"বাইক ট্যুর নড়াইল- ১ম পর্ব"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ৭ ই ডিসেম্বর, শনিবার, ২০২৪ খ্রিঃ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কভার ফটো
কয়েকটি ফটোগ্রাফি একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আমি আজকে আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি প্রতিনিয়ত আমার বাংলা ব্লগে নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমন প্রিয় একজন মানুষ আমি ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণ প্রিয় একজন মানুষ। বছরের সব সময় বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে সবথেকে বেশি ভালো লাগে। আমি ভ্রমণের মাঝেই সুখ খোঁজার চেষ্টা করি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থান এবং অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ গুলো সব থেকে বেশি ভালো লাগে আমার কাছে। আমাদের গ্রুপে আমি যে শুধু ভ্রমণ করি তা নয়, সবাই ভ্রমন করতে অনেক বেশি পছন্দ করে। আর এই কারণেই আমরা সবাই মিলে মাঝেমধ্যে এই গ্রুপ ট্যুর দিই। এইতো কিছুদিন আগে বাইক নিয়ে নড়াইল ট্যুর দিয়েছিলাম। এ ট্যুরে আমাদের প্ল্যানিং ছিলো আমরা প্রথমে এক বড় ভাইয়ের আপুর বাসায় যাবো তারপর সেখান থেকে আপুদের নিজস্ব বড় মাছের ঘের আছে সেখানে গিয়ে পিকনিকের সাথে রাত যাপন করবো। এটা আমাদের জন্য অনেকটা অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ।
অনেকদিন আগেই নড়াইলে বাইক ট্যুর দেয়ার প্ল্যানিং করেছিলাম। আর এটা আমাদের গ্রুপ ট্যুর। আমাদের প্লানিং অনুযায়ী খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিলাম। তখনো শীত আরম্ভ হয়নি তবে গ্রামের দিকে বেশ ভালোই কুয়াশা পড়তো। আমি রেডি হওয়ার পরে আমার এক বন্ধুর কাছে ফোন দিয়ে জেনে নিলাম তারা কয়টার দিকে বের হবে। আমার যেহেতু বাইক নেই তাই তাদের কোন একজনের বাইকেই যেতে হবে।
যাই হোক আমাদের গ্রুপে মানুষ ছিলাম সাত জন আর বাইক ছিল চারটা। আমি রেডি হয়ে হাঁটতে হাঁটতে পাকা রাস্তাতে গিয়ে গ্রুপের অন্য সদস্যদের জন্য ওয়েট করতে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরেই সবাই বাইক নিয়ে হাজির হলো তারপর এক বড় ভাইয়ের বাইকে উঠে বাইক ট্যুর শুরু করলাম। বাইকে ট্রাভেল করতে আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লাগে। কারণ নিজের স্বাধীনতা মত ট্রাভেল করা যায়।
আমরা মোটামুটি সাড়ে ছয়টার দিকে আমাদের এলাকা থেকে রওনা দিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে এভাবে সবাই মিলে একসাথে যাইতে বেশ ভালই লাগছিল। গ্রাম্য এলাকার ভেতর দিয়ে একসাথে কয়েকটা বাইক নিয়ে গেলে আসলে সবাই তাকিয়ে থাকে। এটা আমাদের সাথে অবশ্য প্রায়ই ঘটে। কারন আমরা এলাকাতে সবাই মিলে প্রতিদিন এভাবেই বাইক নিয়ে ঘোরাফেরা করি।
খুব সকালে যেহেতু বাড়ি থেকে খাবার না খেয়ে বের হয়েছিলাম তাই পথেই খাবার খাওয়াটা জরুরি ছিলো। কারণ খালি পেটে ভ্রমন করতে আমার একদম ভালো লাগেনা। আমরা কালুখালির একটি বাজারের পাশে সবাই মিলে বাইক থামিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এখান থেকে সকালের খাবার খেয়ে যাবো। তারপর একটা রেস্টুরেন্ট দেখে খিচুড়ি, আলুভর্তা, ঝালভর্তা আর ডিম ভাজি দিয়ে খাবার খেলাম।
তারপর সবাই মিলে খাবারের বিল পরিশোধ করে আবার আমাদের ট্রাভেল শুরু করলাম। সেদিনের সকালের খাবারটা সত্যি জোস ছিল। কারণ খুব সকালে খিচুড়ির সাথে ভর্তা ডিম ভাজি দিয়ে খাইতে ভীষণ ভালো লাগে। বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা রাস্তার ধারের চা স্টল থেকে সবাই মিলে চা খেয়েছিলাম। আমরা মোটামুটি এক ঘন্টা বাইক ড্রাইভ করার পরে কামারখালী ব্রিজ পাওয়ার আগে অনেক সুন্দর মনোরম একটি স্থানে বাইক থামিয়ে অনেক মজা করেছিলাম।
আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে অনেকটা সময় অতিবাহিত করেছিলাম এই জায়গাটা অনেক সুন্দর ছিল। বিশেষ করে রাস্তা দুই পাশে অনেক বড় মাঠ থাকলে এ ধরনের জায়গা গুলো দেখতে অনেক সুন্দর হয়। এখান থেকে সবাই মিলে অবশ্য ফটো সেশন করেছিলাম কিন্তু সেই ফটোগুলো আমার কাছে নেই। যাইহোক এখানে আমরা অনেকটা সময় বেশ ভালোই আড্ডা দিয়ে আবার আমাদের পথচলা শুরু করলাম।
আজকে এ পর্যন্তই বাইক ট্যুর নড়াইল- ১ম পর্ব শেয়ার করলাম পরবর্তী কোন পোস্টে ২য় পর্ব শেয়ার করবো।
পোস্টের ছবির বিবরন
ক্যামেরা: ১০৮ মেগাপিক্সেল
তারিখ: ৮ ই নভেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ
লোকেশন: কুষ্টিয়া
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি কে !
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon


বন্ধুদের সাথে বাইকে করে ভ্রমণ করার মজাটাই অন্যরকম। আপনাদের প্রথম পর্বের ফটোগ্রাফি দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগলো। আশা করছি আগামী পর্বে আরো ভালো কিছু মুহূর্ত আমরা দেখতে পাবো।
এটা সত্যি বলেছেন ভাই বন্ধুদের সাথে এভাবে ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। অনেক সুন্দর মন্তব্য প্রকাশ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ভাইয়া আজ আপনি অনেক দারুন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। বন্ধুদের সাথে বাইক ট্যুরে যাওয়ার মজাই আলাদা। আপনি বাইক ট্যুরে যাওয়ার খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন সেগুলো দেখে অনেক ভালো লাগলো। আপনারা যেহেতু সকালে খাবার খেয়ে বের হননি বাসা থেকে তাই একসাথে সবাই খাওয়া দাওয়া করলেন। এক কথায় বলতে গেলে খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
আমরা বাইক ট্যুরে সবাই মিলে অনেক সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছিলাম। অনেক সুন্দর মন্তব্য প্রকাশ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আহ স্মৃতিটা আবার মনে পড়ে গেল। পুরো জার্নি টা দারুন ছিল বিশেষ করে সকালবেলায় হালকা শীতে বাইক ড্রাইভ করতে বেশ মজা লাগছিল তবে এখন শীতের তীব্রতা বেড়েছে এখন আর বাইক ড্রাইভ করতে মজা লাগে না। আর হ্যাঁ খিচুড়ি আর ডিম ভাজি টা দারুন ছিল।
আমরা এই ট্যুরে যতটা সময় কাটিয়েছিলাম ততটা সময় খুব সুন্দর ছিল। আবার রেডি থাকো ট্যুর দিতে হবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। ডিসিশন ফাইনাল ওরফে রাহুল।