হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। অনেকদিন পর আবারো উপস্থিত হলাম বিদ্যালয়ের কিছু স্মৃতি নিয়ে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মান উন্নয়নের দিকে থাকা সত্ত্বেও কোথায় যেন ত্রুটি রয়েছে, যত মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে কিছু কর্মকাণ্ড যেন মূর্খের চেয়েও খারাপ করে থাকছে। ঠিক তেমনি কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আপনাদের মাঝে।
পতাকা একটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতীক। তাই যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার শুরুতেই মহান এই বিজয় নিশান উঠানো হয়। আর এতে একটি জাতির গৌরব নিহত। তাই যখনই প্রতিষ্ঠানে পতাকা উড়তে দেখা যায় তখন নিজের মধ্যে অন্যরকম এক স্বাধীন অনুভব হয়ে থাকে। তাই দিনের কার্যক্রম শুরুতেই প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঠিক তেমনই ভাবে একটা ছাত্র বা ছাত্রীর নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে নিজের, নিজের পরিবারের, সমাজের, দেশ ও জাতির কল্যাণে জন্য। আর এমন অনুভূতি তাদের ভেতর জাগ্রত করছে কি প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?


Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
শিক্ষকতা মহান পেশা, অনেকেই স্বপ্ন দেখে শিক্ষক হবার। আবার অনেকেই শিক্ষক হয়ে মহান পেশাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। তবে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক নিয়ম শৃঙ্খলা থেকে থাকে। কারণ সেই নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ছাত্ররা শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই সর্বদা শিক্ষকদের প্রস্তুত থাকা লাগে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে নিজেকে রেখে ছাত্রছাত্রীদের সেই বিষয়ে জ্ঞান দেওয়ার। কোন কিছু শিক্ষা প্রদান করতে হলে আগে সে বিষয় নিজের জ্ঞান থাকা জরুরী। আমরা যখন দিনের শুরুতে স্কুলের কার্যক্রম শুরু করতাম ছাত্রছাত্রীদের প্রথমে অ্যাসেম্বলি ক্লাস ও পিটি প্যারেড করে নিতাম। কারণ আমাদের সুস্থ থাকা জরুরী। সুস্থ না থাকলে তো সঠিক পথে চলা সম্ভব নয়। আর এর মধ্য দিয়ে শুধু ব্যায়াম নয় রয়েছে বেশ অনেক শিক্ষা। এখানে অনেক অভিভাবক উল্টাপাল্টা কথা বলতেন, এগুলো না করলে কি হয়। তখন তাদেরকে সুন্দর করে বোঝানোর চেষ্টা করতাম। অনেকের সহজে বুঝতো আবার অনেকে রাগ দেখাতো। তবুও প্রতিষ্ঠান তো চলবে তার নিজ গতিতে। স্কুলের শুরুতে আধা ঘন্টার জন্য এ ক্লাস নেয়া হতো।



Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
এদিকে বৃহস্পতিবার দিনগুলোতে সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমত প্রত্যেক সপ্তাহে নেওয়া হতো পরবর্তীতে দেখা যেত এতে বেশ একঘেয়েমি মনে হতো তাই এক সপ্তাহ পর পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমরা বেশ কয়েকটা সেগমেন্ট যুক্ত করেছিলাম যেমন কুইজ প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণ সহ আরো অনেক কিছু। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের আরো উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল নিত্যনতুন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার দিকে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এবং বিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন করতে আমরা নিজ থেকে টাকা তুলে কলম বিতরণ করতাম। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে একদম শেষ পর্যন্ত অনেক সুন্দর আয়োজন করতাম এতে ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘ টাইম হওয়ার পরেও আগ্রহের সাথে পুরস্কার পাওয়ার আশায় কুইজে অংশগ্রহণ করার জন্য বসে থাকতো। চলে আসার পর এখন হয়তো সেভাবে আর অনুষ্ঠান হয় না শুনেছি তবুও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন হোক সেটা দোয়া করি।





Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে মুস্তাফিজুর এনাউন্স করতো বিজয়ীদের নাম। এখনো সে তার সেই অবস্থানে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু পারিপার্শ্বিক অবস্থান থেকে আমি আর জান্নাতুল আপু সেখান থেকে সরে এসেছি। তবে মনে করি একটা বিদ্যালয়ে যদি ভালোভাবে শিক্ষা প্রদান করা যায় অবশ্যই ছাত্রছাত্রীরা সুস্থ মস্তিষ্কে অধিকারী হতে পারবে। কিন্তু বর্তমানে অনলাইনে খেয়াল করলে দেখা যায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে গেছে নোংরামির জায়গার মত, যেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ডান্স করছে নাচ গানে মেতে আছে, সঠিক যে শিক্ষা একজন ছাত্র-ছাত্রীর সুপ্ত প্রতিহার বিকাশ ঘটাবে সেটা কিন্তু দিন দিন কলুষিত হচ্ছে। আর বর্তমানে অনলাইন কিছু প্লাটফর্ম মানুষকে খারাপ দিকে ধাবিত করছে,তাই আমি মনে করি এই অল্প বয়সে ছাত্র-ছাত্রীরা যদি সুশিক্ষা সঠিকভাবে পায় তাহলে অবশ্যই মানসিক প্রতিবন্ধীর দায় থেকে মুক্তি পাবে। সুস্থ সবল একটা জেনারেশন সৃষ্টি হবে। আমার দৃষ্টিতে আমাদের এই বিদ্যালয়ের কার্যক্রমটা পারফেক্ট ছিল। প্রতিটা বিদ্যালয়ে সঠিক শিক্ষা আর নিত্য নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো কিছু হবে এমন চিন্তা ধারা করার প্রয়োজন।

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত। শিক্ষকরা হল সেই জাতিকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলে। বিদ্যালয় যেটা আমাদের গর্বের এবং সম্মানের জায়গা। শিক্ষকেরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় গড়ে তুললে তাহলে এ দেশের উন্নতি হবে। আবার তারাই চাইলে ধ্বংস করে দিতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ। হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন একটি বিদ্যালয় উন্নত জাতি গড়ার ভবিষ্যত।
একদম ঠিক বলেছেন
একটি বিদ্যালয় একটি ছাত্রের ভবিষ্যত।আর বাংলাদেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।আর এই জাতীয় পতাকা আমাদের দেশের একটি প্রতীক। এই প্রতীক আমাদের সকলের গর্ব। আমরা অনেক রক্ত ঢেলে দিয়ে এই পতাকা অর্জন করেছি।
হ্যাঁ একটা ছাত্র সুশিক্ষা গ্রহণ করে এখান থেকে
আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে। যেন তারা ভবিষ্যতে ভালো মানুষ এবং জাতির জন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে গড়ে উঠতে পারে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বিষয়টি আমাদের মাঝে এত সুন্দরভাবে শেয়ার করার জন্য।
তোমাকেও জানাই অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ
আহ মনে করিয়ে দিলেন স্কুলের সেই দিনগুলোর কথা । বিদ্যালয় মানুষ গড়ার কারিগর । এখান থেকেই প্রতিটা শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে থাকে । আর তাই সঠিক পাঠদান পদ্ধতি অনুযায়ি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা না হলে শিক্ষার্থীদের সঠিক মানসিক বিকাশ ঘটবেনা। সাপ্তাহের একঘেয়েমি কাটাতে একদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , খেলাধুলার আয়োজন করা ভালো পদক্ষেপ এইগুলা প্রায় প্রতিটা বিদ্যালয়েই চালু আছে । আমাদের সময়েও ছিল।
হ্যাঁ ভাই আমাদের সময় ছিল কিন্তু এখনকার সময় আরো অনেক কিছু উন্নতমানের হচ্ছে।