স্বরচিত কবিতা শরৎ ||
আশা করি সবাই ভালো আছেন, আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। গত কয়েকদিন যাবত ইন্টারনেট না থাকায় পোস্ট করতে পারিনি। আজকেও নেট অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে তবুও পোস্ট করার চেষ্টা করলাম। আজ আমি আমার স্বরচিত কবিতা আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে যাচ্ছি। আমি মাঝে মাঝেই লেখালেখি করি। কবিতা লিখতে বেশ ভালোই লাগে। অবসর সময়ে প্রায়ই আমি কবিতা লেখি। তাই আজ আমি নিজের লেখা একটি কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি সবাইকে ভালো লাগবে। আজকে আমি একটি কবিতা লিখলাম কবিতার শিরোনাম দিলাম "শরৎ"।
মূলভাব :
শরৎকাল প্রকৃতির এক অমল সুন্দর সময়, যখন জীবন নতুন রঙে রাঙিয়ে ওঠে। এ সময় আকাশের রং নীল থেকে সোনালী এবং মাঝে মাঝে রক্তিম হয়ে ওঠে। সূর্য যখন সূর্যের আলো ছড়িয়ে দেয়, তখন চারপাশে এক অনন্য আভা ছড়িয়ে পড়ে।
মাঠে ধান পাকতে শুরু করে, এবং কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। ধানের সোনালী কণা বাতাসে উড়ে যায়, যেন প্রকৃতি নিজেই এক উৎসবের আয়োজন করেছে। এই সময়ের বাতাসে মিশে থাকে একটি স্নিগ্ধতা, যা মনকে শীতল ও প্রশান্ত করে।
বিকেল বেলা যখন আসে, প্রকৃতি যেন এক নতুন রূপে সাজে। গাছের ছায়ায় বসে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা গল্প করতে থাকেন, তাদের কথায় রয়েছে পুরনো স্মৃতি ও জীবনের শিক্ষা। শিশুরা দৌড়ে বেড়ায়, খেলাধুলায় মেতে ওঠে, যেন শরৎকাল তাদের জন্য এক বিশেষ আনন্দের উৎসব নিয়ে এসেছে।
শরতের এই দৃশ্যপট কেবল প্রকৃতির নয়, বরং আমাদের অন্তরের গহীনে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলোকেও জাগ্রত করে। এই ঋতু আমাদের মনে নতুন উদ্দীপনা, আশা ও জীবনের উদ্দেশ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শরৎকাল আমাদের শেখায়, যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই এক নতুন অভিজ্ঞতা, আর এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
এভাবেই শরৎকাল এক অমল মায়া তৈরি করে, যেখানে প্রকৃতি ও মানব মনের মধ্যে এক গভীর সংযোগ স্থাপন করে। শরৎ, তুমি এলেই মনে হয়, জীবন আরও রঙিন, আরও আনন্দময়।
শরৎ এসেছে, মন যেন নতুন করে উদ্ভাসিত। আকাশের রং বদলে গেছে, নীল থেকে স্বর্ণালী এবং মাঝে মাঝে রক্তিম। পাতা গুলোতে ঝরে পড়ছে সোনালী কণ্ঠি, যেন প্রকৃতি নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে। মাঠে মাঠে ধান ভরে গেছে, কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
শরতের বাতাসে এক আলাদা স্নিগ্ধতা, মনে হয় যেন সারা বিশ্বটাই এক শান্তির গানে গায়। নদীর তীরে বসে থাকা সরোবরের জলে, সূর্যের রশ্মি তাতিয়ে দেয়। দূরে কোথাও কাকের কা কা, আর তাতে মিশে যায় শিশিরের মিষ্টি সুর।
বিকেলের আলো যখন কমে আসে, তখন প্রকৃতির এই সৌন্দর্য যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে। গাছের ছায়ায় বসে থাকা মেয়ে-বুড়িরা গল্প করছে, তাদের কথায় মিশে আছে প্রাচীন ইতিহাস। শিশুরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে, হেসে খেলছে—এ যেন শরতের এক আনন্দযাত্রা।
শরৎকাল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যে জীবন মাত্রই এক মহাসমুদ্র, এবং এর প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত আমাদের কিছু শেখায়। এই ঋতু শুধু প্রকৃতির নয়, আমাদের অন্তরেরও এক নতুন সূচনা। শরৎ, তুমি এলেই মনে হয়, জীবন আরও রঙিন, আরও সুন্দর।
আমার মায়ের অনুপ্রেরণায় আমার লেখালেখির জগতে আসা। যদিও মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনা তবে মাঝে মাঝে সময় পেলে কবিতা লেখার ট্রাই করি। আম্মুর পদ্য কবিতাগুলো আমার কাছে দারুণ লাগে। কি চমৎকার করে স্বরবৃও ছন্দে লিখেন। ৮ ৬ মাত্রার এই কবিতাগুলো আমি নিয়মিত ফলো করি এবং সেভাবে লেখার চেষ্টা করি,তবে দু একটি মাত্রা এদিক সেদিক হলে আম্মুর কাছে ঠিক করে নিই। আমার মায়ের লেখা কবিতার অনেক ভক্ত পাঠক আমি দেখেছি দেশ এবং দেশের বাইরেও, যা আমাকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারেও অনেকেই আম্মুর লেখা কবিতাগুলো ভীষণ পছন্দ করে, এটি আমার কাছে অনেক গর্বের। আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে আগামীতে আরো মজার মজার কবিতা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো।
এতক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে আমার ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অন্য একটি ব্লগে ততক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমি আল হিদায়াতুল শিপু। বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এর একজন ছাত্র। আমি ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি ভ্রমণ করতে অনেক পছন্দ করি। আমি মাঝে মাঝে কবিতা ও লিখি। আমার লেখা কবিতা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা পত্র পত্রিকা এবং মেগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কাব্যকলি বইতেও আমার লেখা কবিতা রয়েছে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
শরতের কাশফুলের মুহূর্তগুলো সত্যি অসাধারণ। আপনি খুবই সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন। এই কবিতাটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। কবিতার মাধ্যমে যেন শরৎকালীন সৌন্দর্যময় মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন।
শরৎকাল আসলেই সুন্দর। প্রকৃতির অপার্থিব এক সৌন্দর্যের দেখা মেলে। আপনার লেখাটা চমৎকার ছিল। এবং কবিতা টাও সুন্দর লিখেছেন। অসাধারণ ভাবে কবিতার মাধ্যমে শরৎকালের সৌন্দর্য টা ফুটিয়ে তুলেছেন। সবমিলিয়ে চমৎকার ছিল ভাই। ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
কিছুদিন আগে সন্ধ্যাকালীন মুহূর্তে শরতের প্রিয় কাশফুলের ফটো ধারণ করেছিলাম। আর সেই মুহূর্তে অনুভব করেছিলাম প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য এবং ভালোলাগার মুহূর্ত। দিনের আকাশে ছিল সাদা সাদা মেঘ আর পাশেই ছিল কাশফুলগুলো। তাই গভীরভাবে অনুভব করতে পারছিলাম শরতের দিন। যাই হোক শরৎকে কেন্দ্র করে সুন্দর কবিতা লিখেছেন। বেশ ভালো লাগলো দেখে।
খুবই দারুণ একটা কবিতা লিখেছেন আপনি। আসলে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে যখন সুন্দর সুন্দর কবিতা গুলো পড়তে পারি। আমি নিজেও মাঝে মাঝে কবিতা লিখার অনেক বেশি চেষ্টা করি। কিন্তু আপনাদের মত হয়তো এত সুন্দর হয় না। প্রত্যেকটা লাইন খুবই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ইন্টারনেট সমস্যার কারণে আপনি পোস্ট করতে পারেননি জেনে সত্যিই খারাপ লাগলো ভাইয়া। এরকম পরিস্থিতিতে অনেক খারাপ লাগে। আপনার লেখা কবিতা পড়ে অনেক ভালো লাগলো। চমৎকার কবিতা লিখেছেন আপনি।
তোমার কবিতার মাঝে যেভাবে শরৎকালকে উপস্থাপন করেছো, তা নিঃসন্দেহে মনে রাখার মত। তোমার কবিতা পড়ে অভিভূত হলাম। কি চমৎকারভাবে শরতের রূপের বর্ণনা করেছ। তোমার জন্য অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইল। আগামীতে আরও সুন্দর সুন্দর ব্লগ আশা করছি তোমার কাছে।