বন্যা কবলিত মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই।।
স্টিমিট প্লাটফর্মের এক নাম্বার কমিউনিটি-
আমি প্রতিদিন সকাল বেলা অফিসে এসে নিউজ পেপার পড়ার চেষ্টা করি। দেশের হাল-অবস্থা জানার চেষ্টা করি। তবে আজকে নিউজ পেপার পড়ে মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো। অনেক গুলো প্রত্রিকা দেখলাম কোথাও বন্যা কবলিত মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে তেমন ভাবে কোন নিউজ পেপারে লিখছে না। আপনারা সবাই জানেন যে, বর্তমান সময়ে বেশ কয়েকদিন যাবৎ বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর এই বৃষ্টিপাতে ও উজানের ঢলে নদীর পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ আশে পাশের অনেক জেলা উপজেলায় বন্যা হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে জীবন যাপন করছে। তাদের এই দুঃখ দুর্দশা দেখার কেউ নেই। সবাই তাদের ব্যাপারে কেমন যেন উদাসীন। মানে দেশের উপর মহলের কথা শুনলে বুঝা যায়,দেশে কিছুই হয়নি। বাংলা অভিধানে বন্যা নামের কোন শব্দ আছে, সেটা মনে হয় তারা জানেই না।
আর দেশের মিডিয়া পড়ে আছে যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে।জো বাইডেন আগামী নির্বাচন করবে কি করবে না, ট্রাম্পের সাথে বাইডেন কি আলাপ আলোচনা করছে, যুক্তরাজ্যে কে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলো,কাকে কোন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাপ-দাদার নাম,কোন পরিবার থেকে এসেছে,তার বউ কোন গোষ্টির মানুষ সব কিছু নিউজ পেপারে বড় বড় অক্ষরে হেডলাইন করছে। ঘুরে ঘুরে ফিরে সব নিউজ পেপারে তাদের কথাই লেখা হচ্ছে। পত্রিকার লেখা দেখে মনে হয় নির্বাচন যুক্তরাজ্যে হয়নি,নির্বাচন হয়েছে আমাদের দেশে।
আর আমাদের দেশের কর্তাবাবুরা কি করছে, জীবনে একটা পদ্মা সেতু করেছিল, এখন পারতেছে না এই পদ্মা সেতু দিয়ে বেহেস্তে চলে যেতো। আমার মনে হয় তারা মারা যাওয়ার পরে ফেরেস্তারা যখন জিঙ্গেস করবে,তোমার রব কে...? তারা বলবে পদ্মা সেতু, ফেরেস্তারা যখন বলবে তোমার দ্বীন কি তারা বলবে পদ্মা সেতু....। আচ্ছা একটা পদ্মা সেতু করেছে সেটা নিয়ে এত মাতামাতি করার কি আছে। যখন পদ্মা সেতু উদ্ভোধন করেছিল তখন সারা বাংলাদেশে মিসিল মিটিং করে, আনন্দ উল্লাস করে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করে সেতু উদ্ভোধন করেছিল। এখন আবার সেতুর সমাপনী অনুষ্ঠান করে কত গুলো টাকা নষ্ট করলো। জীবনে এই প্রথম শুনলাম কোন সেতুর সমাপনী অনুষ্ঠান করা হয়।
অথচ দেশের হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানিতে ভাঁসতেছে। তাদের কোন খবরও নেই। দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে তাদের খোঁজখবর না নিলেও কমপক্ষে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল তো সেখানে পাঠাতে পারে। আর বন্যা তো এক জাগায় হয়নি, কয়েকটি জেলায় বন্যা হয়েছে। তাদের এই দুঃখ কষ্টের সময় তাদের পাশে না দাড়িয়ে জনগনের অর্থ খরচ করে পদ্মা সেতুর সমাপনী অনুষ্ঠানের নামে এত গুলো অর্থ নষ্ট করার যুক্তিকতা আমার বুঝে আসে না। সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজারের বন্যা ধীর্ঘদিন যাবৎ চলতেছে। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট করছে। বিশেষ করে ছোট বাচ্ছা,বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট করছে। সুনামগঞ্জ,সিলেটের বন্যা আজকে নতুন নয়। কয়েক বছর আগেও সেখানে বন্যা হয়েছিল। অথচ সেখানে এত ঘন ঘন বন্যা কেন হচ্ছে,বৃষ্টির পানি কেন এত দিন জমে আছে,সেটার খবর কেউ নেয় না। বন্যার কারনে স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। উপর মহল থেকে তাদের বিষয়ে কিছু বলতে শুনি না। উপর মহলে এক দল অন্য দলের দুষ ধরা নিয়ে ব্যস্ত। জনগনের দিকে নজর দেওয়ার সময় তাদের নেয়।
গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার আশে পাশের জেলা গুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। মানুষ গরু ছাগল হাঁস মুরগি নিয়ে পানিতে ভাঁসতেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাহয্য করা তো দুরের কথা তাদের খোঁজখবরও নেওয়ার মত কেউ নেই। স্বাধীনতার পরে এই দেশে জনবান্ধব কোন সরকার আসে নাই। জনগনকে নিয়ে চিন্তা করবে, দেশকে নিয়ে চিন্তা করবে, দেশের স্বার্থ আগে দেখেবে, এমন কেউ সরকার প্রধান হয়নি। মাঝে মাঝে বন্যায় কষ্ট করা কিছু বিডি ও ছবি দেখে খুবই কষ্ট লাগে। এক দিকে বৃষ্টি অন্যদিকে নিচ দিয়ে পানি। কিছু কিছু ছবিতে দেখা যায় বাড়ি ঘর সব ডুবে গেছে। ঘরের ভিতরে থাকার কোন উপায় নেই। আমার এক আত্বীয়ের বাড়ি সিলেট। তার বাড়ি ঘর সব ডুবে গেছে। কোন রকম বাচ্ছা কাচ্ছা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছে। অনেক দিন যাবৎ পানির সাথে যুদ্ধ করে টিকে ছিল। ঘরে খাওয়ার মত কিছু নেই, পান করার বিশুদ্ধ পানি নেই। বাড়ি ঘর ফেলে চলে এসেছে।
আমার এই ব্লগটি শেয়ার করার উদ্যেশ্য হলো দেশের মিডিয়া, দেশের সরকারি লোক, দেশের কর্ণধার সবাই কেমন যেন বন্যর্ত মানুষদের ব্যাপারে উদাসীন। কেউ তাদের খোঁজখর নেয় না। তারা তো দেশের জনগন। তারা তো দেশের সরকারকে টেক্স দেয়,আজকে যারা ক্ষমতার চেয়ার দখল করে এসির ঠান্ডা বাতাস খাচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি করে এনে বিশুদ্ধ পানি পান করছে, যে অর্থ ব্যয় করে দেশ বিদেশে ভ্রমন করছে, সে অর্থ তো জনগনের। আজকে জনগন বিপদে পড়েছে, বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে, অথচ কেউ তাদের বিপদের সময় পাশে দাড়াচ্ছে না। সবাই ব্যস্ত পদ্মা সেতু নিয়ে, জো বাইডেনকে নিয়ে, ট্রাম্পকে নিয়ে, যুক্তরাজ্যকে নিয়ে।
ধন্যবাদ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।

Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আমাদের পাশের জেলা কুড়িগ্রাম।আর এই কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় নব্বই হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে। আসলে আমাদের সকলের উচিত বন্যার কবলে পড়া প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে সিলেটের বন্যার পানি অনেক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আপনি খুবই সুন্দর করে বন্যা কবলিত মানুষের দুঃখ কষ্টের দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ভাইয়া সবাই বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাড়াবে তো দুরে থাক। কেউ খবরও নেয় না। কিছু বলার নেই। ধন্যবাদ।
আমাদের দেশের সাংবাদিক রা ঘর রেখে পর কে নিয়ে বেশি ব্যস্ত। সিলেটের এই অবস্থা প্রতিবছরই হচ্ছে কিন্তু কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ব্যাপার টা খুবই দুঃখজনক। লক্ষ লক্ষ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ এদের কোন কিছু যায় আসে না এতে।
জী ভাইয়া সত্যি বলেছেন আমাদের দেশের সাংবাদিকরা ঘর রেখে পর কে নিয়ে ব্যস্ত। দেশের নিউজ প্রকাশ করে সবার পরে,বিদেশের নিউজ সবার আগে। ধন্যবাদ।
https://x.com/ArianKh29670721/status/1809659315000869039?t=D7w56z4dMVHDXA6xeIoQog&s=19
বন্যা কবলিত মানুষের দুঃখ নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।আসলে এই সকল অঞ্চলের মানুষগুলোর খুব দুর্দিন দেখতে হয় যারা সিলেট,কুড়িগ্রাম ইত্যাদি উপকূলীয় জেলায় বাস করেন।আমাদের সবার উচিত এই বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।