প্রকৃতি কণ্যা সিলেট ভ্রমন পর্ব -০১
আমি রাহুল হোসেন। আমার ইউজার নেমঃ@mrahul40।বাংলাদেশ থেকে।আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
- প্রকৃতি কন্যা সিলেট ভ্রমন
- ০৩,নভেম্বর ,২০২৩
- শুক্রবার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগবাসি কেমন আছেন আপনারা? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন। আজকে আপনাদের সামনে আবারো হাজির হলাম আমার ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে। গত পোষ্টের ভ্রমণ কাহিনী গুলো পড়লে আপনারা বুঝতে পারবেন সুনামগঞ্জ জেলা ঘোরাঘুরি শেষ করে এখন নতুন কোন জায়গা সৌন্দর্য দেখার জন্য আকুল মন ব্যাকুল হয়ে আছে। তাইতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি প্রকৃতি কন্যা সিলেটের ভ্রমণ করার। যেহেতু গত পর্বে পোস্টগুলোতে সুনামগঞ্জ জেলা ঘুরে শেষ করে ফেলেছি আর সে সুনামগঞ্জ জেলা হতে সিলেট মাত্র ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব। এখন উপভোগ করব সিলেট জেলার সৌন্দর্য সিলেট জেলাকে প্রকৃতির কন্যা বলা হয়। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের গা ঘেঁষে অনেকগুলো স্পট রয়েছে সিলেট জেলায় যা সকল পর্যটককে আকর্ষিত করতে বাধ্য। আমরা যেহেতু সুনামগঞ্জ জেলায় ধীরাই উপজেলাতে একটি রিলেটিভের বাসায় অবস্থান করেছিলাম। তাই আমাদের এখন প্লান এখান থেকে সরাসরি সিলেটে চলে যাব অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। যেহেতু আমরা আজকে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট গিয়ে অনেকগুলো স্পট দেখব তাই সকাল সকাল সুনামগঞ্জ হতে বাইক নিয়ে যাত্রা শুরু করি সিলেট দেখার উদ্দেশ্যে।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
সকাল ছয়টার দিকে আমরা দুইটা বাইক নিয়ে চারজন বের হই ঠান্ডা আবহাওয়া উপভোগ করতে করতে। নীরব রাস্তা নাই গাড়ির কোনো চাপ জনোমানব শূন্য রাস্তা দিয়ে এগোতে থাকি সিলেট জেলার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সকাল সকাল যাত্রাপথে দেখা মেলে বৃষ্টির। বৃষ্টি দেখে তো আর থেমে থাকা যাবেনা তাই আমরা রেইনকোট পরিধান করে আবার যাত্রা শুরু করি। প্রথমে বৃষ্টি দেখে কিছুটা বিপ্রতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে ভেবেছিলাম হয়তো আজকে সারাদিন কিছুটা হলেও বৃষ্টি পাব কিন্তু যখনই আমরা সিলেট হাইওয়েতে উঠি তখনই দেখি এদিকে কোন বৃষ্টি হয়নি। তাই আমরা সকালের শীতল আবহাওয়া উপভোগ করতে করতে সকাল আটটার মধ্যে সিলেটে পৌঁছে যায়। যেহেতু আমরা সকালের নাস্তা করেছিলাম না তাই একটি হোটেলে বসে সকালের নাস্তা সেরে কিছু সময় বিশ্রাম গ্রহণ করে আবার যাত্রা শুরু করি পর্যটন স্পটের উদ্দেশ্যে। আমাদের প্ল্যান ছিল প্রথমে জাফলং ঘুরবো তারপর অন্য কোথাও।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
আর আমরা যেহেতু এলাকাতে নতুন তাই একটি স্থানে দাঁড়িয়ে এক রিকশাচালকের কাছে জাফলং যাওয়ার রাস্তা জিগাইলাম। তিনি আমাদের একটি রাস্তা দেখিয়ে দিল আমরা সেই রাস্তা ধরে এগোতে থাকি। সামনের দিকে এগোতে এগোতে হঠাৎ সুন্দর এক পরিবেশে দেখা মেলে। বাম দিকে চোখ যেতে দেখা মিলল এশিয়া মহাদেশের সবথেকে বড় চা বাগান মালনিছড়া চা বাগান। আমরা চা বাগানে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি ফেরার পথে তাই আমরা এখানে না দাঁড়িয়ে সামনে এগোতে থাকি । রাস্তা দিয়ে এগোতে একটি মোড়ের দেখা মিলে একটি রাস্তা ডানে চলে গিয়েছে আরেকটি সোজা আমরা কোন দিকে যাব বুঝতে না পেরে পাশেই একটি চায়ের দোকান ছিল তাকে প্রথমে জিগায় জাফলং যাওয়ার রাস্তা কোনটা।
তিনি আমাদেরকে বলল আপনারা ভুল রাস্তায় চলে এসেছেন এদিক দিয়ে জাফলং যাওয়া যায় না। আমাদের ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে রিকশা চালক যা আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তারপর তিনি সুন্দর একটি রুট প্লান দিয়ে দেয় যে ডাইনে ৯ কিলোমিটার দূরে রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট দেখে আমরা ভোলাগঞ্জ এর সাদা পাথর দেখে শেষ করতে পারব আজকের মধ্যে। তাই আমরা তার প্লান অনুযায়ী রাতারগুল ফরেস্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। অসম্ভব সুন্দর রাস্তা দুই সাইডে পাহাড় দেখতে এবং বাইক রাইড করতে অসম্ভব ভালো লাগছিল। এমন প্রকৃতির মধ্য দিয়ে বাইক ড্রাইভ করতে অসম্ভব ভালো লাগে। আমারা প্রকৃত উপভোগ করতে করতে এগোতে থাকি রাতারগুলো সোয়াম ফরেস্টের উদ্দেশ্যে। আজ এই পর্যন্তই পরবর্তী পোস্টে রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টের এর সৌন্দর্য আপনাদের মাঝে তুলে ধরবো।
সিলেট অনেক সুন্দর একটি জায়গা এবং আপনি তাকে প্রকৃতি কন্যা বলে আখ্যায়িত করলেন বেশ ভালো লাগলো ভাইয়া। আমার একটা প্রশ্ন সিলেট কি কন্যা বলা হচ্ছে কেন?সিলেট তো পুরুষও হতে পারে। সুনামগঞ্জ জায়গাটা বেশ সুন্দর ভাইয়া। আমি ওখানে ছিলাম এবং চারিদিকে অনেক সুন্দর সুন্দর পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করছিল এবং সিলেটের রাস্তা গুলি অপরূপ সৌন্দর্যময়। যাক বেশ ভালো লাগলো ঠান্ডা আবহাওয়া উপভোগ করতে আপনারা সকাল সকাল বাইক নিয়ে চারজন বের হয়েছেন। খুব ভালো একটি উদ্যোগ ভাইয়া। রেইনকোট পরিধান করে যাত্রা শুরু করেছেন। যাই হোক না কেন যাত্রা থামানো যাবে না। ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর তো অনেক সুন্দর ভাইয়া। যেহেতু ওখানে আমি ভোগান্তির শিকার হয়েছিলাম।আপনাদের মাঝে ভোলাগঞ্জের পর্ব শেয়ার করব অবশ্যই দেখবেন।অনেক ভালো লাগলো আপনার ভ্রমণ কাহিনীটি পড়ে
প্রকৃতি কন্যা বলে আমি আখ্যায়িত করিনি ।একটি পর্যটন স্পটে গিয়ে দেখি ওইখানে লেখা সিলেট কে প্রকৃতি কন্যা বলা হয়েছে।
সিলেট ভ্রমনের আজকের প্রথম পর্ব দেখে খুব ভালো লাগলো। ভ্রমনের জন্য সিলেট খুবই দুর্দান্ত। সিলেটের সৌন্দর্য সত্যি বেশ অসাধারণ। নিশ্চয় চমৎকার ভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। সিলেটের নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে বেশি মুগ্ধ করে। সিলেট ভ্রমনের অনুভূতির আজকের প্রথম পর্ব আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ইনশাল্লাহ ভাইয়া পরবর্তী পোস্টে সিলেটের বিভিন্ন স্থানের সৌন্দর্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করব
সিলেট ভ্রমণের দারুণ একটি পোস্ট আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইজান। আসলে এ জাতীয় পোস্টগুলো আমার খুবই প্রিয়। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানের দৃশ্য গুলো দেখতে পারা যায় এবং ধারণা পাওয়া যায়।
জি ভাইয়া ভ্রমণ পোস্টগুলো দেখলে সে এলাকার সম্পর্ক অনেক কিছু জানা যায় এবং সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
সুনামগঞ্জ ঘোরা শেষ করে সিলেট। সিলেটের সৌন্দর্য সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই। একেবারে প্রকৃতির সব সৌন্দর্যের নিদর্শন যেন এখানে বিদ্যমান। ভুল রাস্তায় চলে যাওয়া টা সত্যি বেশ অনাকাঙ্খিত। কিন্তু নতুন জায়গাই গেলে এমনটা হতেই পারে। সিলেট ভ্রমণের আপনার পরবর্তী পর্ব গুলোর অপেক্ষায় রইলাম ভাই।
ভুল রাস্তা তো চলে যাওয়ার জন্য আমরা যেটা পরে দেখতাম সেটা আগে দেখে ফেলেছে আর কি ।মতামত প্রকাশের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ