''আমার বাংলা ব্লগ'' অভিশপ্ত হাভেলি নিয়ে ছোট্ট একটি ভুতুড়ে গল্প।
হ্যালো বন্ধুরা সকলে কেমন আছেন, আশা করি সকলে ভালো আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে আমার প্রথম একটি পোস্ট। অভিশপ্ত হাভেলি, ভয়ংকর একটি গল্প নিয়ে।
অভিশপ্ত হাভেলি""
রাত তখন প্রায় বারোটা। কলকাতা থেকে দূরের ছোট্ট গ্রাম কুমারপুর। গ্রামটি জনবসতিহীন নয়, তবে বেশ নির্জন। গ্রামের প্রান্তে এক প্রাচীন হাভেলি, যার বয়স অন্তত দুশো বছর। চারপাশে বিশাল বটগাছ, পুরোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারত, আর বাতাসে এক অদ্ভুত গন্ধ।
অর্ণব, রিয়া, এবং শুভম—তিন বন্ধু, যারা শহর থেকে এসেছিল এই হাভেলির রহস্য উদঘাটন করতে। স্থানীয়রা বলেছিল, কেউ যদি এখানে রাত কাটায়, তবে আর ফিরে আসে না। কিন্তু তারা ছিল অবিশ্বাসী, কুসংস্কারে বিশ্বাস করত না। তাই তারা ঠিক করল এক রাত এখানে কাটিয়েই দেখবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
হাভেলির ভেতরে ঢুকতেই কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। ঘরের ভেতর দেওয়ালে ছোপ ছোপ লালচে দাগ, ধুলোমাখা পুরোনো আসবাব, আর বাতাসে পচা কাঠের গন্ধ।
এটা তো ঠিকই আছে! ভূত-টুত কিছু নেই,হেসে বলল শুভম।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে লাগল। দেয়ালের বড় ঘড়িটি হঠাৎ করে বিকট শব্দে বেজে উঠল, অথচ সেটার ব্যাটারি ছিল না। কাঁচের জানালার ওপাশে ছায়ামূর্তি দেখা গেল, কিন্তু কাছে গিয়ে কেউ ছিল না।
রিয়া একটু ভয় পেতে শুরু করেছিল, কিন্তু সে কিছু বলল না। অর্ণব তখন ক্যামেরা বের করে পুরো হাভেলির ছবি তুলতে লাগল। ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ ক্যামেরার স্ক্রিনে কিছু একটা ধরা পড়ল—একটা আধো-অন্ধকার ছায়া, যেন কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
তৃতীয় অধ্যায়: পুরোনো রহস্য
হাভেলির নিচতলায় একটা বন্ধ দরজা ছিল। স্থানীয়রা বলেছিল, এই দরজার ওপাশে এক ভয়ংকর ইতিহাস লুকিয়ে আছে। অনেক বছর আগে এই হাভেলির মালিক, জমিদার রুদ্রপ্রতাপ সিংহ, নিজের স্ত্রীকে এখানে জীবন্ত কবর দিয়েছিল। কারণ, তিনি সন্দেহ করেছিলেন তার স্ত্রী পরকীয়া করছিল।
রিয়া দরজার কাছে গিয়ে কান পেতে শুনল—মৃদু কান্নার আওয়াজ!
আমরা এখানে আর এক মুহূর্তও থাকব না” কেঁপে উঠল রিয়া।
কিন্তু অর্ণব আর শুভম এত সহজে বিশ্বাস করল না। তারা দরজাটা ভাঙার চেষ্টা করল। দরজা খুলতেই হঠাৎ বাতাসের তীব্র ঝড় উঠল, ঘরের মধ্যে যেন কারও অদৃশ্য উপস্থিতি অনুভূত হলো।
চতুর্থ অধ্যায়: মুখোমুখি সাক্ষাৎ
ঘরের ভেতরটা ছিল ঠান্ডা, পাথরের মেঝেতে রক্তের দাগের মতো লালচে ছোপ। হঠাৎই, ঘরের এক কোণ থেকে একটি আবছা চেহারা বেরিয়ে এল।
একটি সাদা শাড়ি পরা নারী, চোখ দুটো লাল, শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
রিয়া চিৎকার করে উঠল, কিন্তু কণ্ঠস্বর বের হলো না!
শুভম পেছনে তাকিয়ে দেখল, ছায়ামূর্তিটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। দরজা তখনই বন্ধ হয়ে গেল নিজে থেকেই! অর্ণব মোবাইলটা বের করল, কিন্তু ফোনের স্ক্রিন ব্ল্যাঙ্ক। আলো নিভে গেল।
তাদের তিনজনেরই দম বন্ধ হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল, কোনো অদৃশ্য শক্তি তাদের শ্বাসরোধ করছে।
পঞ্চম অধ্যায়: পালানোর চেষ্টা
তিনজনেই দরজা খুলতে দৌড় দিল, কিন্তু দরজা খুলছিল না। হঠাৎ করেই ভূতটি বিকট চিৎকার করে উঠল। তার চিৎকার এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনজনই কানে হাত দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
রিয়া কোনোমতে উঠে জানালার কাছে ছুটল, কিন্তু জানালার ওপাশে কোনো গ্রাম বা গাছপালা নেই—শুধু অসীম শূন্যতা! যেন তারা অন্য কোনো ভৌতিক জগতে চলে এসেছে।
শুভম পেছন ফিরে দেখল, ভূতটি একেবারে তার সামনে। তার হিমশীতল হাত শুভমের কাঁধে রাখতেই সে অচেতন হয়ে পড়ল।
শেষ অধ্যায়: ফিরে আসা, নাকি?
অর্ণব আর রিয়া শুভমকে টেনে নিয়ে দরজার দিকে দৌড় দিল। দরজা হঠাৎ খুলে গেল, আর তারা বাইরে এসে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হাভেলিটি অদৃশ্য হয়ে গেল!
তারা তিনজন কোনোভাবে গ্রামে ফিরে এল। সকালে শুভম জেগে উঠল, কিন্তু তার চোখের মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা।
রিয়া জিজ্ঞেস করল,তুই ঠিক আছিস তো?
শুভম ধীরে ধীরে মাথা তুলল, তার ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত হাসি
তুমি কি সত্যিই মনে করো আমরা ফিরে এসেছি?
এতক্ষণ সময় নিয়ে আমার পোস্ট পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার পরিচয়,,
আমার নাম -@uttomkumar
আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি।
আমি গল্প লিখতে ফটোগ্রাফি করতে ভালো লাগে । আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করার জন্য। সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সকলকে।
image সোর্স উল্লেখ করুন।