গল্প: মামা ও ভাগ্নে। পর্ব: ১৪ || তাং: ৩০/০৪/২০২৩ ইং।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ রবিবার। ৩০ ই এপ্রিল, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের নিকট আমার লেখা একটি গল্প শেয়ার করছি। আমার গল্পের নাম- 'মামা ও ভাগ্নে', পর্ব-১৪। আমি আশা করি আমার লেখা গল্পের পর্ব-১৪ আপনাদের নিকট অনেক অনেক ভালো লাগবে।
গল্পের ১৩ তম পর্বটি পড়ার লিঙ্ক
একটু যেতেই পুলিশ সুপার একটি গাজর ক্ষেত দেখলো। তারপর গাজর ক্ষেতের পাশে দেখল ৫-৬ জন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ সুপার এবং তার সহযোগীদেরকে নিয়ে গাজর ক্ষেতের পাশে থাকা মানুষগুলোকে ঘিরে ফেললো।গাজর ক্ষেতের পাশে থাকা মানুষগুলো ছিল তালেব আলী এবং তার সহযোগীরা। তারপর তালেব আলী সহ সকলেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল এবং পুলিশ সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করলো। তারপর পুলিশ সুপার তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করতেই তালেব আলী সহ সকলে বললো, তারা এখানে তাদের গাজর ক্ষেত পাহারা করতে এসেছে। পুলিশ সুপার তাদের কথা শুনে এবং তাদের হাতে একটি করে লাইট এবং একটি করে লাঠি দেখে বুঝতে পারল যে, এরা সবাই সাধারণ মানুষ। তাই পুলিশ সুপার তাদেরকে গ্রেফতার করলো না। কিন্তু তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ভুট্টা ক্ষেতের দিকে চলে আসলো।
পুলিশ সুপারের সাথে ভুট্টা ক্ষেতে এসে সুজন ও হৃদয়কে দেখে তালেব আলীর চোখ কপালে উঠে গেল। তারপর হঠাৎ করেই তালেব আলী বলে উঠলো, স্যার, স্যার, আমরা এই চোর দুটোকেই ধরার জন্য এই হাড় কাঁপানো শীতের মধ্যে আমাদের গাজর ক্ষেত পাহারা করতে এসেছি। কিন্তু তালেব আলীর এই কথা শুনে পুলিশ সুপার খুবই জোরে একটি ধমক দিল। তারপর পুলিশ সুপার বললো, এরা দুজন আমাদের লোক। পুলিশ সুপারের এরকম কথা শুনে তালেব আলী চমকে উঠল, এবং মাথা নিচু করে থাকলো। তালেব আলীদের এরকম অসহায়ত্বের দৃশ্য দেখে সুজনের মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। তারপর সুজন পুলিশ সুপারকে ডেকে একটু আড়ালে নিয়ে গেল।
সুজন পুলিশ সুপারকে সবকিছু খুলে বলতে লাগলো। প্রথমে সুজন বলল যে, আমার ভাগ্নে হৃদয়ের সাথে তালেব আলীর একমাত্র মেয়ে তমা'র সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাই একদিন তমা হৃদয়ের কাছে গাজর খেতে চায়। তমা'র মনের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আমি এবং হৃদয় রাতের আঁধারে গাজর চুরি করে তমা দের বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা জানতাম না যে, এই গাজর ক্ষেতের জমিটা তমা'র বাবা তালেব আলীর। তারপর সুজন আরো বললো, তমাকে মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য পুনরায় আমরা দু'জন গাজর চুরি করার জন্য রাত্রে এসেছিলাম। আর রাত্রে এসেই এই ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে আমরা এই মাদক চোরাচালান কারিদের কার্যক্রম গুলো দেখে ফেলেছিলাম। তাই সুজন বললো যে, আমাদের উপর তালেব আলীর সন্দেহটা সঠিক। তারপরে সুজন একটু অনুরোধ করেই বলল যে, তালেব আলীকে ধমক দিয়েন না স্যার। উনি সত্যিই একজন ভালো মানুষ।
সুজনের মুখে এরকম কথা শুনে পুলিশ সুপার হেসে উঠলো। তারপর হাসিমুখেই পুলিশ সুপার বললো, সত্য ঘটনা যখন আমি জেনেই ফেলেছি তখন আর চিন্তা করিস না সুজন, আমি চেষ্টা করব তালেব আলী মন থেকে সকল ধরনের ,ভয়,ভুল-ত্রুটি ও সন্দেহগুলো দূর করে তোমাদের দুই পরিবারের মিলন করে দিতে। পুলিশ সুপারের মুখে এরকম কথা শুনে সুজন খুবই আনন্দিত হল। তারপর পুলিশ সুপার যখন চলে যাচ্ছিল, তখন সুজন পুলিশ সুপারের একটি হাত চেপে ধরলো। পুলিশ সুপার বলল, কিরে সুজন, আরো কিছু কি বলবি? সুজন তখন তার জ্যাকেটের ভিতর থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা বের করলো। বান্ডিলের সব টাকাগুলো ছিল এক হাজার টাকার নোট। সুজনের কাছে এত টাকা দেখে পুলিশ সুপার হতবাক হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার বললো, এত টাকা সুজন তুমি কোথায় পেলে? উত্তরে সুজন বলল, সর্দারের পকেটে এই টাকাগুলো ছিল, স্যার। সুজন আরো বললো , আমি প্রথমে ভেবেছিলাম টাকাগুলো আপনার কাছে জমা না দিয়ে নিজের জন্য রেখে দিবো। কিন্তু আমার বিবেক বাধা দিলো। তাই এই অবৈধ টাকা গুলো আমি আপনার কাছে জমা দিতে চাই।
সুজনের কথায় পুলিশ সুপার অত্যন্ত খুশি হল। কিন্তু পুলিশ সুপার মনে মনে আলাদা একটু বুদ্ধি করল। পুলিশ সুপার সুজনকে বললো যে, তোমার কাছে যে এই টাকাগুলোই ছিল সেটা আমি কিভাবে বিশ্বাস করব। এর চেয়েও আরো বেশি টাকা তো তোমার কাছে থাকতে পারে। পুলিশ সুপারের এরকম কথা শুনে সুজনের মাথা ঘুরে গেল। সুজন খুবই অসহায়ত্ব প্রকাশ করলো। এবং তার কাছে যে এই টাকাগুলোই ছিল সুজন পুলিশ সুপারকে খুবই মিনতি করে বোঝানোর চেষ্টা করলো। সুজনের আকুতি-মিনতি দেখে পুলিশ সুপার নিশ্চিত হল যে, সুজনের কাছে আর কোন টাকা নেই। তারপর পুলিশ সুপার সুজন কে বললো এই টাকার কথা আর কে কে জানে? তখন সুজন বললো, শুধুমাত্র হৃদয় জানে, আর এখন আপনি জানলেন।
সুজনের কথা শুনে পুলিশ সুপার মুখে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ কি জানো চিন্তা করতে লাগলো। একটু পরে পুলিশ সুপার সুজনকে বললো, এই টাকার কথা এই পৃথিবীর বুকে আমরা তিনজন ছাড়া আর কেউ যেন না জানে। পুলিশ সুপারের এরকম কথা শুনে সুজন ভাবল যে, নিশ্চয়ই এই টাকাগুলো পুলিশ সুপার নিজে আত্মসাৎ করার চিন্তা করছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে যা ঘটলো, সেটা সুজনের চিন্তার ঠিক বিপরীত হলো। পুলিশ সুপার সুজনকে বলল যে, "এই টাকাগুলো তোমার কাছেই রেখে দাও। আমি এই টাকাগুলো তোমাকেই দিয়ে দিলাম। কিন্তু এই কথা ভুল করেও কাউকে কখনো বলবে না।" পুলিশ সুপারের এ কথাগুলো সুজন কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। সুজন একেবারেই অবাক হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো হয়ে যাচ্ছিল। তখন পুলিশ সুপার পুনরায় বললো, এতে তোমার অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ, তোমার ব্যবহারে আমি নিজেই মুগ্ধ হয়েছি। তাই, এটা হচ্ছে তোমার সৎ সাহসের এবং তোমার সততার পুরস্কার।
[গল্পটি চলমান থাকবে, আগামী সপ্তাহে গল্পের শেষ পর্বটি শেয়ার করা হবে।]
Twitter link