স্বরচিত কবিতা "ফাইনাল সেমিস্টারের এক্সাম"||
আশা করি সবাই ভালো আছেন, আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। গত কয়েকদিন যাবত ইন্টারনেট না থাকায় পোস্ট করতে পারিনি। আজকেও নেট অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে তবুও পোস্ট করার চেষ্টা করলাম। আজ আমি আমার স্বরচিত কবিতা আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে যাচ্ছি। আমি মাঝে মাঝেই লেখালেখি করি। কবিতা লিখতে বেশ ভালোই লাগে। অবসর সময়ে প্রায়ই আমি কবিতা লেখি। তাই আজ আমি নিজের লেখা একটি কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি সবাইকে ভালো লাগবে। আজকে আমি একটি কবিতা লিখলাম কবিতার শিরোনাম দিলাম "ফাইনাল সেমিস্টারের এক্সাম"।
ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা একটি বিশেষ মুহূর্ত, যা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত, তেমনই অন্যদিকে উত্তেজনা ও উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে যায়। পুস্তক আর নোটের ভিড়ে হারিয়ে যায় সময়, কিন্তু প্রতিটি রাতের অধ্যয়ন তাদের ভবিষ্যতের পথ পরিষ্কার করার জন্য।পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসলে, বন্ধুদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা ও উৎসাহ তৈরি হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্দেশনা মনে পড়ে, যারা তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানে সাহায্য করেন। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা অনুভব করে, যা তাদের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করে।এমনকি পরীক্ষার চাপের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও, আশার আলো মিটমিট করে জ্বলতে থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়। এটি শুধু পরীক্ষার ফল নয়, বরং জীবনের চলার পথে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। সফলভাবে পাশ করার পর নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যায়।এই মুহূর্তটি কেবল একটি পরীক্ষার সমাপ্তি নয়, বরং জীবনের অগ্রগতির চিহ্ন। তাই, ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হলে হাসি এবং আশাবাদের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
"ফাইনাল সেমিস্টারের এক্সাম"
সময় বয়ে চলে আপন মতে।
সময়ের পরিক্রমায় এসেছে, সেমিস্টারের ফাইনাল, তাইতো পৃথিবী যেন থমকে দাঁড়ায়,
মনে হয় অসামান্য কাল।
পুস্তকগুলোর পাতা, উল্টাচ্ছি রাতদিন,
মাথায় গিজগিজ করে,
কতো প্রশ্নের চিন্তা ।
লেখার খাতা খুলে, কাঁপছে হাতের আঙুল,
কল্পনায় আসে স্মৃতি, সতীর্থের সেই হাসি-গুণ।
বাতাসে ভাসে আতঙ্ক,
যেন গহীন সমুদ্রের ঢেউ, কিন্তু সামনে পরীক্ষা,
তাই তাড়া দিচ্ছে একটাই
রেজাল্ট ভালো করতেই হবে।
মাথায় আসে, মনে পড়ে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্দেশ, নিজেকে টেনে আনি,
উজ্জ্বল হবে এ ব্যাকরণ,
এ জ্ঞানের পেশ।
সময় যেন গড়াচ্ছে,
কেবল হাতের প্রান্তে,
একটি প্রশ্নের উত্তর, জানালার বাইরে ভ্রমণ।
কিন্তু হাল ছাড়লে কি হবে? আশা জাগিয়ে রাখি, পরীক্ষার হলে ঢুকে, প্রস্তুতি নিয়ে হাসি।
ফাইনাল সেমিস্টার,
এ তো শেষের সুর,
সফলতার পথে যাত্রা,
শুরু হবে নতুন সফলতার যাত্রা ।
দেখবে একদিন কিভাবে, সব কষ্ট হবে সার্থক, পাশ করে ফিরবো হাসি, জীবনের পথে হবে নতুন হাতকড়ি।
আমার মায়ের অনুপ্রেরণায় আমার লেখালেখির জগতে আসা। যদিও মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনা তবে মাঝে মাঝে সময় পেলে কবিতা লেখার ট্রাই করি। আম্মুর পদ্য কবিতাগুলো আমার কাছে দারুণ লাগে। কি চমৎকার করে স্বরবৃও ছন্দে লিখেন। ৮ ৬ মাত্রার এই কবিতাগুলো আমি নিয়মিত ফলো করি এবং সেভাবে লেখার চেষ্টা করি,তবে দু একটি মাত্রা এদিক সেদিক হলে আম্মুর কাছে ঠিক করে নিই। আমার মায়ের লেখা কবিতার অনেক ভক্ত পাঠক আমি দেখেছি দেশ এবং দেশের বাইরেও, যা আমাকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারেও অনেকেই আম্মুর লেখা কবিতাগুলো ভীষণ পছন্দ করে, এটি আমার কাছে অনেক গর্বের। আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে আগামীতে আরো মজার মজার কবিতা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো।
এতক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে আমার ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অন্য একটি ব্লগে ততক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমি আল হিদায়াতুল শিপু। বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এর একজন ছাত্র। আমি ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি ভ্রমণ করতে অনেক পছন্দ করি। আমি মাঝে মাঝে কবিতা ও লিখি। আমার লেখা কবিতা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা পত্র পত্রিকা এবং মেগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কাব্যকলি বইতেও আমার লেখা কবিতা রয়েছে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
কবিতাটা পড়ে ভীষণ মজার লাগলো। ফাইনাল সেমিস্টার সব ছাত্রের জন্যই একটি স্পেশাল সময়। আসলে এখানে শেষ হয়ে যাওয়ার আনন্দ এবং পরীক্ষার টেনশন একসঙ্গে মিলেমিশে থাকে। আর এই কবিতার মধ্যে সেই বিষয়টি খুঁজে পেলাম বারবার। সুন্দর লিখেছো এবং আমাদের মধ্যে শেয়ার করেছ। তোমার আগামী জীবনের জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইল।
পরীক্ষার ঘনিয়ে আসলে সময় গুলো কখন যেন একদমই থেমে যায়। শুধু আমরা বইয়ের পাতা উল্টাই এই পাশ থেকে ওই পাশ। খুব সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন ভাইয়া।আপনার লেখা কবিতাটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
পুস্তকগুলোর পাতা ,উল্টাচ্ছি রাতদিন
মাথায় গিজগিজ করে, কত প্রশ্নের চিন্তা।
প্রত্যেকবার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার আগে এরকমটাই হয় আমার সাথে। সম্পূর্ণ কবিতাটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিনগুলোকে ফুটে তুলেছে। খুব সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটি অসাধারণ হয়েছে।।
ভাইয়া পরীক্ষা যখন আসে তখন সময় গুলো যেন থেমে যায়। আজকে আপনি খুব সুন্দর করে এক্সাম নিয়ে চমৎকার কবিতা লিখেছেন। তবে কবিতার মাধ্যমে সুন্দর মনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। আর আজকে কবিতাটি একটু ভিন্নরকম পড়তে অনেক বেশি ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর করে কবিতাটি লিখে শেয়ার করার জন্য।
"ফাইনাল সেমিস্টারের এক্সাম" শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যিই অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তুমি খুব ভালোভাবে পরীক্ষা দেবে এবং খুব ভালো রেজাল্ট করবে এটা আমার প্রত্যাশা এবং বিশ্বাস। ফাইনাল এক্সাম নিয়ে তোমার অনুভূতি এবং কবিতা দুটোই অসাধারণ হয়েছে। অনেক অনেক শুভকামনা তোমার জন্য।
ভাইরে কীভাবে যে দেখতে দেখতে সেমিষ্টার টা চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখন দেখছি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেমিষ্টার ফাইনাল ভাবা যায়। সেমিষ্টার ফাইনাল এক্সাম নিয়ে কবিতা টা দারুণ লিখেছেন ভাই। বেশ ভালো লাগল আপনার কবিতা টা পড়ে। ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।