জেনারেল রাইটিং: "সইলে সম্পত্তি আর না সইলে বিপত্তি"
নমস্কার
জেনারেল রাইটিং: "সইলে সম্পত্তি আর না সইলে বিপত্তি"
বন্ধুরা,প্রতিনিয়ত আমি ভিন্ন ভিন্ন পোষ্ট করতে ও লিখতে ভালোবাসি।তাই আজ আমি আপনাদের সামনে আবারো উপস্থিত হয়েছি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি পোস্ট নিয়ে। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে সহনশীল সম্পর্কে আমার নিজস্ব অনুভূতি শেয়ার করবো।আসলে আমাদের সমাজে সহনশীল মানুষের সংখ্যার বড্ড অভাব।যারা সহনশীল তারা আসলে অনেক বড় কিছু মোকাবিলা করতে পারে।এ ক্ষেত্রে কারো কারো মত ভিন্ন হতে পারে তবে আমি শুধুমাত্র আমার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছি। আশা করি অনুভূতিটি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে।যাইহোক তো চলুন শুরু করা যাক----
সহনশীলতা হচ্ছে সহ্য করার ক্ষমতা অর্থাৎ স্থিরতা,দৃঢ়তা এবং কঠোরতা।এই শব্দের অনেকগুলি অর্থ থাকতে পারে।সহনশীল মানুষ সর্বদায় অন্যের সাহায্য করে এবং নিজে ঠক খায়।মানুষের কাছে এরা নিজেদেরকে অনেক ছোট করে ফেলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে।যাইহোক এটা অনেক ধৈর্য্যসম্পন্ন একটি গুণ।
এবার আসি মূল কথায়--আসলে এটি একটি বহু পুরোনো প্রবাদ।আর এটি আমি শুনেছিলাম একজন বয়স্ক মানুষের মুখ থেকে।যে কিনা তার ভাইকে প্রতি পদে পদে ছোট করে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত করে সহনশীল থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।ব্যাপারটি হাস্যকর হলেও সত্যি।আসলে বর্তমানে স্বার্থপর মানুষের কমতি নেই, আগের দিনেই আমি আমার পোষ্টে তা ব্যাখ্যা করেছি।তেমনি এই মানুষগুলো মুখে বড় বড় বক্তৃতা দিলেও আপনজনকে দুঃখ ও কষ্টে ভরিয়ে রাখে।নিজের আপন মানুষগুলোকে একটু একটু করে কষ্ট দেয়।যে কষ্টের বোঝা একসময় অনেক বেশি হয়ে যায় এবং হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে।আর সেই ক্ষত থেকেই সৃষ্টি হয় বিষাক্ত এক নতুন মনের।তবুও ধৈর্য্যশীল ব্যক্তি তার কোনো বিষাক্ত মনের জ্বালা-যন্ত্রণার প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করে এবং নীরবে কাঁদে।
বর্তমানে সহনশীল মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।আসলে আমাদের সমাজে সহনশীল মানুষের সংখ্যার বড্ড অভাব।যারা সহনশীল তারা আসলে অনেক বড় কিছু মোকাবিলা করতে পারে বা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা রাখে।কিন্তু দিন দিন মানুষের বিবেক ধৈর্য্য হারাচ্ছে,মনকে বিষাক্ত করে তুলছে এবং হৃদয়কে হিংস্রতায় পরিণত করে তুলেছে।যেখানে এই প্রবাদের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।
সইলে সম্পত্তি আর না সইলে বিপত্তি অর্থাৎ যে ব্যক্তি কঠিন পরিস্থিতিতে সকল কষ্টকে আলিঙ্গন করে সইয়ে যায় সে সম্পত্তির অধিকার পায় আর যে ধৈর্য্য ধারণ করতে পারে না সে বিপদে পড়ে।কিন্তু বর্তমানে আমি এই প্রবাদের কোনো ত্রুটি যেমন খুঁজে পাই তেমনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পায়নি।আসলে বর্তমানে পৃথিবীটা এমন এক অনৈতিক কর্মকান্ড এর মধ্যে দিয়ে চলছে যেখানে সহনশীলতা শব্দের কোনো স্থান নেই।বরং যারা সহনশীলতা বর্জন করে চলে তারাই সম্পত্তির অধিকার পায়।অন্যদিকে তাদেরকে কোনো বিপদেও পড়তে হয় না কারন তারা নিজেরাই বিপদজনক ও বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।পৃথিবীটাই সম্পূর্ণ উল্টো জগৎ দিয়ে চলতে শুরু করেছে যেখানে বিবেকহীন মানুষেরাই দায়ী।তবুও কিছু সহনশীল মানুষের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীটা এখনো টিকে আছে ,এখনো নিজের গতিতে চলছে।তাই সম্পত্তি পাওয়া যাক আর না-ই যাক সহনশীল থাকতে হবে সবাইকে।সকল বাঁধা পেরিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সততা ও সহনশীল হয়ে।।
পোষ্ট বিবরণ:
শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
---|---|
ডিভাইস | poco m2 |
অভিবাদন্তে | @green015 |
লোকেশন | বর্ধমান |
আমার পরিচয় |
---|
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Thanks.
এখনকার সময় আসলে প্রবাদটা পুরোপুরি উল্টো বলে আমারও মনে হয়। আমার মনে হয়, যে ব্যক্তি অত্যন্ত সহনশীল সেই সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে যারা একটু চালাক তারাই অর্থ সম্পত্তির মালিক হয়। হয়তো আগেরকার মানুষ এরকম ছিল, এজন্য প্রবাদটা তখন ঠিকঠাক ছিল। এখনকার মানুষ তো অনেক বেশি চালাক এবং নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝেনা। তবে তুমি এখানে যে কথাগুলো বলেছো প্রত্যেকটা কথার যুক্তি রয়েছে বোন।
একদমই ঠিক বলেছো দাদা,এই প্রবাদের মিল বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যায় না।ধন্যবাদ, তোমার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।