DIY: আমার নতুন ফলের বাগানে আগাছা দমন এবং নেট জাল দিয়ে বাগান সংস্কার
আজ - শনিবার
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট।
চলছে বর্ষার মৌসুম। তাই গাছ-প্রেমিকেরা চেষ্টায় থাকেন যখন বর্ষার সময় আসবে কয়েকটি করে ফলের গাছ রোপন করব। ঠিক তেমনি আমি ফলের গাছ লাগাতে পছন্দ করি। গতবার লাগিয়েছিলাম যে ফল গাছগুলো, সে ফল গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে সুন্দর হয়েছে। তবে বর্ষার সময় অনেক আগাছা জন্মায়। আমার বাগানেও তেমন আগাছা জন্ম নিয়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য আজকে আমি উপস্থিত। আজ আমি আপনাদের মাঝে খুব যত্ন সহকারে আমার ছোট্ট ফলের বাগান থেকে আগাছা দমন করে দেখাতে চাই এবং ফলের বাগানটি তারের নেট জাল দিয়ে ঘিরে দেখাতে চাই। হয়তো আমার এই সুন্দর কাজের মধ্য দিয়ে আপনারা শিখে নিতে পারবেন কিভাবে ছোট্ট একটি বাগান তৈরি করতে হয় এবং তা বাগানের আগাছাগুলো দমন করতে হয় গরু-ছাগলের অত্যাচার থেকে বাগানকে নিরাপদ করার জন্য। সুন্দর একটি দৃশ্য দেখে নিতে পারবেন তাই চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এখনই সম্পূর্ণ কার্যক্রম শুরু করা যাক।
ক্রমিক নং | নাম | পিস |
---|---|---|
১। | কাটার/হেঁসো | একটি |
২। | প্লাস | একটি |
৩। | বেড়া বাধা তার | প্রয়োজন মত |
৪। | জিআই তার | প্রয়োজন মত |
৫। | জি আই তারের বেড়া | ৩০ থেকে ৪০ হাত |
৬। | বাঁশের খুঁটি | ১০ খন্ড |
আমার ছোট্ট ফলের বাগানের নিকটে গেলাম প্রয়োজনীয় উপকরণ সাথে নিয়ে।
আমার ফলের বাগানের এক পাশের নেট ও রেলিং দিয়ে ঘেরা অংশ খুলে ফেললাম।
চেষ্টা করলাম কাটার এর মাধ্যমে আগাছা উপড়ে ফেলার। তাই প্রথমে শুরু করলাম ক্ষীর খাজুর গাছের চারা এর গোড়া থেকে।
প্রচন্ড রোদ গরম থাকায় সকাল করে কাজ শুরু করেছিলাম এবং ধীরেস্থে কাজ করার চেষ্টা করছিলাম এই জন্য যে আগাছাগুলো পরিপূর্ণ উপড়ে ফেলতে হবে এবং গাছের চারা গুলো যেন কেটে না যায় নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখছিলাম।
ক্ষীর খেজুর গাছের চারার আগাছা যখন সম্পন্ন ছাপ করা হয়ে গেল, তখন ডান সাইডে হাত লাগানোর চেষ্টা করলাম যেখানে কাঁঠালের চারা, কমলালেবু/মালটার চারা রয়েছে।
খুবই সাবধানতার সাথে কমলালেবু মালটা গাছের নিচের আগাছাগুলো উঠানোর চেষ্টা করলাম। কারণ গাছগুলোতে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন খুবই বড় বড় কাটা রয়েছে। এর দিক থেকে ওদিকে একটু ঘুরতেই কাঁটাগুলো গায়ে লেগে যাচ্ছিল। আমাদের এ সমস্ত দিকে সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি রেখেই কাজ করা উচিত।
এবার এলোভেরা গাছ গুলো খুব মনোযোগ সহকারে পরিষ্কার করলাম। পাসের আগাসা গুলো ধীরে সুস্থে উঠানোর চেষ্টা করলাম কারণ এলোভেরা গাছগুলো খুব নরম হয়ে থাকে কোন ভাবে কেটে গেলে গাছ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই যত সম্ভব চেষ্টা করলাম খুবই ধীরে। একটা দুইটা করে আগাছাগুলো উপড়ে ফেলা।
আপনারা অষ্টম ধাপে যেই গাছড়াগুলো দেখতে পারছেন এর সঠিক নাম আমার জানা নেই। অনেকেই বলে থাকে বিশল্যকরণী আবার অনেকে বলে থাকে লাল পাতা। যাইহোক এটা খুবই উপকারী একটি গাছ। হাত পা কেটে গেলে এই পাতা রস করে কাঁটা স্থানে দিলে কোন প্রকার ব্যথা হয়না কাঁটা স্থানে এবং খুব দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। এছাড়া বিভিন্ন সাপের বিষ লাগলে পারে এই পাতার রস সেই ক্ষতস্থানে দিলে দ্রুত সুস্থতা লাভ করা যায়। এ সমস্ত কারণে আমি আমার ছোট্ট ফলের বাগানটার মধ্যে ঔষধি কিছু গাছগাছড়া রেখে দিয়েছি। তাই এই গাছটা অনেক বেশি ঝাকড়া হয়ে যায় দেখতে একটু খারাপ লাগছিল, যার জন্য চারিপাশ সেটে সুন্দর করে দিলাম।
এভাবেই ধীরে ধীরে আমার সমস্ত বাগানটি পরিষ্কার করা হয়ে গেল। হয়তো এখন আপনারা আমার বাগানের ছোট্ট ছোট্ট ফল গাছগুলো ভালোভাবে দেখতে পারছেন আমার এই বাগানে অনেক ফলের গাছ রয়েছে যেমন কমলা লেবু; ক্ষীর খাজুর কাজ; মালটা; ডালিম; বেদানা; পেয়ারা; কাঁঠাল; আম; জাম; বেল; কুল ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে তুলসীর চারা; পাথরকুচি গাছ; এলোভেরা গাছ; বিশল্যকরণী; অনন্ত মূল ইত্যাদি ঔষধি গাছ। গাছগুলোকে পুনরায় সুন্দর করে ঘেরার জন্য তারের জাল নিয়ে রেডি হলাম।
বাগানটি চারিপাশে বাঁশের খুটি লাগিয়ে নিলাম নতুন করে ঘেরার জন্য।
এবার জে আই তার দিয়ে বাগানে পাশ থেকে ওপার সুন্দর করে ঘিরে ফেললাম এবং চিকন বেড়া বাধা তার দিয়ে সুন্দর করে খুঁটির সাথে বেঁধে দিলাম। এভাবেই আমার সুন্দর একটি কার্যক্রমের সমাপ্ত হলো। আগাছা দমন করে আমার বাগানটি পুনরায় তার পূর্ণরূপ ফিরে পেল। আর এর সাথে পুরাতন ঘেরাগুলো দূর করে দিয়ে নতুন করে তার এর নেট দিয়ে বাগানটা পরিপূর্ণ ঘিরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেল এবং ছাগল গরু দ্বারা নষ্ট হওয়া থেকে মুক্তি পেল।
💌আমার পরিচয়💌
আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)। বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। মড়কা বাজার, গাংনী,মেহেরপুর এ গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক প্রাইভেট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক। ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও সৌর প্যানেল নিয়ে রিসার্চ করতে পছন্দ করি। প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। দীর্ঘদিনের আমি পাঙ্গাস মাছ চাষী এবং বিরহের কবিতা লেখতে খুবই ভালোবাসি। |
---|
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
💖💞💞💖
আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
---|---|
আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
ব্লগিং মোবাইল | Infinix hot 11s |
ক্যামেরা | camera-50mp |
আমার বাসা | মেহেরপুর |
আমার বয়স | ২৫ বছর |
আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোষ্টে,ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |
---|
প্ত
|
---|
আপনার নতুন ফলের বাগানে আগাছা দমন এবং নেট জাল দিয়ে বাগান সংস্কার খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। বাগান তৈরি করার সবার জন্যই ভালো তবে সেই বাগানের পরিচয় করা খুবই কঠিন অনেকের সঠিক পরিচর্যা করার কারণে সুন্দর করে বাগান তৈরি করতে পারে না। আপনার এই সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই।
আমার ফলের বাগানের জন্য দোয়া করবেন, ফল ধরলেই আপনাকে দাওয়াত দেব।
Great, make some @fruitjuice, upvoted and resteemed
Keep growing!🌱 We’ve reposted this.🌳
আসলে নিজের কাজ নিজে করাই ভালো। এতে শারীরিক ব্যায়াম হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আপনার বাগানটি দেখে আমার অনেক ভালো লাগলো। তবে বাগানে অনেক আগাছা জমে গেছে। ভালোই করেছেন আগাছা পরিষ্কার করছেন । পাশাপাশি ভেড়া দিয়ে ফেলেছেন যাতে ছাগল ও গরু ছাগল নষ্ট না করে।ধন্যবাদ ভাই আপনার শ্রমসাধ্য কাজটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এটা আমার অতি শখের বাগান। এখানে অসংখ্য ফলের গাছ রয়েছে। অবশ্য এবার বেদানা গাছে একটি বেদানা ধরেছে দেখে আমার খুবই আনন্দ লেগেছে।
আপনার নতুন ফলের বাগানে আগাছা দমন এবং নেট জাল দিয়ে বাগান সংস্কার ভালো উদ্যোগ। অনেক সুন্দর করে আপনি আমাদের মাঝে কাজটি শেয়ার করেছেন। এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর সবলিল ভাষার মন্তব্য প্রদান করার জন্য।
আমার নতুন ফলের বাগানে আগাছা দমন এবং নেট জাল দিয়ে বাগান সংস্কার খুবই ভালো কাজ। অনেক ভালো একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আপনার বাগানের চিত্র দেখে অনেক ভালো লাগলো। আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
এখন বর্ষার মৌসুম এখনই গাছের যত্ন নেয়ার সময়।
নিজের বাগানের পরিচর্যা করার অনুভূতি আলাদা। আপনার পোস্টটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
একদম ঠিক কথা বলেছেন ভাই।
নিজের বাগানে সময় কাটাতে এমনিতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে ।আর যে কোন সমস্যা দমন করতেও অনেক মজা লাগে। আপনার পোস্টটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো ।।শুভকামনা রইল আপনার জন্য।।
ফলের বাগান তৈরি করা খুবই একটা আনন্দের ব্যাপার।
গ্রামে আসলে আমিও আমার বাগানের পরিচর্যা করি। আসলে বাগানের পরিচর্যা করলে বাগানের ভেতর যেকোনো গাছ ভালো ফলন দেয়। আপনার কাজ দেখে খুবই ভালো লাগলো আমার।
এটা আমার শখের বাগান এখানে অসংখ্য ফলের গাছ রয়েছে।