বাস্তব গল্প: বিবাহিত নারীকে স্বার্থ ছাড়া কেউ ভালোবাসে না।।
পরম করুনাময় অসীম দয়াল মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করিতেছি।
হ্যালো বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প শেয়ার করব। গল্পটির বিষয় হলো বিবাহিত নারীকে স্বার্থ ছাড়া কেউ ভালবাসে না। আমাদের সমাজে দিন দিন পরকীয়া নামক একটা মারাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টি সমাজের কেউই পছন্দ করে না। অথচ সমাজের প্রত্যেকটা ঘরে পরকীয়া নামক রোগ রয়ে গিয়েছে। তাই এইরকমই একটি জেনারেল রাইটিং নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। আর আজকের এই ব্লকটি বিবাহিত নারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। শুধু বিবাহিতদেরই নয়, এটি অবিবাহিত নারীদের জন্য ও একটি সতর্কবার্তা।
আমি আজকে আমাদের স্কুলের পড়ুয়া কিছু মেয়ে বন্ধুর গল্প শেয়ার করব। যারা একসময় আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল। তবে ধীরে ধীরে এক একজনের বিয়ে হওয়ার পর কারো সাথেই আমার তেমন যোগাযোগ হয় না। আমার যখন বিয়ে ঠিক হয় তখন আমি আমার এক ফ্রেন্ডকে বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। তখন আমার সেই বান্ধবীটি তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি বিভীষিকাময় সময়ের কথা শেয়ার করে। যে কথাগুলো আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আমি এখানে আমার বান্ধবীর আসল নাম বলতে চাচ্ছি না। কেননা আমি তাকে ছোট করতে চায় না। তবে সমাজের মানুষকে সতর্ক করতে এই ব্লগটি লিখা জরুরী বলে আমি মনে করি।
আমাদের স্কুলে প্রীতি ও রিবা নামের দুটি মেয়ে ছিল। দুইজন দেখতে একই রকম। তাদেরকে কেউ দেখলেই মনে করতো জমজ দুই বোন। তারা লেখাপড়ায় অনেক ভালো ছিল। রিবার হঠাৎ করে ক্লাস নাইনের শেষের দিকে বিয়ে হয়ে যায়। সে এই স্কুলের একজন স্টাফের বোন ছিল। তার আবার অনেকগুলো ছেলে বন্ধু ছিল। যেহেতু স্কুলের স্টাফ তার ভাই সেহেতু সব ছেলেমেয়েরা তাকে অনেক সম্মান করতো। অন্যদিকে আমাদের স্কুলেরই একটি ছেলে প্রীতিকে খুবই পছন্দ করতো । প্রীতি ও ছেলেটিকে খুবই পছন্দ করত। তারা যখন ক্লাস টেনে ওঠে তখন প্রীতি ও নাদিম নামের সেই ছেলেটি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এইদিকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নাদিম ও প্রীতি দুইজনেই সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। তারা দুজন আলাদা কলেজে ভর্তি হয়। নাদিমের পরিবার ছিল একটু বড় পর্যায়ের। আর প্রীতির পরিবার ছিল মধ্য ফ্যামিলির। যার কারনে প্রীতির কাছে কোন প্রকার মোবাইল ছিল না। সে সুযোগ পেলে নাদিমের সাথে এক মাস দুমাস পর পর একটু একটু খবর নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করত। প্রীতির মনে নাদিমের প্রতি ভালোবাসাটা ছিল খুবই পবিত্র। প্রীতি নাদিমের অপেক্ষায় থাকতো। আর সব সময় সবার কাছে দোয়া চাইতো যেন নাদিমের সাথে তার বিয়ে হয়। তবে নাদিম রিবার সাথে প্রতারণা করেছে। নাদিম স্কুল লাইফ ছেড়ে কলেজ লাইফে গিয়ে, অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। নাদিম ফেসবুকে অনেকগুলো মেয়ের সাথে রিলেশনে জরিয়ে যায়। এমনকি তার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড রিবার সাথে ও ।
একদিন রিবার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর প্রীতির কাছ থেকে নাদিমের নাম্বারটা কথা বলার জন্য নিয়ে নেয়। অন্যদিকে রিবা নাদিম এর নাম্বার নিয়ে নাদিমের সাথে ফ্রেন্ড হিসেবে কথা বলতো। নাদিম কৌশলে রিবাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। তার কাছ থেকে কিছুদিন পরপর টাকা ধার নিতো। এমন করতে করতে, একটা সময় নাদিম আর রিবার সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়ে যায়। রিবার বিয়ের এক বছর পরে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। রিবার হাজবেন্ড বিয়ের দুমাস পরে বিদেশ চলে যায়। তারপর আর দেশে ফিরে না। রিবার সাথে তার স্বামীর সম্পর্কটা তেমন ভালো ছিল না। তার স্বামী তার সাথে মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলতো সব সময় ফোন দিত না।
একদিন গভীর রাতে নাদিম রিবার কাছে ভিডিও কল দেয়। রিবা তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ফোন রিসিভ করে। সে ভেবেছিল তার স্বামী হয়তো তার কাছে ফোন দিয়েছে। তার গায়ে ওড়না ছিলনা। এমন অবস্থায় নাদিম তার কয়েকটি স্ক্রিনশট নিয়ে নেয়। রিবা বেশি অংশই নাদিম এর সাথে কথা বলতো। একটা সময় কথা বলতে বলতে নাদিম ও রিবার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অনেক গভীর হয়ে যায়। নাদিম ছেলেটি মূলত প্রীতিকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ভালোবেসে ছিল। তবে রিবার সাথে সে একটি গেম খেলেছে। যেই গেমে রিবা তার সমস্ত কিছুই হারিয়ে ফেলেছে। রিবার স্বামীর সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকায়। তার ফ্যামিলি সিদ্ধান্ত নেই যে, রিবার স্বামীর সাথে ডিভোর্স করিয়ে নিবে। রিবা এ কথাগুলো নাদিম এর সাথে প্রকাশ করে। নাদিম তার কন্যাকে সহ বিয়ে করার আশায দেয়।যে রিবাকে সে অনেক ভালোবাসপ এবং তার মেয়েকে নিয়েই তাকে বিয়ে করবে। তাছাড়া প্রীতির সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। আর প্রীতিকে সে কখনো ভালবাসিনি।রিবাকে নাজি স্কুলের প্রথম দিন থেকেই ভালোবাসে। এই কথা শুনে নাদিমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায় রিবা।
রিবার মেয়েটির যখন সাত থেকে আট মাস তখন নাদিম রিবাকে একটি রিসোর্টে দেখা করতে বলে। তখন রিবা না করে। রিবা যখন নাদিমের সাথে দেখা করতে না বলে। তখন নাদিম তার সাথে ফোন আলাপ করার ও স্ক্রিনশট গুলো দেখায়। রিবা এরকম স্ক্রিনশট দেখে চমকে যায়। নাদিম বলে তুমি যদি আমার কথা না শুনো তাহলে তোমার স্ক্রিনশট গুলো তোমার স্বামীর কাছে দিয়ে দিবো। রিবা তার স্বামীর কাছে নাদিমের সম্পর্কে অনেক কিছুই বলেছিল। এমন কি নাদিম তার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। এখন রিবা পরেছে একটি মহা বিপদে। একদিকে তার স্বামী তাকে অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে নাদিম যদি তার সাথে কথা বলার টেক্স ও এরকম স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দেয়। তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্কটা আর টিকবে না। তখন রিবা বুঝতে পারে সে অনেক ভুল করেছে। রিবা তখন বুঝতে পারে যে, বিবাহিত নারীকে কোন পুরুষ স্বার্থ ছাড়া ভালবাসে না।
নাদিম একদিন তাকে বলে যে, সে যদি তার সাথে দেখা করে তাহলে তার সবগুলো ছবি ডিলিট করে দিবে। এমনকি সে যে টাকাটা পায় সে টাকাটাও ফেরত দিয়ে দেবে। তাই রিবা তার ৮ মাসের মেয়েকে বাসায় রেখে একটি রিসোর্টে দেখা করতে যায়। সেখানে গিয়ে সে তার সম্ভ্রম হারায়। তারপর বাসায় এসে তার হাতের মোবাইলটি বাথরুমে ফেলে দেয়। যাতে করে তার এই বন্ধু তাকে আর ডিস্টার্ব না করতে পারে। নাদিম যে এতটা খারাপ রিবা কোনদিনই ভাবেনি। তবে রিবা চিন্তা করে যে, তার জীবন তো এভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে চায় না প্রীতির জীবনটা ও এরকম ভাবে নষ্ট হোক। তাই সে আমার কাছে সম্পূর্ণ ঘটনাটা খুলে বলেছিল। যাতে করে আমি প্রীতিদের বাসায় বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এ কথাগুলো বলে আসি। আর নয়তো রিবার নাম্বারটা প্রীতির কাছে দেয়। তাহলে সে নাদিমের কুকর্ম সম্পর্কে জানাতে পারবে। রিবা আরো বলে যে, নাদিম শুধু রিবার এরকম করেনি। আরো অনেক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নোংরামি করত। এগুলো শুনে আমার অনেক খারাপ লেগেছিল। তখন পুরুষ মানুষের প্রতি আমার এক প্রকার ঘৃণা জন্মে গিয়েছিল। তখন আমার বিয়ের মাত্র দুদিন বাকি ছিলো। তখন আমার মাথায় আমার হুবু হাজব্যান্ডকে নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। শুনার পর চিন্তা করতে করতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কেননা আমার কোথায় বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আমার হাজব্যান্ড কেমন তা আমি কোন কিছুই জানিনা।
তারপর আমি প্রীতির বাসায় আমার বোনকে নিয়ে বিয়ের দাওয়াত দিতে যাই। আমি প্রীতিকে এইসব কথা কিভাবে বলব তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই তার কাছে রিবার নাম্বারটা দিয়ে বলেছিলাম যে, তুমি সুযোগ করে রিবার বাসায় যেও। আর নয়তো কিছু সময় নিয়ে রিবার সাথে ফোনে কথা বল।হয়তো তোমার ভালো হবে। আর আমার বিয়েতে অবশ্যই এসো। এই কথা বলে আমি চলে আসি।
আমার এই কথাগুলো প্রায়ই মনে পড়ে। আমাদের এই সমাজটা নোংরামিতে ভরে গিয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা অনেক মেয়েদের সাথে নোংরামি করে। তাছাড়া অনেক নারীরা আছে যারা এই সমাজে পরকীয়া নামক বীজ বপন করতে সহযোগিতা করে। আমি মনে করি এখানে রিবার এই অবস্থার জন্য রিবাই দায়ী। সে যদি কোন ছেলে বন্ধুত্ব না করতো তার এমন হতো না। তাছাড়া বিয়ের পর অন্য ছেলেদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোটা উচিত হয়নি। যার জন্য তার নিজেরই ক্ষতি হয়েছে। কি বলবো আমার বলার ভাষা নেই। বর্তমানে মোবাইলে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। তারা ফেসবুকে হাজার হাজার প্রেম করে। যেগুলো আমি একদমই অপছন্দ করি। আমাদের সমাজটা যদি, এই প্রেম ফেসবুকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতো তাহলে আমি অনেক খুশি হতাম। কেননা সিঙ্গেল লাইফ ইজ দা বেস্ট লাইফ। একদম পবিত্র ও পরিষ্কার মন থাকে সিঙ্গেল থাকলে। আর যদি এই পরকীয়া নামক বিভীষিকাতে কেউ ঢুকে যায়, তাহলে সে মানুষরূপী অমানুষ হয়ে যায়।
যাই হোক বন্ধুরা। আজ আর কথা বাড়াচ্ছি না। সকলের উপকার কামনা করে আমার আজকের ব্লগটি লেখা। আশা করি সবার কাছে ভালো লাগবে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনা করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতেছি আল্লাহ হাফেজ।
আমার পরিচিতি
আমি মোছাঃ মুসলিমা আক্তার নীলা। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @titash নামে পরিচিত। আমার জন্মস্থান চট্রাগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘর গ্রামে। আমি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে বাংলা বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতেছি। আমি বিবাহিত,আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত নারায়নগঞ্জ জেলায় বসবাস করছি। আমি আমার হাসবেন্ডের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্ম সম্পর্কে জানতে পারি। প্লাটফর্মটার বিষয়ে জেনে আমি এখানে কাজ করার আগ্রাহ প্রকাশ করি। তারপর ২০২৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্মে যুক্ত হয়। আমি ভ্রমন করতে,মজার মজার রেসিপি করতে,বই পড়তে, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে ও সৃজনশীল জিনিষ তৈরী করতে ভালোবাসি। আমি বাঙ্গালী জাতি হিসাবে ও আমার বাংলা ব্লগের সদস্য হতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি।
![image.png](
Task done
বিয়ের পর কোনো ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়ানো এটা কোনো ভালো মেয়ের দিক নয়। কারণ সব ছেলে ভালো হয় না। বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ স্বার্থের জন্য প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত রিবার জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল। বাস্তবিক এই গল্পটা এত সুন্দর করে শেয়ার করেছেন পুরোটা পড়ে ভালো লাগলো। কিন্তু সমাজের এরকম অবস্থার কথা শুনে খারাপ লেগেছে।
জ্ব আপু সমাজের এই অবনতি যে কবে ঠিক হবে 😴। আর এখানে রিবারই সম্পূর্ণ দোষ আমি মনে করি।
এমন প্রতারক দিয়ে পৃথিবীটা পুরো ভরে গিয়েছে। তাছাড়া পরকিয়া যে একদম খারাপ একটা বিষয় সেটা তো আগেই বলা হয়েছে। আপনার সেই বান্ধবী পরকীয়ার কারণে তার সর্বস্ব হারিয়েছে। আর সেই ছেলেটা অনেক মেয়ের জীবন এভাবে ধ্বংস করেছে। এর ফল একদিন তাকে ভোগ করতেই হবে। যেটার পরিণাম হয়তোবা খুব বেশি ভয়াবহ হবে। তবে সবাইকেই সাবধান হওয়া উচিত। বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত সব মেয়ে কিন্তু নিজের বেপারে সতর্ক থাকা উচিত।
জ্বি আপু সব মেয়েদের এই সেনসিটিভ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। নয়লে নিজের ভুলে নিজেই পায়ে কুড়াল মারবে।
ঠিক বলেছেন আপু। এজন্য সঠিক পথে চলা উচিত।