খেজুর গুড়ের রাজ্য, রাজশাহীর বাঘা। ১০% @btm-school
রাজশাহীর বাঘা, দুর্গাপুর উপজেলায় শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে খেজুর গুড় উৎপাদনের ব্যস্ততা। আমি ২০২০ সালে ফ্রেশ খেজুর গুড় কিনবো বলে গিয়েছিলাম, আমার এক ছোট ভাইয়ের বাসায় রাতে ছিলাম। কারণ সকালেই গুড় আর নালী তৈরির কাজে কৃষকরা লেগে পরে, রাতে না থাকলে, সকালের সেই অবস্থা দেখা যাবে না।
প্রচুর খেজুর গাছ সেখানে, রীতিমতো চাষ করছেন এখনকার অনেক মানুষজন, উপজেলার খেজুর গুড়ের খ্যাতি দেশজুড়ে। তাই বাঘাজুড়ে চলছে খেজুরের সমারোহ। উপজেলায় দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৩৮৯ কৃষি পরিবার রয়েছে।
খেজুর বাগান রয়েছে চার হাজার। এছাড়া সড়কপথ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনা মিলে দেড় লক্ষাধিক খেজুরগাছ আছে। এই রাজশাহী আমের জন্যও অনেক বিখ্যাত। একজন গাছি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার হাজার গাছি রস সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে। প্রতি মৌসুমে তারা খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। একেকজন কৃষক তাদের গাছের সংখ্যা অনুপাতে গাছি নিয়োগ করেন। তারা মৌসুমজুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকেন। উপজেলায় গুড়ের প্রধান হাট বাঘা ও আড়ানী হাট। প্রতি কেজি খেজুর গুড় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সেগুলো সব ফ্রেশ না, চিনি মেশানো থাকে। মৌসুমের একেবারে শুরুতে এ গুড়ের দাম প্রতি কেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতি বছরই মৌসুমের শুরুতে বেশি দামে গুড় বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কমে যায়। ফ্রেশ গুড় নিতে হলে অর্ডার দিতে হবে, নইলে ১০০% ভালো পাওয়া যাবে না। সকালে গুড় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হওয়ার আগে বাঘাতে একটা দর্শনীয় স্থান আছে, সেটা দেখতে গেলাম, আর সেটা হলো বাঘা মসজিদ।
সাবেক ৫০ টাকার নোটে বাঘা মসজিদের ছবি ছিলো, বর্তমান নোটে আর নেই।
ভ্রমণপিপাসুদের মন প্রায়ই ছুটে যেতে চায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কোনো-না-কোনো স্থানে, আমিও তার অন্যথা না। রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত ৫০০ বছরের সুবিশাল দীঘি ও ঐতিহাসিক বাঘা শাহী মসজিদ। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় নিলে বাঘা হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সরকার প্রতি বছর এখান থেকে অনেক টাকার রাজস্বও পেতে পারে।
রাজশাহী মহানগরী থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে উপজেলা সদরে অবস্থিত প্রাচীন এই নিদর্শন। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দীন হুসাইন শাহের ছেলে নাসির উদ্দীন নসরত শাহ হিজরি ৯৩০ বাঘা শাহী মসজিদ নির্মাণের সময় জনকল্যাণার্থে দীঘি খনন করেন। ৫২ বিঘা জমি জুড়ে দর্শনীয় বিখ্যাত সুবিশাল দীঘি ও ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক বাঘা শাহী মসজিদ। দীঘির ছবিটি কুয়াশার জন্য তুলেতে পারিনি।
ভালো থাকবেন এবং সুস্থ্য থাকবেন।
খুবই চমৎকার হয়েছে আপনার পোস্ট টা অনিক।
বহু বছর পর খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে গুড় হতে দেখলাম।
পোস্টটি অসাধারন হয়েছে
আপনার এই গল্প দেখে আমার যে এমন একটা গল্প ছিল সেটা মনে পরে গেল দাদা
বলে ফেলেন, নিশ্চয়ই খুব মজার হবে।
হাঁ বলব অনেক মজার ছিল। ছবি গুলো কালেক্ট করে পোস্ট দিব
খেজুরের রস অনেক উপকারী। কিন্তু নির্ভেজাল রস এখন পাওয়া বড় দায়।
হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।
পোস্টটি অসাধারন হয়েছে
ভাইজান আমাদের ও খেজুর গাছ আছে এবং খেজুরের রস হয় আমরা রস থেকে গুড় বানাই
কোনো একদিন মন চাইলে আমাদের এই দিকে ঘুরতে আসতে পারেন >
দাওয়াত রইলো
বাহ, খুব ভালো। অবশ্যই চেষ্টা করবো, কোথায় করেন গুড় তৈরির কাজ?
আমাদের বাসাই তৈরি করা হয় ভাইজান
কবে আসবেন বলেন