"বৃষ্টির দিনে মায়ের স্পেশাল ভালোবাসা"
নমস্কার
বৃষ্টির দিনে মায়ের স্পেশাল ভালোবাসা:
বন্ধুরা,প্রতিনিয়ত আমি ভিন্ন ভিন্ন পোষ্ট করতে ও লিখতে ভালোবাসি।তাই আজ আমি আপনাদের সামনে আবারো উপস্থিত হয়েছি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি পোস্ট নিয়ে। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে বৃষ্টির দিন সম্পর্কে আমার নিজস্ব অনুভূতি শেয়ার করবো।আসলে বৃষ্টির দিনে মায়েরা স্পেশাল কিছু করে থাকেন আমাদের জন্য!তারা তাদের ক্লান্ত শরীর নিয়েও হাসিমুখে আমাদের খুশিতেই লেগে থাকেন সর্বদা। আশা করি অনুভূতিটি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে।যাইহোক তো চলুন শুরু করা যাক----
বর্ষাকাল মানেই গরম গরম চায়ে এক চুমুক সঙ্গে মজার মজার ভাজাপোড়া রেসিপি খাওয়া।উহ, বেশ জমে যায় তাইনা!বিশেষ করে সেটা যদি হয় কোনো বীজ জাতীয় ভাজা তাহলে তো আর কথাই নেই।বৃষ্টির দিনে মন যেন শুধু খাই খাই করে আর বড্ড বেশি খিদে পায় ভাজাপোড়া খেতে,যেন আলাদা একটা তৃপ্তি অনুভূত হয়।যে তৃপ্তি মনে প্রশান্তি এনে দেয় বৃষ্টির ফোটার রিমঝিম শব্দের মতোই। বৃষ্টির দিনে এই রেসিপিগুলি একদম সময় উপযোগী হয়।আসলে নানা ধরনের বীজ ভাজি গন্ধে যেন পুরো বাড়ি ছড়িয়ে যায় সঙ্গে টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ।এমন সময়ে যদি কোনো রোমান্টিক মুভি কিংবা হরর মুভি দেখতে দেখতে কড়মড় শব্দে মায়ের দেওয়া এই স্পেশাল ভাজা রেসিপিগুলি কখন যেন শেষ হয়ে যায়।ভালো সময় কাটানোর অন্যতম উপায় এটা আরকি!যেটা শুধু মায়ের ভালোবাসার জন্যই পাওয়া যায়।আর বৃষ্টির দিনে লুডু কিংবা দাবার গুটির চাল চালতে চালতে কিন্তুও এই ভাজাগুলি কাজে আসে।
ছোটবেলা থেকেই আমার মা কুমড়ো বীজ,শিম দানা ও বরবটি দানা বাড়িতেই পাকিয়ে রাখতেন বেশি করে।তারপর অসময়ে এগুলো মাছ দিয়ে যেমন তরকারি করে খাওয়াতেন তেমনি আবার বৃষ্টির দিনে বাটি ভর্তি ভাজি নিয়ে হাজির হতেন আমাদের সামনে।হয়তো আমরা এইসব দানার কথা ভুলেই যাই, কিন্তু মায়েরা কখনোই ভোলেন না।তারা আমাদের আনন্দের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন।আমার বিশ্বাস প্রতিটা মায়েরা এমনই হয়,ম্যাজিকের মতো আমাদের মন ভালো করতে নিজের ক্লান্ত শরীর নিয়ে আমাদের খুশিতেই লেগে থাকেন সর্বদা।
মায়েরা এমনিতেই বিশেষ।তারপরও বৃষ্টির দিনে আরো বিশেষ হয়ে থাকেন আমাদের জন্য।আমার মা তো প্রত্যেক বছর বেশি বেশি দানা পাকিয়ে কৌটো ভর্তি করে রেখে দেন অসময়ে খাওয়ার জন্য।যদিও শহরে থাকতে এটা সম্ভব হতো না।কিন্তু নিজ হাতে সবজি লাগিয়ে তা পাকিয়ে পরের বছরের জন্য বীজ সংরক্ষণ যেমন করে থাকেন তেমনি বাড়তি খাওয়ার তৃপ্তিও পাওয়া যায়।এই বছরও তেমনি মিষ্টি কুমড়া বীজ,বরবটি দানা এবং শিমের দানা রেখেছিলেন কৌটো ভর্তি করে।তারপর বৃষ্টির দিনে আমরা যখন ঘরবন্দি জীবন কাটায় তখন আমাদের মুখরোচকের জন্য ভেজে দেন এই সমস্ত বীজগুলো।কখনো আবার বাদাম ভাজা ও মটর ভাজিও বাদ যায় না এই তালিকা থেকে।এগুলো ভাজতে একটু সময় লাগলেও আলাদা উপকরণের প্রয়োজন হয় না।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে, এই বীজগুলো ভাজা হলেও সবাই আবার খাওয়ার পদ্ধতি জানে না।বিশেষ করে মিষ্টি কুমড়া বীজ থেকে তো আমার বাবা মা গোটা শাঁস বের করতেই পারে না চেষ্টা করেও তাই তাদের খাওয়াও হয় না।অনেকেই আছেন এই তালিকায়,যাইহোক আমি আবার মিষ্টি কুমড়ার গোটা শাঁস বের করতে খুবই পটু তাই এটাতে মাঝে মাঝেই তাদেরকেও সাহায্য করি।যাইহোক সবথেকে শিমের দানা খেতে মজা বেশি।শিমের দানা ভাজি হলেই মাঝবরাবর ফেটে হা হয়ে যায়।এটা খেতে সবাই এক্সপার্ট।আবার বরবটি দানা তো অনেকেই খোসাসহ খেয়ে থাকেন।আমি বাপু,আবার খোসাসহ কোনো দানা খেতে পারি না, সব বীজের খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে তবেই খাই।যাইহোক এগুলো খেতে যেমন মজার, তেমনি মুখরোচক তেমনি আবার খুবই উপকারী।মিষ্টি কুমড়া দানা তো বাজারে বিক্রিও হয়ে থাকে চড়া দামে।যাইহোক এই সমস্ত ভালোবাসাগুলি বৃষ্টির দিনেই একমাত্র মেলে মায়ের গোপন কুঠুরি থেকে,,,,,,হি হি☺️☺️।
পোষ্ট বিবরণ:
শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
---|---|
ডিভাইস | poco m2 |
অভিবাদন্তে | @green015 |
লোকেশন | বর্ধমান |
আমার পরিচয় |
---|
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।
টুইটার লিংক
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Thanks.
বৃষ্টির দিন মোটামুটি সবার কাছেই খুব স্পেশাল একটা দিন। অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃষ্টির দিনে আলাদা কিছু করতে এবং খেতে ইচ্ছা করে।বৃষ্টির দিনে আপনার মা আপনাকে মজাদার মজাদার সব জিনিস তৈরি করে খাইয়েছে।কুমড়ো বিচি ভাজা সিম ভাজা এবং বরবটি ভাজা আসলেই খেতে খুবই মজা।বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এসবের স্বাদ যেন অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে যায়।যাই হোক সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া, বৃষ্টির দিনে কেন জানি এগুলোর স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়।ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকেও।
আমাদের বাড়িতে আগে শিমের গাছ সহ অন্যান্য সবজির গাছ লাগানো হতো। আর শেষের দিকে গিয়ে কিছু সবজি গাছে রেখে দেওয়া হতো বিজের জন্য। আর সেগুলো পরে আমার মা ভেজে দিতেন। তবে অনেকদিন আর শিমের বিচি খাওয়া হয়না। বেশ কিছুদিন আগে বাজার থেকে কিনে খেয়েছিলাম। ঠিকই বলেছেন আপু বৃষ্টির দিনেই শুধু মায়ের গোপন কুঠুরি থেকে এ সমস্ত খাবারগুলো বের হয়। বেশ ভালো লাগলো ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল।
আপু,বাজারের বীজগুলো ভালোভাবে পাকিয়ে শুকানো হয় না বলে বেশি টেস্টি লাগে না।তবে আপনাদের গ্রামের বাড়িতে চাইলে বাড়িতেই শিমের বীজ সংরক্ষণ করতে পারেন।ধন্যবাদ, সুন্দর মতামত তুলে ধরার জন্য।
বৃষ্টির দিনে ভাজাপোড়া খেতে সত্যিই অনেক মজা।আসলে মায়ের কোন তুলনা হয় না। মা তার সন্তানের জন্য কত কিছু করে। আর এটাই হলো মায়ের ভালোবাসা।সবজির বীজ ভাজা দেখে অনেক লোভ লেগে গেল।মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেতে অনেক মজা। আমিও এরকম করে ভেজে খাই খেতে অনেক সুস্বাদু। ধন্যবাদ আপু পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু,মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেতে আসলেই মজার।ধন্যবাদ আপু।
শিম দানা আমার ভীষণ প্রিয় কিন্তু, প্রায় গাড়িতে যাতায়াত করার সময় কিনে খাওয়ার চেষ্টা করি হি হি হি।মিষ্টি কুমড়া বীজ ছোটবেলায় প্রচুর খেতাম কিন্তু এখন আর খাওয়া হয় না।
ভাইয়া, মিষ্টি কুমড়ার বীজ কিন্তু খুব সহজেই সবজি কিনলে পাওয়া যায়।আর খেতেও অনেক সুস্বাদু ও উপকারী তাই এটা খাওয়ার চেষ্টা করবেন।আপনার মন্তব্য পেয়ে ভীষণ ভালো লাগলো, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
বৃষ্টির দিন আসলে ভাজাপোড়া জিনিস খেতে অনেক বেশি ভালো লাগে, এটা তো ঠিক। বিশেষ করে সেগুলো যদি হয় মায়ের হাতের তাহলে তো কোন কথাই নেই। আমি অবশ্য এই ধরনের বীজ কখনো ভেজে খাইনি, বিশেষ করে কুমড়োর বীজ। এটা যে খাওয়া যায় সেটা আজকেই জানতে পারলাম। যাইহোক, তারপরও ভালো লাগছে এটা দেখে যে, বৃষ্টির দিনে এত সুন্দর একটা আয়োজন নিয়ে তোমরা একসাথে বসেছো সবাই।
কি বলো দাদা,তুমি তো দারুণ জিনিস মিস করছো।কুমড়ো কিনলে এইবার ওর বীজ শুকিয়ে ভেজে খাবে কেমন।এটা যেমন টেস্টি খেতে তেমনি শরীরের জন্য উপকারী, ধন্যবাদ।