আমাদের বাড়ি।
সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব এবং অগ্রীম ঈদের শুভেচ্ছা।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি,সুস্থ আছি।
বাড়ি আমাদের পরম আশ্রয়স্থল। জন্মের পর থেকে শুরু করে একজন মানুষ তার বাড়িতে অবস্থান করে থাকে। একটি বাড়ির সাথে তাই জড়িয়ে থাকে ছোট বড় নানাধরণের স্মৃতি।মিষ্টি, মধুর, তিক্ত সবরকম স্মৃতির ভার বহন করেই মানুষ একটি বাড়িতে পরিবারের সকলের সাথে বসবাস করে থাকে।
পারিবারিক বন্ধন মানেটা আসলে কী? এর মানে হলো, পরিবারের কাছ থেকে আপনি যতটাই দূরে পালান, দড়ির বাঁধন কাটিয়ে আপনি বেশি দূর যেতে পারবেন না! তাই বার বার ফিরে আসতেই হয় সেই নিজের আশ্রয়স্থল বাড়িতেই।
আজ প্রায় একসপ্তাহ হলো আমাদের বাড়িতে এসেছি ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য।নিজের বাসায় সংসার সামলানো বাচ্চাদের পড়াশোনা এসব নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকার কারনে অনেক সময় হাঁপিয়ে উঠি,তখন একটু প্রশান্তির জন্য ছুটে চলে আসি বাড়িতে কয়টা দিন নিশ্চিন্তে থাকবো বলে।স্কুল অনেকদিন আগেই বন্ধ দিয়েছে কিন্তু কোচিং,প্রাইভেট এগুলোর কথা চিন্তা করে একটু দেরিতে আসা হয়েছে।আসার পর দেখি গ্রামে এতটাই গরম আর নেটওয়ার্ক এর সমস্যা তা বলে বোঝানো সম্ভব না।তারপরও কেমন জানি একটা শান্তি অনুভব হয়।
আগে একটা সময় আমরা সবাই একই বাড়িতে বসবাস করতাম।কর্তামা,বাবা-মা,কাকা-কাকিমা,ভাই-বোন সবাই মিলে অনেক সদস্য ছিলাম আমরা। একসাথে বসে খাওয়া গল্প,আড্ডা অনেক মজা করে দিন পার করেছিলাম।কিন্তু এখন আর সেই মজা পাওয়া যায় না তার কারন হলো এখন আমাদের তিনটা বাড়ি হয়েছে।আমার দাদারা বিয়ে করেছে,কাকাদের ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে,আমাদের বাচ্চারা আছে সবমিলিয়ে এক বাড়িতে থাকাটা অনেকটাই কষ্টদায়ক হয়ে গেছিলো। তাই বাড়ি আলাদা করাটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিলো।
এই বাড়িতে আমার জন্ম,বড় হওয়া,বিয়ে জীবনের অনেক গুলো সময় পার করা।এখন বড় কাকা,ছোট কাকা থাকেন।বড় কাকা রংপুর এ বাড়ি করেছেন সেখানেই থাকেন,মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসেন।
অনেক গুলো একসাথে সবাই কাটিয়েছি তাই আলাদা বাড়িতে থাকাটা একটু খারাপ লাগার মতো বিষয় হয়।
কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে একটা সময় গিয়ে আলাদা হতেই হয় এটা মেনে নিতেই হবে,কারন এটাই বাস্তবতা।আমাদের বাড়ি কিছুদিন আগেই আলাদা হয়েছে,কিন্তু আমরা এখনো সবাই আগের মতোই আছি।যেকোনো পূজাপার্বণ,বিয়ে অনুষ্ঠানে আমরা সবাই আগের মতোই একত্রে খাওয়াদাওয়া গল্প আড্ডা আনন্দ করেই দিন পার করি।এখন অবশ্য একটা জিনিস ভালো হয়েছে তা হলো সারাদিন এবাড়ি,ওবাড়ি খাওয়া চলতেই থাকে।😁
এটা হলো আমার দাদারা কিছুদিন আগে আলাদা বাড়ি করেছে,যেখানে আমার বড় দাদা,বউদি থাকে।আর দুই দাদা চাকরির সুবাদে বাইরে থাকে,মাঝে মধ্যে ছুটি কাটানোর জন্য আসে।
এটা হলো মেজো কাকার নতুন বাড়ি।উনিও কিছুদিন আগেই এই বাড়িতে উঠেছেন।
আমাদের বাড়ির মা-দূর্গা মন্দির,লোকনাথ বাবার মন্দির।কত বছর আগে থেকে আমাদের বাড়িতে দূর্গা পূজা হয় তার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই।তবে লোকনাথ বাবার মন্দির বছর কয়েক আগে করা হয়েছে।
আমাদের বাড়ির আরও অন্যান্য যাকিছু আছে তা আরেকদিন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আজ এখানেই শেষ করতে হচ্ছে, তার কারন হলো আমাদের বাড়িতে একদম নেটওয়ার্ক পায় না।অনেক সময় ধরে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পোস্ট লিখছি তাই আর বেশি সময় থাকতে পারছি না। সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এই প্রার্থনা করি।
OR
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 7/8) Get profit votes with @tipU :)
ঠিক বলেছেন আপু গ্রামের বাড়িতে গেলে সবার বাড়িতে যেমন বেড়ানো হয় তেমনি খাওয়া-দাওয়া হয়। আসলে আমরা কর্মের জন্য কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে সবাই হয়তো নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও থাকি। মাঝে মাঝে যদি নিজের গ্রামের বাড়িতে সময় কাটানো যায় তাহলে সত্যিই অনেক ভালো লাগে।
জ্বি আপু গ্রামের বাড়িতে আসলে সবদিক থেকেই অনেক ভালো হয়।নিজের বাড়িতে থাকার শান্তি আর কোথাও নেই।অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
বাড়ি হলো প্রধান আশ্রয়স্থল দিদি ৷ মনে হয় দীর্ঘদিন পর গ্রামের বাড়ি আসলেন ৷ আসলে গ্রামের বাড়ি মানেই হলো গোটা একটা পরিবার ৷ মা,বাবা ,কাকা,কাকি কিংবা আরো অনেক জন ৷ তাদের সবার সাথে এক ছাদে বাস করা সত্যি অনেক ভালো লাগে ৷ কিন্তু জীবন জীবিকা তাগিদে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয় ৷ তবে পূজা-পার্বন বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আবার একত্রিত সত্যি এটাই জীবন ৷ আসলে দিনশেষ পরিবার পরিজন জীবনের অংশ ৷ ভালো লাগলো ব্লগটি পড়ে ৷
ঠিক বলেছো ভাই,দিন শেষে পরিবার পরিজন জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে থাকে।সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।
বাড়ির সাথে নিজেদের একটা আলাদা টান থাকে যতই দূরে থাকুক না কেন সেই টান সারা জীবন থেকে যায়।একান্নবর্তী পরিবার গুলোর চেয়ে যৌথ পরিবার গুলোতে অনেক সুন্দর সময় কাটে সবাই মিলে। গ্রামে যেয়ে তো অনেক সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন অনেক ভালো লাগলো শুনে।
জ্বি আপু আমরা যতদূরেই থাকি না কেনো কিন্তু বাড়ির প্রতি আমাদের অন্যরকম একটা টান থাকে।যৌথ পরিবারে বসবাস করা সত্যি অনেক আনন্দের। ধন্যবাদ আপু।
যে জায়গাতে আমরা বেড়ে উঠেছি ,আমাদের শৈশব কৈশোর যেখানে পরিণত হয়েছে সেখানে যতবারই ফিরে যাওয়া যাবে ততবারই প্রশান্তির দেখা পাওয়া যাবে বড়দি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বড় পরিবার গুলো দিনকে দিন ছোট পরিবার হয়ে গেছে। আমি নিজেও এমন একজন ভোক্তাভোগী। ভীষন মনে পড়ে সেই দিন গুলোর কথা। কত ভালো সময় ছিল! যাই হোক তবে বাড়িতে ভগবানের মন্দিরে দেখে ভীষণ তৃপ্তি পেলাম বড়দি। ঈশ্বর আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুক এটাই প্রার্থনা 🙏🙏🙏
হ্যাঁ ছোড়দা যেখানে আমাদের জীবনের অনেক গুলো সময় পার করে আসি সেখানে ফিরে আসলে অনেক প্রশান্তি অনুভব হয়।আগে প্রায় প্রতিটি পরিবার যৌথভাবে দেখা যেতো কিন্তু এখনকার দিনে কেউ আর যৌথ থাকতে চায় না এটা হলো সবচেয়ে বড় সমস্যা।হ্যাঁ ছোড়দা আমাদের বাড়িতে ভগবানের মন্দির আছে এবং আমাদের বাড়িতে বারো মাসে তেরো পূজা হয়ে থাকে।অনেক অনেক ধন্যবাদ।ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুক এই প্রার্থনা করি ছোড়দা।🙏🙏❤️
❤️❤️ 🙏🙏🙏🙏।