আমার ভাতিন্ডা ফলস্, তোপচাঁচি লেক, খন্ডোলি ড্যাম বা ঊশ্রী ভ্রমণ - অন্তিম পর্ব
সকল স্টেমিট সদস্যকে জানাই আন্তরিক ভালবাসা ও শ্রদ্ধা।
পূর্ববর্তী পর্বের লিংক
My Trip to Bhatinda Falls, Topchanchi Lake, Khandoli Dam or Ushri - Part 1
আমার পরের গন্তব্য তোপচাঁচি হ্রদ। একশো বছর আগে ইংরেজরা তৈরী করেছিল আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল সরবরাহের জন্য। আজও সেই কাজ চলছে।
লেকের পাশেই টিলার ওপর হনুমানজীর মন্দির। দেখলাম হিন্দিতে লেখা বজঙ্গবল, বজঙ্গবলী নয়। পঞ্চমস্তক মূর্তি। ওপর থেকে লেক আর পরেশনাথ পাহাড় খুবই সুন্দর দেখায়। শুনলাম ভ্রমণার্থীরা ওখানে বিশেষ ওঠেন না।
মন্দিরের পেছন দিক দিয়ে নামার সময় দেখলাম মনকামনা শিব মন্দির। পাশের কলকে ফুলের গাছে অনেকেই মানত করে লাল রঙের কাপড় বেঁধে দিয়ে গেছেন। সম্পূর্ণ নিরিবিলি শান্ত জায়গা।
তোপচাঁচি বাঁধের ওপরে প্রথমেই দেখা হলো একপাল বিশাল বড়ো বড়ো ছাগলের সঙ্গে। হুড়মুড় করে লেক পেরোচ্ছে। আমি ছাড়া সমস্ত মানুষ রাস্তা ছেড়ে রেলিঙের ধারে। চীৎকার উঠল, 'হঠ্ যাইয়ে, হঠ্ যাইয়ে।' হঠতে পারলাম না ছবি তুলতে গিয়ে। আর ছাগলবৃন্দও আমাকে সমগোত্রীয় হিসেবে চিনতে পেরে একটুও ধাক্কা না দিয়ে আমার দুপাশ দিয়ে চলে গেল।
তোপচাঁচি লেকটা পাহাড়ে ঘেরা। একপাশে ঝাড়খণ্ডের সবচেয়ে উঁচু পরেশনাথ পাহাড়। লেকের জলে প্রতিবিম্ব ভারি সুন্দর। তবে দুপুর বারোটার গনগনে রোদে ছবি বিশেষ ভালো হলো না। কিন্তু মন ভালো হলো। দেখলাম জলের মাঝে কয়েক ঝাঁক পানকৌড়ি। বাঁধের জল যখন ছাড়া হয় সেটাও না কি দেখার মতো। আমার দেখা হয়নি
তোপচাঁচি লেকের টোল গেটের আগেই বাঁ হাতে একটা বাড়ী। প্রচুর বাংলা সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এই লেকের আশেপাশে এবং এই বাড়ীতেও। উত্তমকুমার এই জায়গাকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিলেন যে এই বাড়ীটা কিনে নেন। পরে অবশ্য মালিকানা পাল্টে যায়। কিছুদিন আগেও ইউটিউবে দেখেছি যে বাড়ীটার জরাজীর্ণ অবস্থা। ভেতরের প্রত্যেকটা ঘরে ডাঁই করে রাখা আবর্জনা এবং ভাঙাচোরা আসবাবপত্র। রবিবার দেখলাম অন্য ছবি। সারথি জানালেন যে মাস দুয়েক আগেই সরকার থেকে বাড়ীটাকে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ঘরদোর মোটামুটি পরিষ্কার আর বাড়ী সদ্য রং করা হয়েছে। বেশ ভালো লাগল। উত্তমকুমার আমাদের খুবই নরম জায়গা।
আমার প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।