কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। বন্ধুরা আজ আবার নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। বন্ধুরা নতুন কিছুকে দেখা বা অবলোকন করা সব সময়ই একটা মজার ব্যাপার। এটা শুধু আমার জন্য না, দুনিয়ার সবার ক্ষেত্রেই এমন হয়। সেটা হোক কোন ঐতিহাসিক জায়গা বা কোন সৃষ্টি যেটাই বলি না কেন?
আজ আমি আমার জীবনের প্রথম দেখা এক ক্ষুদ্র একটি জিনিস দেখার অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। ক্ষুদ্র বলছি এই কারণে যে বিষয়টি আমার কাছে হয়তো নতুন কিন্তু আমার বাংলা ব্লগে এমন অনেকেই আছেন যারা এই দেখাটাকে খুব সামান্য বা নরমলি ভাবেই চিন্তা করবেন।
বন্ধুরা চলুন তাহলে শুরু করা যাক আমার আজকের পোস্টেটি |

আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই শুনে আসছি বরিশালের লঞ্চগুলো নাকি অনেক বড় বড় হয়। খুব কিউরিসিটি জাগত তখন থেকেই যদি একবার বরিশালের লঞ্চে একবার উঠতে পারতাম বা দেখতে পারতাম। আমি কিন্তু আমার বাড়ি মাদারীপুর থেকে অনেক অনেকবার ঢাকায় গিয়েছি। তখন আমি পড়তাম ক্লাস থ্রি কিংবা ফোরে। তখন আমাদের বাড়ির কাছেই লঞ্চঘাট ছিলো, আমি আমার বাড়ির কাছ থেকেই লঞ্চে করে ঢাকায় যেতাম। তখন আমি যে লঞ্চে যেতাম সেটা ছিলো এম ভি টিপু। ওই লঞ্চগুলো ছিলো মাঝারি মানের, দুই তলা বা কিছু বড়।

যাই হোক এবার আসা যাক মুল কথায়। আজ অফিস শেষ করে চাচাতো ভাইকে ফোন দিলাম। সে আমার অফিসের সামনে আসলে আমারা দুজনে ঝালমুড়ি খেয়ে বরিশাল লঞ্চঘাটের দিকে গেলাম। এর আগে ও আম একবার বিকেলে গিয়েছিলাম কিন্তু ভিতরে যাইনি কারণ আমি ভিতরে যেতে কিছুটা ইতস্ততবোধ করছিলাম তাছাড়া বিকেলে লঞ্চের ভিতরটা আলো বন্ধ থাকে বলে তেমন একটা ভালো লাগে না।

আমি এবং আমার চাচাতো ভাই সরাসরি লঞ্চের কাছে চলে গেলাম। ভিতরে যেতে গেটে দশ টাকা করে দিতে হয় কিন্তু আমরা টাকা না দিয়েই পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম। ঘাটে লঞ্চ ছিলো মাত্র তিনটি। তিনটি লঞ্চ ই ছিলো অসাধারণ এবং অনেক বড় বড়। আমি তো লঞ্চের ভিতরে গিয়ে অবাক! এতো সুন্দর লঞ্চ বাংলাদেশে আছে কল্পনাই করা যায় না। আপনারা না দেখলে বিশ্বাস ই করতে পারবেন না যে কতো সুন্দর লঞ্চ। লিফট, এসি, মসজিদ, টিভি, ড্রয়িংরুম কি নাই সেখানে।

আপনারা যারা বরিশালের মানুষ তাদের কাছে হয়তো বরিশালের লঞ্চ সাধারণ হতে পারে কিন্তু আমরা যারা অন্য জেলার মানুষ তাদের কাছে বরিশালের লঞ্চ আসলেই অনেক কিছু। আমি আমার জীবনে প্রথম বরিশালের লঞ্চে উঠে লঞ্চের ভিতরের যে সৌন্দর্য, যে দৃশ্য সেগুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। তিনটি লঞ্চের মধ্যে আমি দুটি লঞ্চে উঠেছি, একটি লঞ্চে উঠতে পারিনি সময় স্বল্পতার কারণে। আজ প্রথম পর্বে আমি প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের ভিতরটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। পরবর্তি পর্বে সুন্দরবন এগারো এর ভিতরের দৃশ্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।

বন্ধুরা এই ছিলো আমার আজকের পোষ্ট। জানিনা কার কাছে কেমন লেগেছে। তবে অনেক কষ্ট করে আপনাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করে আমার পোস্ট টি ভিজিট করার জন্য সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা।
পোস্টের সাথে সম্পর্কিত যা যাঃ |
ডিভাইস | Techo provoir 4 |
ক্যামেরা | 13MQUAD |
ক্যামেরায় | @azizulmiah |
লোকেশন | বরিশাল |


আমি আজিজুল মিয়াঁ, আমার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। আমি জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে ম্যানেজার পদে কর্মরত আছি। লিখতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। আমি ছোট বেলা থেকেই কম-বেশি লেখা-লেখি করতাম। লেখা-লেখির পাশা-পাশি আমি ঘুরতে এবং খেলা-ধুলা করতে অনেক পছন্দ করি। সময় পেলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হই। অতিরিক্ত কথা বলা এবং মিথ্যা কথা বলা আমি সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করি।




মাঝে মাঝে ভিন্ন কিছুর অভিজ্ঞতা হলে ভালই লাগে। যদিও কখনো লঞ্চে ওঠা হয়নি। তবে আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফি দেখে মনে হচ্ছে ভেতরটা বেশ সুন্দর। কিন্তু কেন জানি লাঞ্চে উঠতে আমার ভীষণ ভয় লাগে। মনে হলেই ভয় লাগে। প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের ভেতরটা দেখতে সত্যি অনেক সুন্দর লাগছে।
সত্যি আপু বরিশালের লঞ্চগুলো যে কতো সুন্দর আপনি না দেখলে বুঝবেন না।
আপনার জীবনে প্রথম বরিশালের লঞ্চে উঠার অনুভূতি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আসলে আমারো কোনদিন লঞ্চে ওঠার সুযোগ হয়নি। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বুঝতে পারলাম লঞ্চ এর ভিতরটা অনেক সুন্দর হয়ে থাকে। আর লঞ্চের ভিতরের পরিবেশটা দেখি বেশ সুন্দর। যাইহোক ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ।
বরিশালে লঞ্চগুলি আসলেই দেখার মতো ভাইয়া।
আমিও একবার লঞ্চে করে ঢাকা থেকে বরিশাল গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে কি এই লঞ্চ গুলো এত বড় মনেই হয়না যে লঞ্চে অিাছি। মনে হয় যেন কোন পাচ তারকা হোটেল্ । দুঃখের বিষয় পদ্মা সেতুর কারনে ধিরে ধিরে এই লঞ্চগুলো সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আমিও শুনেছি বরিশালের লঞ্চ নাকি অনেক বড় বড় হয় এবং ভেতরকার দৃশ্য অনেক সুন্দর কিন্তু আগে কখনোই ওঠা হয়নি আগে বলতে এখন পর্যন্ত ওঠেনি। অবশেষে আপনি আপনার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বরিশালের লঞ্চে উঠেছেন এবং সেখানে মনোরম দৃশ্য দেখেছেন অবশ্যই সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তবে পাশ কাটিয়ে টাকা না দিয়ে ওঠার ব্যাপারটা অনেক বেশি হাস্যকর ছিল।
আমিও জীবনে একবার লঞ্চে উঠে ছিলাম। সেও অনেক বছর আগের কথা। তবে বরিশালের লঞ্চে আর উঠা হয়ে উঠে নি। তবে শুনেছি বরিশালের লঞ্চগুলো নাকি খুব বড় হয়। আমার কিন্তু লঞ্চ দেখলেই ভয় হয়। যাই হোক আপনার জীবনে প্রথম লঞ্চে চড়ার গল্পটি বেশ ছিল।
বরিশালের লঞ্চগুলো আসলেই অনেক সুন্দর।