আমার আবেগ - একুশে ফেব্রুয়ারি।
হ্যালো আমার প্রিয় বন্ধুরা। আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন। আমরা যারা বাংলাভাষাভাষী আছি তারা এ দিনটাকে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছি অনেক আগে থেকেই। এ ভাষার সাথে মিশে আছে আমাদের আবেগ, ভালোবাসা, আনন্দ, দুঃখ সবকিছু। কত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই ভাষা সেটা হয়তো কখনো দু'চারটে লাইব্রেরীর মোট বই দিয়েও প্রকাশ করা যাবে না ।
বাংলা ভাষা হচ্ছে আমার মায়ের মুখের থেকে পাওয়া ভাষা। যেদিন আমি এই পৃথিবীতে এসেছি তারপরে প্রথম যে ভাষাটা আমার কানে এসেছে সেটি হল বাংলা ভাষা। এ ভাষার প্রত্যেকটা অক্ষরে অক্ষরে লেগে আছে শহীদদের পবিত্র রক্ত। আমার নানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের এবং বায়ান্নর অনেক গল্প শুনেছি গুরুজনদের কাছ থেকে। আমার নানার মুখ থেকেও অনেক গল্প শুনেছি। তারা ভাষার জন্য লড়াই করেছে। মা-বোনেরা ইজ্জত হারিয়েছে। প্রতিটি পদে-পদে লাঞ্চিত হয়েছে বাঙালিরা। কিন্তু এত ত্যাগের পরেও বাঙালিরা নিজের মুখের ভাষা ছাড়েনি। তারা পারেনি কেড়ে নিতে আমার মায়ের মুখের ভাষা।
আজ আমি এই পোষ্ট যখন শেয়ার করব তখন হয়তো ২২ তারিখ পড়ে যাবে। কিছুক্ষণ আগেই অর্থাৎ রাত নয়টার দিকে আমাদের কমিউনিটি তে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে একটি বিশেষ হ্যাংআউটের আয়োজন করেছিলেন আমাদের সবার প্রিয় দাদা। হ্যাংআউটে সবার উপস্থিতি দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত ছিলাম। অনেকেই নিজের মাতৃভাষার উপর শ্রদ্ধা রেখে কবিতা আর গান পরিবেশন করেছিলেন। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির ফাউন্ডার অর্থাৎ আমাদের দাদা আমাদের এই পরিবারটাকে এমন ভাবে গুছিয়ে দিয়েছেন, যে সবাইকে যেকোনো জরুরী প্রয়োজনে বা জরুরী হ্যাংআউটে ডাকা মাত্রই সকল কাজ ফেলে ছুটে চলে আসেন এই মিলন মেলায়। এ বিষয়টা সত্যিই আমাকে খুবই ভালো লাগায়।
আমাদের এই কমিউনিটিটা বাংলা ভাষা ভিত্তিক একটি কমিউনিটি। এই ব্লকচেইন প্লাটফর্মে আমরা যে নিজের ভাষায় কথা বলতে পারব, নিজের ভাষায় আমাদের কনটেন্ট গুলো শেয়ার করতে পারব এটা একসময় ছিল অকল্পনীয়। সেটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র দাদার উদ্যোগে। আর আমার আজকে একটা বিষয় ভেবে খুবই ভালো লাগলো যে এই বাংলা ভাষা ভিত্তিক কমিউনিটিতে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে পেরেছি। ভাষা শহীদদের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় উপহার হচ্ছে দোয়া। আমি হ্যাংআউটে সবার কাছে ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া চেয়েছি। আমি এই পোস্টের মাধ্যমে আবারও সবার কাছে অনুরোধ করবো সবাই যেন তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করে। তাদের জন্যই আজকে আমরা স্বাধীন। নিজের মনের ভাব বাংলা ভাষায় প্রকাশ করতে পারি। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারি। কারোর অধীনে আমাদের থাকতে হয় না। নিজের খেয়াল-খুশি মতো নিজের ইচ্ছামত যেটা খুশি সেটা করতে পারি। রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত কিছু নিয়ম কানুনের মধ্যে থেকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা সুন্দরভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ পেয়েছি। এই ঋণ আমরা কখনোই শোধ করতে পারবো না।
বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের পশ্চিমা কালচার লক্ষ করা যায়। বাঙালি সংস্কৃতি বাঙালিরাই যদি বুকের মধ্যে লালন করতে না পারে তাহলে বিদেশীরা কিভাবে সম্মান করবে? আমি অনেক লক্ষ করেছি যে ভিনদেশিরা বাঙালিদেরকে অনেক নিচু নজরে দেখে। কিন্তু আসলে কি তাই? আমরা কি নিচু? বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাই একমাত্র ভাষা যেটার জন্য বাঙালিরা জীবন দিয়েছে। আর এ জাতিকে ছোট করে দেখাই নিচু মনমানসিকতার পরিচয়। কিন্তু এখানে আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেক কুল বয় আছে। যারা ইংরেজিতে কথা বলাটাকেই তাদের ভাষায় স্মার্টনেস মনে করে। এসব ছাগলের দলকে পরাধীনতার খাঁচায় যদি বন্দী করে রাখা যেত তাহলে বুঝতে পারত এই স্বাধীনতা মূল্য, এই ভাষার মূল্য।
আসুন আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে বুকে ধারন করি। নিজেদের ভাষাকে ভালোবাসি। অন্য ভাষায় কথা বলার প্রয়োজন ব্যতীত, সব সময় নিজেদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করি। গালাগালি থেকে বিরত থাকি। এই পবিত্র ভাষাকে ব্যবহার করে গালাগালি দিয়ে নিজের ভাষাকে অপবিত্র না করি । উপলব্ধি আমরা তখনই করতে পারব যদি আমাদের পুরো একটি দিন বাংলা ভাষা ব্যবহার না করে কাটাতে বলা হয়। আমার কাছে বিষয়টি খুবই কঠিন মনে হবে। যেমনটি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলে হয়ে থাকে। পরিশেষে আমার সেই সকল শহীদ ও গাজী ভাই বোনদের কে শ্রদ্ধা জানাই যাদের জন্যই আজকে আমাদের এই মধুর ভাষা, যাদের জন্য আমরা স্বাধীন, যাদের জন্য আমরা আমাদের মায়ের ভাষা ফিরে পেয়েছি। শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে আমার আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি। ভাল থাকবেন সবাই। আল্লাহ্ হাফেজ।
250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। এই ভাষার সাথে মিশে রয়েছে আমাদের আবেগ ও অনুভূতি। এই ভাষার মাধ্যমে আমরা আমাদের সুখ, দুঃখ প্রকাশ করি। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জীবনের এক বিশেষ দিন। এই বিশেষ দিনে আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলে একত্রিত হয়ে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি। যারা আমাদের এই বিশেষ দিনটি উপহার দিয়েছেন এবং নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জন করে দিয়েছেন সেই ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই হাজারো সালাম। আর সেই সাথে তাদের জন্য রইলো অনেক অনেক শ্রদ্ধা, দোয়া ও ভালোবাসা। অনেক সুন্দর একটি পোষ্ট সকলের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া। আপনার জন্যও শুভকামনা রইলো।
প্রত্যেকটি বাঙালির উচিত আমাদের ভাষাকে অনেক যত্নে আগলে রাখা। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
বাংলা আমার মাতৃভাষা আর মাতৃভাষায় কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর এই ভাষার জন্য একদল ছাত্র সমাজ নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছে। এই দিনটি পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে আছে এর আগে কোন জাতির ভাষার জন্য এইভাবে প্রাণ দিতে হয়নি এটা অবিস্মরনীয় ঘটনা। শহীদদের স্মরণ উপলক্ষে আপনার স্মৃতিগাঁথা অনেক কিছুই শেয়ার করলেন যা থেকে অনেক কিছু শিখতে এবং জানতে পারলাম।
সত্যি আমরা গর্বিত আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি। ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং তাদের জন্যই আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি। আমরা গর্বিত । এটা ঠিক যে বিদেশীরা আমাদের ছোট চোখে দেখে আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে।আসলেই অনেক আবেগ ভালোবাসা দুঃখ সবকিছুই মিশে আছে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মোর বাংলা ভাষা
আপনি যেমন বলেছেন ভাই, এ সমস্ত পশ্চিমা কালচার প্রিতির মানুষগুলোকে আসলে পরাধীন করে রাখা উচিত। তাহলেই একমাত্র স্বাধীনতা আর নিজ ভাষার মর্যাদা এরা বুঝতে পারবে। নিজ দেশের ভাষা এবং স্বাধীনতাকে যারা মূল্যায়ন করতে না জানে তারা কখনোই প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। আপনার নানা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। এরা হচ্ছেন জাতির সূর্যসন্তান। মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে আপনার এই আর্টিকেলটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য
আপনি ঠিকই বলেছেন ভাইয়া বাংলা ভাষা হলো মায়ের ভাষা। জন্মের পর থেকে যে ভাষা শুনে বড় হয় তাহলো বাংলা ভাষা। এই বাংলা ভাষায় কথা বললে মনের প্রশান্তি ঘটে আর কথা বলার মাঝে এক ধরনের শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়। একদিন যদি এই ভাষায় কথা না বলি তাহলে নিজেকে খাঁচায় বন্দি পাখির মতো মনে হবে। বাইরে আছি তবু হাত পা নাড়াতে পারছিনা। তাই বলতে চাই বাংলা ভাষা চির অমর হোক। আর যারা এই ভাষার জন্য নিজের জীবনকে শাহাদাত বরণ করতে পিছুপা ঘটেনি তাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটা বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
সেই সময়টা ছিল আমাদের জন্য অনেক ভয়ঙ্কর ওরা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। হায়নার দল এরা এই জন্য আমাদের দেশের সোনার ছেলেদের উপর এক নির্মম ভাবে অত্যাচার শুরু করে দেয়। কিন্তু আমার দেশের বীর সন্তানরা এসব অত্যাচারকে পরোয়া না করে তারা আন্দোলনে নেমে পরে। এবং হায়নাদের কবল থেকে আমাদের ভাষাকে মুক্ত করে বাংলা ভাষা আমাদের প্রাণের ভাষা তে রূপান্তরিত করে। শ্রদ্ধা জানাই এমন গর্বিত মায়ের সন্তানদের প্রতি।
ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর করে আপনার মনের ভাবগুলো প্রকাশ করেছেন। তবে সত্যিই গতকালকে হ্যাংলা ছিল আমাদের জন্য স্পেশাল একটি হাংআউট। কারণ আমাদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আমাদের জন্য দাদা এরকম একটা আয়োজন করবে সেটা আমি দাদার মেসেজ না দেখার আগ পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারেনি। সবাই এসেছে অনেক কথাবার্তা বলেছে তবে খারাপ লাগার বিষয় হচ্ছে এটা আমরা বাঙালিরা আমাদের মাতৃভাষা আমার ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার মর্যাদা আমরা করিনা। অনেক কিছু অসহনীয় হয়ে পড়ে থাকে দেখে না দেখার মত থাকতে হয়। তবে আপনি আপনার মনের ভাব খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সত্যিই আমরা যে আমাদের মাতৃভাষায় ব্লগিং করতে পারছি এটা কল্পনার বাইরে ছিল। আর আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি তে আমি কাজ করবো এটাও সত্যি এখন ভাবতে খুবই অবাক লাগে। দাদার জন্য প্রতিনিয়ত এই দোয়া করি যাতে আল্লাহ দাদাকে সর্বদাই সুস্থ রাখে। কারণ আমাদেরকে এমন একটা কমিউনিটি উপহার দিয়েছে যেখানে আমরা আমাদের মাতৃভাষা ব্লগিং করতে পারছি। কালকে সবার উপস্থিতি দেখে খুবই আনন্দ লাগেছে এবং ভাল লেগেছে এবং আপনারা সবাই অনেক সুন্দর করে মাতৃভাষার মনের ভাব প্রকাশ করেছেন। আর আজকে আমাদের সাথে এত সুন্দর করে শেয়ার করার জন্য আপনার প্রতি রইল ভালোবাসা অবিরাম।
আমরা যে মাতৃভাষায় ব্লগিং করতে পারছি এটা সত্যি আমাদের জন্য বিশাল পাওয়া।
আমি বাংলায় কথা বলি এর জন্য আমি গর্বিত। এক কথায় আমার মাতৃভাষাকে নিয়ে আমি গর্বিত। যারা এই বাংলা ভাষার জন্য নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে তাদের জন্য অঢের ভালোবাসা। সত্যিই শহীদের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে মর্যাদা করা উচিত। প্রিয় মাতৃভাষা কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। আপনি অনেক সুন্দর লিখেছেন ভাইয়া পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
বাঙ্গালীদের বিশেষ এই দিনে অনেক সুন্দর একটি হ্যাংআউটে আয়োজন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ এই হ্যাংআউট আমার খুবই ভাল লেগেছিল। ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। অনেক সুন্দর ভাবে আপনি আপনার অনুভূতি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন ভাইয়া। আপনার অনুভূতি গুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমার কাছেও ভালো লেগেছে হ্যাংআউট টি। আপনাকে ধন্যবাদ আপু।
আসলেই কোনো প্রক্রিয়াকরণ এর দরকার নেই।আর সত্যি বলতে আমরাই আমাদের ভাষাকে ছোট করি।
আমাদের উচিত আরও বেশি যত্নশীল হওয়া। ধন্যবাদ আপু আপনাকে।