ক্রিয়েটিভ রাইটিং || ভৌতিক রহস্য গল্প : পোড়া বাড়ি (পর্ব-০৪) শেষ পর্ব।

in আমার বাংলা ব্লগlast year

নমস্কার,

তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি, সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। আমিও মোটামুটি ভালো আছি।

আজকের ব্লগে তোমাদের সাথে একটি রহস্যময় ভৌতিক গল্প শেয়ার করবো। গল্পের নাম "পোড়া বাড়ি "। গল্পটির চতুর্থ পর্ব বা শেষ পর্ব নিচে দেখে নেওয়া যাক।

image-manipulation-3349068_1280.jpg

ইমেজ সোর্স

তৃতীয় পর্বের লিংক

তারা এই সাউন্ড শোনার পরে বাড়ির ভিতরের রুমগুলোতে গিয়ে খুঁজে দেখার চেষ্টা করে কোথা থেকে এই সাউন্ডটা হচ্ছিল। তবে তারা গিয়ে এর উৎস কোথাও খুঁজে পায় না। কারণ বাড়িতে কোন বাসন-কোসন এর চিহ্নমাত্র ছিল না। তাছাড়া এত বছরের পুরনো পোড়া বাড়িতে বাসন-কোসন আসবেই বা কোথা দিয়ে, এটাও বড় প্রশ্ন। এই সময় সবগুলো বন্ধু একসাথেই ছিল। তখন তারা একটা বিষয় খেয়াল করে, এই অন্ধকারের মধ্যে আরও অন্ধকার কোন ছায়া তাদেরকে ঘিরে রেখেছে। এটা তাদেরকে প্রচন্ড মাত্রার ভয় দেয়। তখন তারা এটা অনুভব করতে থাকে, এই পোড়া বাড়িতে এসে তারা ভুল করেছে।

এই সময় তারা একটা বাচ্চা মেয়ের চিৎকারও শুনতে পায়। প্রচন্ড বিপদে পড়ে মানুষ যে চিৎকার করে, সেরকমই ছিল সেই চিৎকার। উপরের কোন রুম থেকে হচ্ছিল এই চিৎকার। এগুলো তাদের ভিতরে আরও ভীতির সঞ্চার করে। তারা সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়ে একে অন্যের হাত ধরে বসে থাকে এইসময়। তারা ভয়ে চোখও বন্ধ করেও থাকে তখন। হঠাৎ করে তারা উপলব্ধি করে, সব বন্ধুরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকলেও সবাই কেমন জানি আলাদা হয়ে যাচ্ছে। কেউ যেন তাদেরকে টেনে আলাদা করে দিচ্ছে এমনটা বুঝতে পারে তারা

তারা অনেক জোরে চিৎকার করতে থাকে কিন্তু চিৎকারের কোন সাউন্ড হয় না। কারো চিৎকারের আওয়াজ কেউ শুনতে পায় না কিন্তু তারা চিৎকার করে যায়। এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয় তখন তাদের শব্দহীন চিৎকারেসেই রাতের এরকম ঘটনার পরে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে সেই পোড়া বাড়ির মধ্যে। কারোরই রাতের মধ্যে আর জ্ঞান ফেরে নি। ওই রাতে পরে যে কি হয়েছিল তা আর তারা মনে করতে পারে না। সকালবেলা প্রত্যেকের বাড়ির লোকজন খুঁজতে খুঁজতে এই পোড়াবাড়ির মধ্যে এসে তাদের খুঁজে পায়।

প্রত্যেকের জ্ঞান ফেরার পরে সবাই অবাক হয়ে বাড়ির লোকজনদের দেখতে থাকে। তারাও মনে হয় ততক্ষণে বুঝে উঠতে পারেনি, যে কি হয়েছে বা কি হচ্ছে। ভয়ের ঘোর তখনও তাদের কাটে নি এরকম একটা পরিস্থিতি। পরে যার যার বাড়িতে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়িতে আসার পরে, কি ঘটনা ঘটেছিল ওই পোড়া বাড়িতে রাতে সেটা কোন বন্ধুই তাদের বাড়িতে শেয়ার করে না। এমনকি প্রায় দশ দিন পর্যন্ত কেউ কোনো কথাই বলেনি তাদের বাড়ির লোকদের সঙ্গে। এই পোড়া বাড়ি যাওয়ার অভিজ্ঞতার সবকিছু তারা তাদের নিজেদের মধ্যেই রেখেছিল। তাদের এই বন্ধুদের মধ্যেও অনেকদিন যাবত দেখা হয় না ঘটনার পর থেকে।

এই ঘটনা তাদের জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে। তারা এখন সবাই চঞ্চল থেকে একটু শান্ত হয়ে গেছে।অনেক সময় রাস্তা দিয়ে চলার পথে অনেকেই জিজ্ঞেস করে, ওইখানে যাওয়ার পরে কি ঘটেছিল? কিন্তু কেউই কোন কিছু বলে না। এভাবেই এই রহস্য তাদের ভিতর থেকে যায়। তবে এখন পোড়া বাড়ির কথা শুনলে তারা চমকে ওঠে।


পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীক্রিয়েটিভ রাইটিং (ভৌতিক রহস্য গল্প)
লোকেশনবারাসাত , ওয়েস্ট বেঙ্গল।
বন্ধুরা, আমার আজকে শেয়ার করা পোড়া বাড়ি গল্পের শেষ পর্ব তোমাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিও । সবাই ভালো থাকো, সুস্থ থাকো , সুন্দর থাকো ,হাসিখুশি থাকো , নিজের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকো , সবার জন্য এই শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ সবাইকে






আমার পরিচয়

IMG_20220728_164437.jpg

আমি সুবীর বিশ্বাস( রঙিন)। কলকাতার বারাসাতে আমি বসবাস করি। আমি স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আমার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিস এন্ড ফিসারিস সাবজেক্ট নিয়ে। বর্তমানে আমি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যানরত আছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটু শান্ত স্বভাবের । চুপচাপ থাকতেই বেশি ভালোবাসি আমি। নতুন নতুন জিনিস শিখতে আমার খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে আর্ট করা, ফটোগ্রাফি করা, রেসিপি করা , গল্প লেখা আমার বেশ ভালো লাগে। আমি স্টিমিটকে অনেক ভালোবাসি এবং সব সময় স্টিমিটে কাজ করতে চাই।

🌷🌷 সমাপ্ত 🌷🌷

Coin Marketplace

STEEM 0.15
TRX 0.23
JST 0.032
BTC 86640.78
ETH 2349.73
USDT 1.00
SBD 0.68