জেনারেল রাইটিং :- মুষলধারা বৃষ্টিময় একদিন।
আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমার আলোচনার বিষয়টি হলো মুষলধারা বৃষ্টিময় একদিন। আশা করি আজকের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনাটি আপনাদের ভালো লাগবে। তাই শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ...
আমাদের দেশ বাংলাদেশ আর এটি হল ষড়ঋতুর দেশ। তবে বর্তমান সময়ে ষড় ঋতুর দেশ বললে ভুল হবে। কারণ এখন আর সময় অনুযায়ী সবকিছু হয় না। সময়টা যেন ভিন্ন হয়ে গেছে কখন কোন সময় কি হয় সেটা বলা যায় না। এই যে ধরেন গরমের সময় ঠান্ডা ঠান্ডা সময় গরম। আবার যখন বর্ষার সময় হয় তখন বর্ষা না হয় অন্য সময় হয়ে থাকে। আসলে প্রকৃতির উপরে একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে যার কারণে বর্তমানে এই অবস্থা চলছে। তবে একটা সময় ছিল যখন প্রকৃতি তার নিজের গতিতে চলত। এখনো চলে কিন্তু তার সেই চলা টার এখন তো চলার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এই যে ধরেন গ্রীষ্ম বর্ষা এখানে গ্রীষ্মকালে গরম বর্ষাকালে বৃষ্টি। শীত বসন্ত এখানে শীতকালে ঠান্ডা পড়ে। আর এই বিষয়টি আমরা ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি কিন্তু বর্তমান সময়ে এমন আর হয় না। ধরে তবে বহুদিন পরে তিন দিন ধরে একটানা বসা হচ্ছে। আর আজকের এই বর্ষাটায় মনে করে দিয়েছে প্রায় এক যুগ বছর আগের সেই বর্ষার সময়ের কথা। আমি আজকে সেই সময়ের মুষলধারে বৃষ্টিময় একদিনের কথা আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো।
সেই সময় বর্ষার সময় বসা হবেই এটাই ছিল স্বাভাবিক। আমরা সে সময় নিয়মিত স্কুলে যেতাম কোন একটা দিনও স্কুল বন্ধ করতাম না। আর স্কুল বন্ধ না করার পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল তার মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল হচ্ছে নিজের ভালোবাসার মানুষ। তখন মনে হতো একদিন যদি তাকে না দেখা যায় তাহলে থাকা যায় না তাই নিয়মিত স্কুল করতাম। আসলে সেই সময় যেমন বর্ষা ছিল ঠিক তেমন কাঁদা ও ছিল অনেক আর তখনকার রাস্তাঘাট ছিল কাদাময়। অর্থাৎ তখন কেউ রাস্তাগুলো তো এখনকার মত পাকা রাস্তা ছিল না। তারপরও কোন সময় আমরা স্কুল বন্ধ করতাম না কারণ এই যে যেতেই হবে একটা টান বলে কথা ছিল। যাক বর্ষার সময় বসা হবে আর তখন বর্ষা ছিল সব তো মাস ধরে বসা হত। একদিন হঠাৎ করেই সকাল থেকেই বর্ষা শুরু হয়ে গেল অন্য দিন যদিও সকালের দিকে একটু সময় বসাক থাকতো না ওই সময় আমরা খুব সহজে স্কুলে চলে যেতে পারতাম কিন্তু ঐদিন আর সেটা হয়েছিল না। এদিকে স্কুলে তো যেতেই হবে যে কোন ভাবেই। যদিও সেই সময় তেমন ছাতাও ছিল না কারণ ছাতা তো মানুষের খুব কম ছিল আসলে এ সময় মানুষের অভাব ছিল বেশ। যাইহোক যেভাবেই হোক না কেন স্কুলে যেতেই হবে তাই কাগজ মাথায় দিয়ে আর একটা কাগজ নিজের মনে পড়ে নিলাম এবং বইগুলো আরেকটা কাগজের মধ্যে মোড়ে নিলাম। আর এভাবে চলে গেলাম স্কুলে।
যখন আমি স্কুলে পৌঁছালাম গিয়ে দেখি শিক্ষকমন্ডলী খুব একটা বেশি আসে নাই কয়েকজন এসেছে। ছাত্রছাত্রী উপস্থিত সংখ্যাও ছিল অনেক কম। আসলে এত কিছু করে স্কুলে যাওয়ার জন্য যেতাম সেই দেখি এখনো আসে নাই। হঠাৎ করে ভাবলাম হয়তোবা আজ আর আসবে না তাই মনটা খারাপ লাগছিল। আসলে মনের টান বলে কথা কোন কিছুই বাধা মানে না যতই বৃষ্টি হোক না কেন? সময় পেলে পার হয়ে যাচ্ছে যে সময় আমরা আসতাম সেই সময়টা অফার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তার কোন খোঁজ নেই। ভেবে নিয়েছিলাম আজ হয়তোবা আর আসবেনা কিন্তু হঠাৎ করে দেখি তার আগমন। এরপরে আমার প্রিয় কিছু বান্ধবী এবং বন্ধুরাও দেবে সাথে আসতেছে। যেহেতু স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা কম ছিল শিক্ষক মণ্ডলের সংখ্যা কম ছিল তাই আমরা একটা মুড়ি খাওয়ার পার্টি আয়োজন করলাম। আসলে বন্ধু বান্ধবী সবাই মিলে একত্রিত হয়ে বর্ষার সময় এই মুড়ি খাওয়ার বিষয়টা কিন্তু বেশ ভালো লাগে এবং আনন্দের বিষয়। আসলে ওই দিনটা তেমন ক্লাসও হয়েছিল না তাই আমরা বেশ আনন্দ করেছিলাম। বেশ কিছু খেলাধুলা ছিল সেই সময় আপনার হয়তোবা অনেকেই জানেন যে বর্ষার সময় বাড়িতে বসে থেকে বেশ কিছু খেলা করতাম যেমন লুডু খেলা চোর পুলিশ খেলা আর অন্যান্য খেলা। তাই যেহেতু ক্লাস হচ্ছিল না তাই আমরা সেই খেলাগুলো খেলছিলাম একে অপরে।
আসলে সেই সমস্ত দিনগুলো ভুলে থাকা বেশ কঠিন। এখনকার সময় ছেলেরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে বা টিভি বা সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত থাকে কিন্তু তখনকার এই সমস্ত জিনিসগুলো ছিল না। কিন্তু সেই সময় যা ছিল সে সময় জিনিসগুলো ছিল আনন্দের। একে অপরের প্রতি ছিল ভালোবাসা একে অপরের প্রতি ছিল শ্রদ্ধা ভক্তি সবকিছুই ছিল। যার কারণে সে সময়ে মুষলধারে বৃষ্টি মায়ের একটা দিন আর এই সময়ের বেশি সময় একটা দিনের ভিতরে বহু তফাৎ রয়েছে। আমরা সেখানে মুড়ি খা খেয়ে ছিলাম বিভিন্ন ধরনের খেলা করছিলাম এমনকি একটা সময় স্যারদের সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করছিলাম। এই যে প্রথমে বললাম লোকসংখ্যা যেহেতু কম ছিল তাই আমরা চেষ্টা করেছিলাম কম সময়ের মধ্যে কম মানুষের নিয়েই বেশ মজা একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করা। আসলে ওই দিনটা খুব মজা করেছিলাম ওই দিনটা ভুলে যাওয়ার মতন দিন নয়। এমন দিন ইচ্ছা করলেও আমরা আর ফিরে পাবো না। আর এসব দিনগুলো সত্যি অনেক মজার দিন আর এসব দিনগুলো ছিল আমাদের শৈশবের স্মৃতি।
আজ এই পর্যন্ত। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
ডিভাইস | poco M2 |
---|---|
লোকেশন | মেহেরপুর |
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খায়রুল আলম তুহিন। আমার জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness

OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে দুই বঙ্গেই মারাত্মক বৃষ্টি হয়ে গেল দুই দিন ধরে। এখানেও একেবারে ভেসে যাওয়ার উপক্রম। আপনার পোস্ট প্রাসঙ্গিক এবং যথাযথ হয়েছে। তবে আমাদের এখানে সমস্ত স্কুল কলেজ তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে ঘরে বসেই বৃষ্টি দেখবার সুযোগ পেলাম।
আসলে প্রতি বছর আমাদের এই সমস্ত ঘূর্ণিঝড় গুলো অনেক ক্ষতি করে যাচ্ছে।
আজ সারাদিন বৃষ্টি হলো। আমরা কখনোই প্রত্যাশা করিনা এমন ভাবে অসময়ে বৃষ্টি হোক। তবুও কিছু করার নেই। যেহারে বৃষ্টি হচ্ছে এতে অনেকের ক্ষতি। কারণ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এতে হয়তো অনেকের ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রকৃতি যেভাবে আমাদেরকে পরিচালনা করবে সেভাবে আমাদের চলতে হবে তাছাড়া কোন কিছুই করার নেই।
ভালোবাসার মানুষ কে দেখার জন্য একদিনও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতেন না এটা বেশ লাগল আমার কাছে। আর যাইহোক এই বাহানায় স্কুলে তো যাওয়া হতো। মূষূলধারে বৃষ্টির মূহুর্ত টা দারুণ লাগে আমার কাছে। ছোটবেলা যখন দেখতাম বৃষ্টি হচ্ছে ঐদিন আর স্কুলে যেতাম না হা হা।
জি ভাই এটা আপনি ঠিক বলেছেন কোন না কোন বাহানায় যে স্কুলে যাওয়া হতো এটাই অনেক কিছু। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বেশ ভালো লাগলো আপনার কাছ থেকে এত সুন্দর একটি পোস্ট পড়ে৷ আসলে প্রিয় মানুষকে দেখার মধ্যে একটি আলাদা ভালোলাগা থাকে৷ আর আপনি সেরকমই যে কোন একটি বাহানা দিয়েই স্কুলে চলে যেতেন শুনে খুবই ভালো লাগছে। ধন্যবাদ এই সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷ অনেক ভালো লাগলো আপনার এই পোস্টটি পড়ে৷
আসলে ভাই সেই সময়ে অনেক কিছু বাহানা দিয়ে অনেক কিছুই করা হতো। আর এর জন্য ওই লাইটটা বেস্ট লাইফ ছিল।