কেনো,অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ভাই।
সহমত পোষণ করছি ভাই।
কি একটা অবস্থা। মানুষ গুলো এখন অন্যায়ের সাথেই আষ্টেপৃষ্টে থাকতে পছন্দ করে।ভালো উদ্যোগে কম মানুষ ই পাশে পাওয়া যায়। আপনার মতো মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম।কিন্তু আছে বলেই এখনো যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা কিছু মানুষ কে দেখি।চলমান থাকুক ভালো কাজের পক্ষে। একদিন আসবে যখন সবাই তাদের ভুল গুলো বুঝতে পারবে।
চারিদিকে বড্ড বিষবাষ্প ছড়িয়ে গিয়েছে, যার কারণে উল্টাপাল্টা কথা শুনতে হচ্ছে।
সমাজটা এখন বিষাক্ততায় ভরে গিয়েছে। তাই তো ভালো কোন কাজের দাম নেই। ভালো কাজ করলেই সবার গা জ্বলে ওঠে। আর এজন্যই মূলত আপনার এক্সিডেন্টের কথা শুনেও সবাই এরকম কথা বলতে পারলো। যাইহোক আপনার অসুস্থতায় আপনার বাবা দেখতে এসেছে এ বিষয়টা দেখে ভালো লাগছে।
বাবা অনেকটা দিন পরে দেখতে এসেছিল, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও সময়টা ভালোই কেটেছিল আমাদের।
বাবা-মায়ের সাথে সময় গুলো খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায়।
একটাই কথা বলব আপনাকে লোকের কথায় কান দেবেন না লোক এরকম বলবেই। কারণ বর্তমান সভ্যতায় মানুষ কেবলমাত্র আজকের দিনটির কথা ভাবে কাল কি হবে সেসব নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভাবনা তো অনেক দুরস্ত৷ যারা চিরকালই সমাজ কল্যাণের জন্য নিজেদের সময় ব্যয় করেছে এবং কাজ করে গেছে তাদের এরকম অনেক শাপশাপান্ত পেতে হয়েছে। এসব নিয়ে ভাববেন না আপনি একটি ভাল কাজ করছেন সেই দিকে এগিয়ে যান।
অনুপ্রাণিত হলাম, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।