নানার বাসায় তিনদিন আমার
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
সোমবার, ১২ ই আগষ্ট ২০২৪ ইং
নানা বাসায় আমার তেমন একটা যাওয়া হয়না। তবুও আমি মাঝে মাঝে যাওয়ার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত আমার নানা-নানী বেঁচে রয়েছেন। মূলত তাদের কে দেখার জন্য মাঝে মাঝে যেতে হয় আমাকে।আর আমার নানার বাসা খুব একটা দূরে নয়। আমাদের বাসা থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূর হবে। কাছে হওয়া সত্ত্বেও আমার তেমন একটা যেতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু ছোট বেলায় খুব যেতাম নানা বাসায়।আর ছোট বেলায় যখন নানা বাসায় গিয়েছিলাম, তখন আমি পনের থেকে বিশ দিন ধরে নানা বাসায় থাকতাম। তখন আমার বহিরাগত কোন ধরনের চাপ ছিল না।আর এখন বিভিন্ন ধরনের চাপ বহন করতে হয়।আর সেজন্যই মূলত তেমন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না আমার। বিশেষ করে, এখন আমার নিজের জীবন দাড় করানোর সময় চলছে।তাই এপাশ ওপাশ ঘোরাঘুরি করা হয় না।
তিনদিন আগে আমি আমার নানা বাসায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। আসলে কুরবানী ঈদের পর থেকে কোনদিন যাওয়া হয়নি।তাই আমি আমার নানা বাসায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। এবার নানা বাসায় ঘুরতে গিয়ে বেশ ভালোই মজা হয়েছিল। এবার আমার বড় মামার ছেলের সাথে বেশ কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছিলাম।সে বাসায় ছিল বলেই এসব জায়গায় ঘোরাঘুরি করা হয়েছে। মূলত এখন সে বাসায় থাকবে।যে কোন সময় নানা বাসায় ঘুরতে গেলে তার সাথে ঘোরাঘুরি করা হবে। কিন্তু কিছু দিন আগে সে শহরের মধ্যে ছিল।সে সেখানে টিউশনি করাইতো। কিন্তু এখন সে তার নিজ বাসায় টিউশনি শুরু করে দিয়েছে।তাই এখন সে বাড়িতেই অবস্থান করবে।
তো আমি এবার নানা বাসায় গিয়ে বেশ কয়েকদিন ছিলাম। প্রায় তিন থেকে চার দিন হবে। আসলে আমি নানা বাসায় এতো দিন থাকি না কোন সময়। কিন্তু ফ্রি সময় পেয়ে এতো দিন থাকার সুযোগ হয়েছিল এবার।আর নানার বাসায় থাকতে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে।আর ছোট বেলা থেকেই আমার অভ্যাস রয়েছে নানা বাসায় থাকার। অনেকেই আছেন যারা তাদের নানা বাসায় গিয়ে একদিনের বেশি থাকতে পারেন না।আমি এখন পর্যন্ত নানা বাসায় গেলে নানা-নানীর অনেক আদর যত্ন পেয়ে থাকি। এছাড়া মামা মামীর ও আদর যত্ন রয়েছে।সব কিছু মিলিয়ে নানা বাসায় গেলে আমি অনেক বেশি আদর পেয়ে থাকি।
বেশ কিছুদিন ধরে থাকার পর আমার আর নানার বাড়িতে থাকতে তেমন একটা ভালো লাগছিল না।তাই আমি ভাবলাম বাসায় চলে যাবো। এরপর আমি আমার নানা - নানী কে বাসায় যাওয়ার কথা বললাম। কিন্তু তারা আমাকে কোন ভাবেই বাসায় যেতে দেয়ার জন্য রাজি নয়। কিন্তু আমাকে এই জায়গার মধ্যে থাকত একটু ও ভালো লাগছিল না। আসলে যে কোন জায়গার মধ্যে তিন থেকে চার দিন থাকার পর আর তেমন একটা ভালো লাগে না। এরপর আমি নানা নানীর কে জোর করে বাড়ি যাওয়ার জন্য রাজি করিয়ে নিলাম। এরপর আমি আমার ব্যাগে আমার ল্যাপটপ ও সকল ধরনের কাপড় চোপড় গুছিয়ে নিলাম।
সব কিছু শেষ করে আমি আমার নানীর হাতে শেষ বারের মত ভাত খেতে সুযোগ পেলাম। এরপর আমি আমার নানা বাসার প্রত্যেক জনের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে নিলাম। আমার নানা বাসার একদম পাশেই একটি ছোট বাজার।আমি এই হেটে হেটে ওই বাজারের উদ্দেশ্যে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পারলাম তেমন কোন অটোরিকশা নেই।আমি বেশ কিছুক্ষণ ধরে বসে থাকার পর একটি অটোরিকশা রিকশা চলে আসে। আমি এই অটোরিকশার মধ্যে উঠে পড়লাম। এরপর মাঝপথে গিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি আসে। অটোরিকশা ওয়ালা মামা আমাদের কে এই বৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমাদের কে নিয়ে যায়। আসলে, আমার কাছে বৃষ্টির মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে অনেক বেশি ভালো লাগে। এরপর আমি অল্প কিছু সময়ের মধ্যে বাসায় চলে আসি।
সবাই কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Vote@bangla.witness as witness
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.