রামকৃষ্ণ মিশনের জন্মাষ্টমীতে
নমস্কার বন্ধুরা,
সবাই কেমন আছেন? আশা করছি ঈশ্বরের কৃপায় আপনারা সকলে সুস্থ। আপনাদের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসায় আমি ভালো আছি। প্রতি বছরের জন্মাষ্টমীর দিনটা আমার ভালো কাটে। যদিও প্রতি বছরের তুলনায় এবছরের জন্মাষ্টমী একটু আলাদা ছিলো তার কারণ এ বছরের জন্মাষ্টমী দুদিনের, ১৮ ই আগস্ট ও ১৯ শে আগস্ট।
জন্মাষ্টমীর দিন তাই সকাল সকালই উঠে পড়েছিলাম। আসলে বেশ কিছু মন্দিরে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে যাওয়ার নিমন্ত্রণ ছিলো। যদিও শেষ পর্যন্ত সব মন্দিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি তবুও রামকৃষ্ণ মিশনের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে যাওয়া আগে থেকেই একপ্রকার নিশ্চিত ছিলো। প্রতি বছরেই রামকৃষ্ণ মিশন থেকে বিশেষ দিন গুলোতে নিমন্ত্রন আসে, এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রামকৃষ্ণ মিশন থেকে দুপুরে প্রসাদ গ্রহণের নিমন্ত্রণ ছিল।
মূলত সে জন্য দুপুরে হওয়ার আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। যদিও বাড়ি থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি চলে এলো। আদপে কদিন ধরে যেখানে বৃষ্টিপাতের ছিটে ফোঁটা পর্যন্ত ছিলো না সেখানে জন্মাষ্টমীর রাত থেকেই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সাধারণত জন্মাষ্টমীর দিন প্রতি বছরেই বৃষ্টি হয় আর সেটা এ বছরেও সমান ভাবে হলো।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। কি আর করা রাস্তার পাশের এক দাদার বাড়ির সানসেটের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। খানিকক্ষণ পরে বৃষ্টি কমে যেতে এক টোটোওয়ালাকে দেখে হাত দেখিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো। টোটোতে চড়তেই যেন পৌঁছে গেলাম রামকৃষ্ণ মিশনে।
যখন পৌঁছালাম ততক্ষণে জন্মাষ্টমীর পুজো প্রায় শেষের মুখে। মন্দিরের ভেতরটায় বেশ ভিড় ছিল সাথে কীর্তন চলছিল। ভেতরে জায়গা না পেয়ে খানিকক্ষণ বাইরে বসে কীর্তন শুনতে থাকলাম। মন্দিরের ভেতরের ছবি তোলা নিষিদ্ধ তাই বাইরে থেকেই রামকৃষ্ণ মিশনের মন্দির প্রাঙ্গণটি ছবি তুলে নিলাম।
পুজো শেষ হতেই প্রসাদ গ্রহণের ডাক চলে এলো। পাশেই একটা ঘরে সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা ছিল। বসে পড়লাম পাতা নিয়ে। ফলপ্রসাদ দিয়ে শুরু হলো। তারপর চাল কলা আর তালের বড়া। যেটা না থাকলে জন্মাষ্টমী অসম্পূর্ণ।
ফলমূল প্রসাদ গ্রহণ করার পর চলে এলো অন্ন ভোগের ব্যবস্থা। ভাত, ডাল, ছোলা দিয়েকচুর তরকারি, আলু পটলের রসা আর ছিল টেনিস পাপড়।
অন্ন প্রসাদের পর পায়েস আর চাটনি দিয়ে প্রসাদ সম্পন্ন হলো। প্রসাদ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ আরাম করে বেরিয়ে পড়া হলো পরের মন্দিরের উদ্দেশ্যে, সেটা পরের পর্বে।
আজকের মতো এখানেই বিদায়। আপনাদের সাথে দেখা হবে আবার, অন্য কোনো ব্লগে। সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিঃদ্রঃ - মন্দিরের ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ ছিলো তাই মন্দিরের ভেতরের ছবি দিতে পারিনি।

250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
সত্যি বলতে কি দাদা আপনাদের এ জাতীয় পোস্টগুলো পড়লে নতুন কিছু সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারি। আর এসব পোস্টগুলো আমার খুব ভালো লাগে নতুন কিছু জানতে পারার কারণে।
সব কিছু থেকেই নতুন কিছু জানা যায়, তাইনা? ধন্যবাদ
পোস্ট টা একটু দেরিতে করলেন দাদা। জন্মাষ্টমি তো বেশ কদিন আগে গেছে। প্রসাদগুলো বেশ বেশি দারুণ ছিল। আর যাইহোক পেট পুজোটা বেশ চমৎকার করেছেন হি হি। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
হ্যাঁ। দুদণ্ড বসে যে লিখবো তার সময় হচ্ছে নাম সময় পেলাম লিখে ফেললাম l।
দাদা আপনার এই পোস্টটি পড়ে জন্মাষ্টমী উৎসব সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। প্রসাদ গুলো দেখতে খুবই লোভনীয় মনে হচ্ছে। আর পুজো করার বিষয়টি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। এত সুন্দর ভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করার মজাই আলাদা। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের উপহার দেয়ার জন্য প্রিয় দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্রসাদ বরাবর ভালো হয়।
দাদা আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে দর্শন হলো রামকৃষ্ণ মিশনের চমৎকার একটি পোস্ট করেছেন আপনি। আগামী পোস্টগুলো দেখার অপেক্ষায় রইলাম। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
ভেতরের ছবি তোলা নিষেধ ছিল তাই ভেতরের ছবি দিইনি।
@kingporos দা তোমার লেখা গুলো সত্যিই খুব ভালো হয়। পড়লে মনে হয় নিজের সাথে ঘটছে ব্যাপার গুলো। খুব ভালো মানের লেখক তুমি।(মোটেই মন রক্ষা করার জন্য বলছি না).
এত খাবার খেলে তারপর শেষে আবার টেনিস পাপড় সেটাও খেলে। আবার অন্য মন্দিরে গিয়ে খাবে। এত খাবার রাখো কই তুমি। হে হে হে...
আমিও মাথা পেতে নিলাম। ধন্যবাদ 😁
সব জায়গায় অন্ন প্রসাদের নিমন্ত্রন ছিলো না যে। তাছাড়া আমি অল্প ই খেয়েছি 😝