দাদা আপনার কথা খুব মনে পড়ে
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
বুধবার, ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং
আমার দাদার মৃত্যুর প্রায় দুই বছর সম্পন্ন হয়ে গেল। এই দুই বছরে আমি আমার দাদা কে অনেক মিস করছি, দাদার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো অনেক বেশি মিস করি। আসলে অন্যান্য সব মানুষের দাদার থেকে আমার দাদা ছিলেন একদম ভিন্ন। দাদা তার বেশিরভাগ সময় আমার সাথে কাটিয়েছেন।আর আমার আমাকে ছোট বেলা থেকেই লালনপালন করে বড় করেছেন।আমি ছোট বেলা থেকেই আমার দাদা কে অনেক বেশি ভালোবাসতাম। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আমাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছিলেন আমার প্রিয় দাদা। আমাদের মধ্যে ছিল না কখনো কোন ধরনের দ্বন্দ্ব।আমি ছোট বেলা থেকেই দাদার সাথে বেড়ে উঠেছি।
আমাদের পরিবারের মধ্যে প্রায় ছয় জন সদস্য ছিল তখন।আমি, আমার মা বাবা, ভাই এবং আমার প্রিয় দাদা দাদী। তাদের কে নিয়ে আমাদের একটি সুখের সংসার ছিল। আমাদের মাঝে ছিল না কোন ধরনের হিংসা বিদ্বেষ।সব সময় আমরা মিলে মিশে থাকার চেষ্টা করতেন। আমরা সব সময় ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে চলছিলাম। আমার দাদা ছিল আমাদের পরিবারের একজন প্রধান। দাদার কথা মত আমাদের পরিবারের সকল ধরনের কাজ পরিচালনা হতো। যাইহোক, আমার দাদার বেশ কয়েকজন নাতি এবং নাতনি ছিল। আমার দাদার সব থেকে বেশি প্রিয় নাতি ছিলাম আমি।
ছোট বেলা থেকেই আমাকে সব সময় সাথে নিয়ে চলাফেরা করতেন আমার দাদা। যখন যা চেয়েছিলাম, তখন তা আমি পেয়েছি আমার দাদার থেকে। ছোট বেলায় একদিন আমার দাদার সাথে একজায়গায় ঘুরতে যাওয়ার সময় আমার দাদার সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙ্গে যায়। তখন আমার দাদা একদম নিজের সন্তানের মতো করে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করেছিলেন।আমি ছোট বেলা থেকেই আমার দাদা আমার বাবা মায়ের থেকে আমার প্রতি বেশি যত্নশীল ছিলেন। কখনো দাদা আমার আবদার অপূর্ণতা রেখেনি।সব সময় আমার আবদার গুলো পূরণ করার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রায় দুই বছর আগে আমার দাদা হঠাৎ মৃত্যু বরণ করেন। এই দিনটি ছিল আমার জন্য খুবই দুঃখের একটি দিন। যখন আমি আমার দাদার মৃত্যুর খবর শুনেছিলাম, তখন আমি বদরগঞ্জে একটি মেসের মধ্যে ছিলাম।আমি আমার দাদার মৃত্যুর কথা শুনার পর অনেক টা ভেঙে পড়ে যাই। কেননা, আমার দাদা আমার খুবই প্রিয় মানুষ ছিলেন।আমি ছোট বেলা থেকেই তাকে আমার সুখে দুঃখে পাশে পেয়েছিলাম।তার হঠাৎ মৃত্যু আমি মনে নিতে পারছিলাম না। মানুষ মৃত্যুবরণ করবেই, এটা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু আমি আমার দাদার মৃত্যু মেনে নিতে পারিনি।
আমার দাদা তার মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাকে অনেক গুলো উপদেশ দিয়েছিলেন।আমি বাস্তব জীবনে তার উপদেশ গুলো কাজে লাগিয়ে অনেক টা উপকার পেয়েছিলাম। আমার মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার দাদার উপদেশ গুলো মনে থাকবে।আমি সব সময় আমার দাদার উপদেশ গুলো বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। আপনারা সবাই আমার দাদার জন্য দোয়া ও আশির্বাদ করবেন।
সবাই কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Vote@bangla.witness as witness
https://x.com/Riyadx2P/status/1894715594890731621?t=SCbBw7ugawS6_fv6Hm8-bQ&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার দাদার মৃত্যুর দুই বছর হয়ে গেল। কিন্তু এমন একজন সঙ্গীকে আপনি হয়তো জীবনে কোনদিনই ভুলতে পারবেন না। তবু নিজের মনকে শক্ত করে এই ঘটনাকে মেনে তো নিতেই হবে ভাই। প্রকৃতিতে মানব জীবনে একমাত্র সত্য ঘটনা হলো মৃত্যু। তাই প্রত্যেক মানুষ জন্ম নিলে তাকে মরতে যে হবেই। দাদার স্মৃতিকে বুকে নিয়ে জীবনের সামনের দিকে এগিয়ে যান। তাঁর আশীর্বাদ আপনার সঙ্গে সব সময় থাকবে।
প্রিয় মানুষগুলো যখন জীবন থেকে হারিয়ে যায় তখন অনেক বেশি কষ্ট লাগে। আপনার আর আপনার দাদার মধ্যকার সম্পর্ক অনেক ভালো ছিল। মধুর ছিল সেজন্য আপনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন তার কথা মনে করে। আমিও আমার নানার কথা প্রায় সময়ই মনে করে থাকি। কারণ আমাদের সব সময় তিনি পাশে ছিলেন খুব আদর করতেন। এই মুহূর্তগুলো আসলে কখনো ভোলার নয়। মানুষ চলে গেলেও তার স্মৃতিগুলো সব সময় আমাদের সাথে থেকে যায়।
প্রিয় মানুষগুলো আমাদের ছেড়ে চলে গেলে তাদের বিয়োগ যন্ত্রণা আমরা কখনোই ভুলতে পারিনা। আপনি এখানে দাদা বলতে সম্ভবত আপনার দাদুর কথা বলেছেন। ছবি দেখে সেটুকুই বোধগম্য হল। দাদুরা তো এরকমই হয়। নাতি-নাতনিদের সব সময় কোলে পিঠে করে মানুষ করেন আসলে দাদা দাদিদের কাছে নাতি নাতিরা হল সুদ। সন্তানের সন্তান কে কোলে নেওয়ার আনন্দই আলাদা। আপনি যেমন আপনার দাদার সাথে জুড়ে ছিলেন আমিও তেমনি আমার দাদির সাথে জুড়ে ছিলাম। আপনার মত আমারও খুব মনে পড়ে দাদীর কথা।
আপনার দাদার স্মৃতির প্রতি যে গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা আপনি অনুভব করছেন, তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। আপনার দাদা যে আপনাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন, এবং আপনার জীবনের এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উপস্থিতি ছিল, তা খুবই বিশেষ। তার শিক্ষা ও উপদেশগুলো জীবনে যে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে, তা আপনার দাদার প্রতি আপনার সম্মান এবং ভালোবাসাকে আরও আরও উজ্জ্বল করে তোলে।আমি প্রার্থনা করি, আপনার দাদা শান্তিতে থাকুন এবং আপনি তার উপদেশগুলো মনে রেখে সাফল্যের পথে এগিয়ে যান।
আপনার দাদার প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা সত্যিই হৃদয়ছোঁয়া। প্রিয় মানুষদের স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল জীবন্ত থাকে। দাদার উপদেশ ও ভালোবাসা আপনাকে জীবনের পথে সবসময় পথপ্রদর্শক হিসেবে সাহায্য করবে। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন।