রবিবারের সন্ধ্যা!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
বাড়ি থেকে এসেছিলাম সেই নভেম্বর মাসে। এরমধ্যে আর ছুটি পাইনি। এইজন্য আর বাড়িতেও যাওয়া হয়নি। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে একটা সুযোগ চলে আসে। একটা সরকারি ছুটি ছিল শুক্রবারের পরের দিন। পর পর দুইদিন ছুটি পেয়ে যাওয়ায় আরও তিনদিন ছুটি নিয়ে পুরো ৫ দিনের জন্য বাড়িতে চলে গেলাম। ঐ দুই একদিনের জন্য বাড়িতে যেতে আমার খুব একটা ইচ্ছা করে না। বাড়িতে গেলে মনে হয় না আর এই ঢাকা শহরে ফিরে আসি। শনিবার দিনটা একটু ব্যস্ততার সাথে কেটেছিল। আমার মা কে নিয়ে গিয়েছিলাম চোখের ডাক্তারের কাছে। এইজন্য ঐদিন আর বের হওয়া হয়নি। তবে রবিবার আমি আমার বন্ধু লিখনের সাথে বিকেলে বের হয়েছিলাম। বিকেলে বের হয়ে প্রথমে আমরা বেশ কিছু জায়গাই ঘোরাঘুরি করি। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেয় কোথাও বসব।
আমাদের কুমারখালীতে মধুমতী নদীর পাড়ে রংধনু নাম একটা রেস্টুরেন্ট হয়েছে। ওখানে বেশ সুন্দর বসার জায়গা আছে । এর চেয়েও ভালো ব্যাপার একেবারে প্রাকৃতিক পরিবেশ। এর আগে আমি কখনও ওখানে যায়নি। ঐদিন লিখনের কথায় চলে গেলাম। গিয়ে দেখলাম মোটামুটি মানুষের আনাগোনা আছে। এবং পরিবেশ টা সুন্দর। গিয়ে আমরা বাইরে কোথাও বসব এই চিন্তা করে এগিয়ে যেতে থাকি। গিয়ে দেখি একটা টেবিলে আমাদের এসএসসির দুই বন্ধু গালিব এবং নাহিম বসে আছে। সত্যি বলতে আমরা আগে জানতাম না ওরা ওখানে। অনেক টা কাকতলীয় ভাবে ওদের সাথে দেখা হয়ে যায়। আমরা একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। মাঝে মাঝে গালিবের সাথে দেখা হলেও নাহিমের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল সেই ২০১৯ সালে।
এরপর নাহিম ফরিদপুর চলে গেলে আর দেখা হয়নি ওর সাথে। নাহিম কে বেশ ভালো লাগছিল। প্রায় ৬ বছর পর দেখা। আমাদের দেখেই ওরা দুজন বেশ উচ্ছসিত হয়ে আমাদের কাছে এগিয়ে আসে। ওদের দেখে বেশ খুশি হয়েছিলাম। যাইহোক এরপর আমরা ঐ টেবিলে গিয়ে বসি এবং গল্প করতে থাকি। আর পুরাতন বন্ধুরা একসঙ্গে হলে বুঝতেই পারছেন কী হতে পারে। ঐদিন গুলোর বিভিন্ন কথা মূহূর্ত স্মৃতি উঠে আসতে থাকে। আমাদের মধ্যে হাসির একটা রোল উঠে যায়। আমরা একেক জন্য অন্যজনের কিছু বোকামি কিছু ভুল কিছু সুন্দর মূহূর্ত মনে করিয়ে দিতে থাকি। সত্যি বলতে ঐ দিনগুলো আমরা সবাই বেশ মিস করছিলাম। আমাদের সবার মাঝেই একটা আফসোস কাজ করছিল। ঐদিনগুলো আর কখনোই আমরা ফিরে পাব না এই আফসোস।
এর আগে শুনেছিলাম এখানকার মালাই চা নাকী অনেক ভালো। সেজন্য আমরা চারটা মালাই চা অর্ডার দেয়। এবং আমাদের গল্প চলতে থাকে। তখন আমরা পরিকল্পনা করি ঈদে সবাই কুমারখালীতে আসলে একদিন একসঙ্গে ইফতারি করব। পুরাতন সেই বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া দরকার। ২০১৯ সালের পর আর সবার একসঙ্গে ঐভাবে হওয়া হয়ে উঠেনি। এভাবে গল্প করার ফাঁকে চা চলে আসে। মালাই চা টা বেশ দারুণ ছিল। একেবারে গরুর খাটি দুধের তৈরি মালাই চা। এবং প্রচুর পরিমাণে দুধের স্বর বা মালাই ছিল। কথা বলতে বলতে মূহূর্তের মধ্যে আমরা দেড় দুই ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে ফেলি। সময় টা যেন একেবারে চোখের পলকে চলে গেল। রবিবারের সন্ধ্যা টা এভাবেই কাটে। অনেকদিন পরে ওদের সাথে দেখা হয়ে পুরাতন অনেক স্মৃতি আবার মনের মধ্যে উকি দেওয়া শুরু করল।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
স্বর - কন্ঠস্বর
সর- দুধের সর৷
যাই হোক আপনার বন্ধুদের সাথে বেশ সুন্দর সময় কেটেছে। মালাই চা খেতে খুব ভালো হয় এখানেও পাওয়া যায়। তবে আমি তো খুব একটা চায়ের ভক্ত নই তাই একবারই স্বাদ নেওয়ার জন্য খেয়েছিলাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে তখন যে সময় চলে যায় আমরা কেউ টের পাইনা। এভাবেই সবার সাথে আনন্দে আপনার দিনগুলো কাটুক।
ধন্যবাদ আপু কারেকশন টা করে দেওয়ার জন্য।