অসুস্থতা এবং মেয়ের প্রথম রুটি বানানোর অনুভূতি।
হ্যালো বন্ধুরা
সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় এখন আগের তুলনায় একটু ভালো আছি।
পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনে অসুস্থতা রয়েছে। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন রকম সমস্যার কারণে প্রতিনিয়ত অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন। অনেকেই আবার অসুস্থতায় ঘুরতে ঘুরতে একসময় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে থাকেন। কিছু অসুস্থতা সাময়িক আর কিছু অসুস্থতা সারাজীবনের সঙ্গী।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে থেকেই অসুস্থতা নিয়েই আমি আমার প্রতিটি দিন কাটাচ্ছি।আমি কখনো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবো না তা আগে থেকেই জানি এবং তা মন থেকে মেনে নিয়েছি।ডাক্তার ঔষধ এগুলো আমার নিত্যদিনের সঙ্গী।
ঔষধ খেতে খেতে একটা সময় গিয়ে মনে হয় আরও অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি।কারণ প্রতিটি ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।একটা রোগ সাড়ে তো আরেকটা নতুন রোগের সৃষ্টি হয়।তাই তো প্রতি তিন মাস পর পর পুরো বডির চেক-আপ করাতে হয় এই জন্য যে শরীরে নতুন কোনো রোগ বাসা বাঁধলো নাকি দেখার জন্য।কপাল ভালো তাই আমার হাসবেন্ড এর মতো একজন ভালো মানুষের সাথে আমার বিয়ে হয়েছিলো তাই আজও বেঁচে আছি এবং ভালো আছি।
এই মানুষ টি কখনো আমার রোগ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেননি বরং সবসময়ই চেষ্টা করেন আমি কিসে ভালো থাকবো সেই চেষ্টা করেন।আসলে তার গুণের কথা গুলো আমি বলে শেষ করতে পারবো না সে এতটাই গুণী মানুষ।
কয়েকদিন আগে আমার হঠাৎ করেই খুব ব্যথা বেড়ে যায়,এমন অবস্থা হয় যে কোনো কাজ করতেই পারছিলাম না।তার মধ্যে আবার ঈদ তাই আমার হেল্পিং হ্যান্ড ছুটিতে আছে তাই আমার সমস্যা আরও বেড়ে দ্বিগুণ।সকালে উঠে রুটি বানিয়ে খাওয়ার মতো অবস্থা আমার নেই তাই ক'দিন ধরেই সকাল টা চা-মুড়ি খেয়েই পার করতে হচ্ছিলো।সকালে চা-মুড়ি খেয়ে ব্যথার হাই পাওয়ারের দুটো ঔষধ খেয়ছি যাতে তাড়াতাড়ি ব্যথা কমলে সংসারের কাজ গুলো নিজের হাতে করতে পারি।আর তাতেই ঘটে গেলো বিপত্তি।ঔষধ খাওয়ার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই আমার হাত পা কাঁপা শুরু হয়ে গেলো মাথা ঘুরতেছে কোনকিছু চোখে দিখছিলাম না।আমি বুঝতে পারছি খারাপ কিছু একটা ঘটবে যদি এখন দাঁড়িয়ে থাকি।কোনোরকমে আস্তে আস্তে রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।তারপর শুধু ভগবান কে স্মরণ করছি আর মনে মনে বলছি আমার যেনো কিছু না হয়!ভিতরে ভিতরে খুবই ভয় পাচ্ছিলাম।এভাবেই দুই ঘন্টার মতো শুয়ে থাকলাম।তারপর ছোট মেয়েকে বললাম আমাকে একটু লেবু-চিনির শরবত বানিয়ে দাও।ও শরবত বানিয়ে দিলো আমি খেয়ে আরও কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলাম।বড় মেয়ে বললো মা তোমাকে উঠতে হবে না আমি রান্না করছি।সাথে সাথে দুই মেয়ে মিলে রান্নার কাজ শুরু করে দিলো।চিংড়ি ভুনা আলু ভর্তা ভাত রান্না করেছিলো দুজন মিলে।
সেদিন ওগুলো দিয়েই চলে গেলো।আমি তো বিছানা থেকে উঠতেই পারছি না দাঁড়ালেই মাথা ঘুরছে।পরেরদিন সকালে মেয়ে বললো মা আজকে আমি রুটি বানিয়ে দিচ্ছি।আমি বললাম তুমি রুটি বানাতে পারবে না,ও বললো তুমি চুপচাপ শুয়ে থাকো আমি যা হয় একটা কিছু তো করবো!যাইহোক আমি শুয়ে আছি আধা ঘন্টা পর দেখি আমার মেয়ে খাবারের থালা নিয়ে সামনে হাজির।দেখি কয়েকটা রুটি আর এক কাপ রং - চা যদিওবা আমি রং-চা খাই না। কিন্তু কিছু করার নেই সেদিন বাসায় গুঁড়াদুধ বা গরুর দুধ কোনোটাই ছিলো না তাই মেয়ে বাধ্য হয়েই রং-চা বানিয়েছিলো।খাবারের থালাটা হাতে নিয়ে আমার খুব কান্না পাচ্ছিলো এক খুশিতে আর দুই আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিলো। আমি অসুস্থ শুনলেই মা দৌড়ে চলে আসতো আর এভাবেই আমাকে আদরযত্ন করে খাবার খাওয়াতো কোনো কাজ করতে দিতো না।এটা ভেবে নিজের মনকে শান্তনা দেই যে ভগবান আমার এক মা কেড়ে নিয়েছেন কিন্তু আরও দু'টি মা দিয়েছেন যাতে আমি কখনো মা হাড়ানোর অভাব বুঝতে না পারি।
সকলে আমার মেয়েদের জন্য আশীর্বাদ দোয়া করবেন ওরা যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এবং সারাজীবন মানুষের সেবা করতে পারে সেই প্রত্যাশা করে আমি আমার আজকের ব্লগ টি শেষ করছি।
আমাদের উইটনেস কে সাপোর্ট করুন।
OR
এই ধরনের মানুষ পেয়েছেন বলেই তো জীবনটাকে সার্থক বলে মনে করছেন। আসলে ভালোবাসার মানুষটা এমনই হওয়া উচিত যে সকল বিপদে-আপদে সাথে থাকবে। আপনার অসুস্থতার কারণে আপনার দুই মেয়ে দেখছি অনেক কষ্ট করে রুটি তৈরি করেছে।
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া ভালোবাসার মানুষ এমনই হওয়া উচিৎ।দুই মেয়ে সবসময়ই আমাকে অনেক হেল্প করে।দোয়া করবেন ভাইয়া।ধন্যবাদ।
আসলে মা-মেয়ের সম্পর্ক টাই এমন দিদিভাই।মেয়েদের কিছু হলে যেমন মায়েদের কিছু ভালো লাগে না, তেমনি, মায়ের কিছু হলেও মেয়েরা চুপচাপ বসে থাকতে পারে না...। আর ভগবানের আশির্বাদে তোমার দুই মেয়েই অনেক গুণের অধিকারী। আমি প্রার্থনা করি, তারা দুইজনই যেন খুব ভালো মানুষ হয়। তোমার সুস্থতা কামনা করছি।
আসলেই তাই মা মেয়ের সম্পর্ক গুলো একেবারে অন্য রকমের হয়।মাসিমনির মতো হতে হবে তো তাই না!আশীর্বাদ করিও যাতে ওরা ভালো মানুষ হতে পারে।ধন্যবাদ মনা।
আপু আমার তো মনে হয় আপনার দেহের অসুস্থ্যতার চেয়ে মনের অসুস্থ্যতাটাই বেশী ঘিরে ধরেছে আপনাকে। আচ্ছা বলেন তো আপনার কিসের এত কষ্ট। সব কষ্ট জীবন থেকে দূর করে দেন। আপনি তো আমাদের কে কত সুন্দর সুন্দর উপদেশ দেন। সব সময় ভাববেন আপনার পাশে আমরা আছি। আপনার সোনার টুকরা দুটো মেয়ে আছে আর দাদার মত একজন ভালো মানুষ আছে। এতকিছু রেখে কেউ কি অসুস্থ্য হয়। দাৎ ফেলে দেন সকল অসুস্থ্যতা। এটা আপনার সাথে যায় না। কি সুন্দর মামুনিরা রুটি বানায় আবার সুন্দর সুন্দর রান্নাও করে । দোয়া রইল সকল অসু্স্থ্যতা কাটিয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠেন।
এটা আপনি ঠিক বলেছেন আপু দেহের অসুস্থতার চেয়ে মনের অসুস্থতায় বেশি আমার।মাঝে মাঝে মনে করি কোনোদিন কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করবো না কিন্তু সেই চিন্তা আরও বেশি আমাকে ঘিরে ধরে।আপনার দাদা এবং মেয়েরা সত্যিই অনেক ভালো কিন্তু তারপরও কেনো জানি আমি সুস্থ থাকতে পারি না বুঝি না।জ্ঞান দেওয়া ব্যক্তিরা নিজের বেলায় এরকমই হয় আপু যেমন আমি😁 দোয়া ও অনেক সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপু।
আসলে ছেলে মেয়ে যদি এরকম বাবা-মায়ের পাশে থাকে তাহলে বাবা-মায়ের আর কিছুই লাগেনা। আপনি অসুস্থ থাকার কারণে আপনার মেয়েরা অনেক যত্ন সহকারে ঘরের সব কাজ করেছিল এটা জেনে খুব ভালো লেগেছে। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে এক মা হারানোর বদলে দুই মা দিয়েছে আসলে এটাই অনেক। তারাই আপনার সেবা করবে এবং পাশে থাকবে। আপনার মেয়েদের জন্য অনেক দোয়া এবং ভালোবাসা রইলো। যেন তারা অনেক বড় হতে পারে এবং প্রত্যেকটা মানুষের পাশে থাকে আর তাদের সেবা করে। আর এভাবেই যেন আপনার যত্ন করে।
আসলে সুস্থতা যে কত বড় একটা নিয়ামত সেটা আমরা ঠিক তখনই বুঝতে পারি যখন আমরা অসুস্থ হই। আপনি তো দেখছি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন কদিন আসলে কারো এরকম কষ্টের কথা শুনলে খুবই খারাপ লাগে। পৃথিবীতে কেউই চিরস্থায়ী বেঁচে থাকতে পারেনা আমরা কেউই পৃথিবীতে স্থায়ী থাকার জন্য আসেনি মন খারাপ করবেন না ধৈর্য ধারণ করুন। যাই হোক আপনার মেয়ে প্রথম রুটি বানিয়েছে এটা জেনে খুবই ভালো লাগলো আমি মনে করি প্রতিটা মায়ের উচিত নিজের মেয়েকে সাংসারিক কিছু কাজকর্ম শিখিয়ে দেওয়ার। খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে যান এই কামনা করি।
প্রথমেই আপনার সুস্থতা কামনা করছি আপু। বেশ কয়েকদিন আগে আপনি অনেক বেশি অসুস্থ ছিলেন, এটা জেনে খারাপ লাগলো। জীবনে সুস্থ থাকা অনেক বড় প্রয়োজন। আপনি অসুস্থ থাকার কারণেই আপনার মেয়ে ঘরের কাজগুলো করেছিল এবং আপনার জন্য রুটি তৈরি করেছিল এটার জেনে ভালো লেগেছে ভীষণ । সন্তানকে যদি ভালোমতো মানুষ করা যায় তাহলে তারাই পাশে থাকে। তারাই আমাদের যত্ন করে। তাই ছোট থেকে সন্তানদেরকে ভালোভাবে মানুষ করা উচিত। আপনার মেয়ে যেন অনেক দূরে এগিয়ে যেতে পারে সেই দোয়া করি।
আপনার মেয়ে যে রুটি বানানো শিখে গেছে এটা দেখে কিন্তু আমার অনেক ভালো লাগলো। আশা করব মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরে শ্বশুরবাড়ি যেয়ে আমাদের বেয়াই বেয়ানকে খুব ভালোভাবে রুটি বানিয়ে খাওয়াতে পারবে। অবশ্য আমাদের না বানিয়ে খাওয়ালেও চলবে। আরেকটু ভালোভাবে শেখানোর চেষ্টা করুন।
আপু আপনার অসুস্থতার কথা শুনে খুব খারাপ লাগলো। দীর্ঘ ১০ বছর আপনি অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে আছেন। অসুস্থ শরীরে মনোবল শক্ত রাখতে হয়। মনোবল ভেঙ্গে পড়লে রোগ আরো বেড়ে যায়। যাইহোক আপনার দুই কন্যা নাস্তা হতে এবং রান্না তৈরি করেছে শুনে খুব ভালই লাগলো। আপনার এক মা চলে গেল কিন্তু দুটি লক্ষ্মী মা আপনাকে আল্লাহ দিয়েছে। তবে আপু আপনার সুস্থতা কামনা করি। আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া রইল ।
জ্বি আপু দশ বছর ধরে অনেক অসুস্থতা নিয়ে আমি আমার জীবন কাটাচ্ছি।আমি শুধুমাত্র মনের জোরে চলাফেরা করছি তা না হলে কবেই বিছানায় পড়ে যেতাম।হ্যাঁ আপু আমার লক্ষ্মী মেয়ে দুটো আছে বলেই এখনো অনেক ভালো আছি আমি। দোয়া করবেন আপু। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
তবে আপু আপনার মেয়ে দুটি আপনার জন্য বড় নেয়াম। মেয়েরা সব সময় মায়ের আপদ বিপদে সময় পাশে থাকে। তবে বেশি খারাপ লাগলো আপু আপনি বিগত ১০ বছর ধরে অসুস্থ। এই অসুস্থতা নিয়ে আপনি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন। শুনে খুব ভালো লাগলো আপনার মেয়ে দুটি নাস্তা হতে রান্না বান্না এবং অন্যান্য কাজ করেছে। আপনার মেয়ে দুটির জন্য দোয়া রইল। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন আপনাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে।
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া মেয়ে দুটা আমার কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ স্বরূপ উপহার।এখন আগের থেকে অনেটাই ভালো আছি,তবে মাঝে মাঝে অনেক অসুস্থ বোধ করি আবার দুইতিন দিন পর ঠিক হয়ে যায় এরকম করেই চলছে জীবন।আপনাদের দোয়া গুলো আমার জন্যই খুবই দরকার ভাইয়া।অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। 🙏