কয়েকটি রেনডম ফটোগ্রাফি
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
আজকে ফটোগ্রাফি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি প্রতি সপ্তাহে চেষ্টা করি একটি করে ফটোগ্রাফি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করার। তবে আমি চেষ্টা করি ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা আনার। মাঝেমধ্যে শুধুমাত্র আকাশের কিংবা ফুলের ফটোগ্রাফি শেয়ার করি। আবার মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি একসাথে শেয়ার করি। আজকে আপনাদের মাঝে রেনডম কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করব। এগুলো আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্যাপচার করেছি। যদিও আমি ফটোগ্রাফি তে তেমন দক্ষ নই। আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। তাহলে চলুন ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আসি।
প্রথমেই আপনাদের সাথে একটা শহীদ মিনারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করলাম। শহীদ মিনার দেখলেই আমাদের সবার ১৯৫২ সালে সে ভাষা আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। রক্ত দিয়ে অর্জন করা আমাদের এই মাতৃভাষার ইতিহাস মনে পড়ে যায় আমাদের। একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। আর সেই দিনে শহীদ মিনার গুলোতে ফুল দেওয়া হয়। এই ফটোগ্রাফি টা আমাদের ক্যাম্পাস থেকে করা। আজকে করেছিলাম। একুশে ফেব্রুয়ারি আমার ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়নি। তবে সবার বিভিন্ন পোস্টে দেখেছিলাম ক্যাম্পাসে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনেক সুন্দর আলপনা আঁকা হয়েছে। তবে আজকে গিয়েও যে দেখবো শহীদ মিনারে এখনো ফুল রয়েছে এটা ভাবিনি। শহীদ মিনারে ফুলগুলো দেখতে ভালোই লাগছিল। আর এটা সামনে আলপনাটাও খুব চমৎকার দেখাচ্ছিল। সব মিলিয়ে ফটোগ্রাফি টা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
এবার শেয়ার করলাম একটা পলাশ ফুল গাছের ফটোগ্রাফি। অনেকদিন আগে একটা পোস্টে আপনাদের সাথে পলাশ ফুলের কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছিলাম। এই ফটোগ্রাফিটাও সেদিনই ক্যাপচার করা। সেদিন বাইরে বেশ রোদ ছিল। সূর্য মামা কে দেখেই বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই এতক্ষণে। আমি চেয়েছিলাম আকাশের কিছুটা অংশ এবং গাছের কিছু অংশ রেখে ফটোগ্রাফি টা করার জন্য। ফুলের রংটা সত্যি বেশ মনোমুগ্ধকর ছিল।
এটা হচ্ছে বাঁধাকপির ফটোগ্রাফি। এই ফটোগ্রাফিরা ক্যাপচার করেছিলাম একটা সরকারি কোয়ার্টারের আঙিনা থেকে। উনারা বাড়ির সামনে অনেক ধরনের সবজির গাছ লাগিয়েছে। ফুলকপি, ব্রকলি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, টমেটো সবকিছুই ছিল তাদের বাগানে। বাঁধাকপি গুলো বেশ বড় ছিল। বাকি জিনিসগুলো সবে মাত্র বের হয়েছে। তাই বাঁধাকপির ফটোগ্রাফি টাই ক্যাপচার করলাম। এটা সাইজ আসলেই বেশ ভালোই বড় ছিল।
এবার একটা খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করলাম। এটা দেখে নিশ্চয়ই অনেকের খেতে ইচ্ছা করবে। বিশেষ করে যারা কাচ্চি পছন্দ করে। কাচ্চি আমারও বেশ ভালো লাগে খেতে। ফটোগ্রাফি টা বেশ কিছুদিন আগে ক্যাপচার করা। এখন দেখে আবার আমার নিজেরই খেতে ইচ্ছে করছে। একদিন ডিনারে পরিবারের সবাই মিলে কাচ্চি ডাইনে গিয়েছিলাম। তখন এই ফটোগ্রাফি টা ক্যাপচার করেছিলাম। ওদের কাচ্চিটা আসলেই বেশ সুস্বাদু। এছাড়াও ওদের ফিরনি টাও বেশ দারুন ছিল।
এটা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল এলোভেরা গাছের ফটোগ্রাফি। প্রথমে হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে এটা সত্যিকারের অ্যালোভেরা। এই আর্টিফিশিয়াল প্ল্যান্ট টা আমার বেশ চমৎকার লাগছিল দেখতে। বর্তমান সময়ে আর্টিফিশিয়াল ফুল গুলোর থেকেও এ ধরনের বিভিন্ন রকম প্ল্যান্ট গুলো আমার খুবই ভালো লাগে। এটা দেখে কিনতে ইচ্ছে করছিল পরে ভাবলাম বাসায় এমনিতেই এলোভেরা গাছ আছে। তবে এটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে তাই আমি ফটোগ্রাফি করে রেখেছি।
সবশেষে সুন্দর একটা দৃশ্যের ফটোগ্রাফি শেয়ার করলাম। পড়ন্ত সূর্য এবং নিরিবিলি একটা বিকেল। সুন্দর এই আগ মুহূর্তটা আমার বেশ ভালো লাগে। এই ফটোগ্রাফিটা বেশ অনেকদিন আগেই ক্যাপচার করা। উপরের ফটোগ্রাফিতে যেই বিল্ডিংটা দেখা যাচ্ছে এটা হচ্ছে আমাদের ক্যাম্পাস। আর এর সাথে বেশ বড় একটা মাঠ। মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা ক্যাম্পাসের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম তখনই সুন্দর দৃশ্যটা চোখে পড়ল। আর ফটোগ্রাফি টা ক্যাপচার করে নিলাম।
এই ছিল আমার আজকের পোস্ট। আশা করি সকলের কাছে ভালো লেগেছে। ফটোগ্রাফি গুলো কেমন হয়েছে তা অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন। কোন ধরনের ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
আমি ইসরাত জাহান মিম। বর্তমানে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছি। আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে কিন্তু বাবার ব্যবসার কারণে বর্তমানে অবস্থান করছি গাজীপুরে। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের "আমার বাংলা ব্লগ" পরিবারের একজন সদস্য এজন্য আমি অনেক উৎসাহিত ও আনন্দিত। আমি বই পড়তে পছন্দ করি, সেই সাথে নতুন নতুন ফটোগ্রাফি করতে ও ইউনিক রেসিপি এবং নতুন নতুন ইউনিক ডাই তৈরি করতে বেশ পছন্দ করি। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে বিভিন্ন নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে ও প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর। স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য।
ডিভাইস নেম:- Samsung Galaxy A03s
ধন্যবাদান্তে
@isratmim
আপু আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। বিশেষ করে প্রথম ফটোগ্রাফি আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে। মায়ের ভাষার মাসে সকল ভাষা শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইল। অন্যান্য ফটোগ্রাফি গুলোও ভালো লেগেছে শিমুল ফুলগুলো দারুন লাগছিল দেখতে। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমিও খুবই আনন্দিত হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আপনার ফটোগ্রাফিগুলো সত্যিই খুবই সুন্দর এবং প্রতিটি ছবির সাথে একটি গল্প, একটি স্মৃতি জড়িয়ে আছে। শহীদ মিনারের ছবি যেন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং শ্রদ্ধার অনুপ্রেরণা জাগায়, আর পলাশ ফুলের ছবিটি রোদেলা দিনে প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরেছে। বাঁধাকপির ছবির মতো ছোটখাটো কিছু সৌন্দর্যও বড়ভাবে ধরা পড়েছে, যা সাধারণ জীবনে সহজে চোখে পড়ে না। খাবারের ছবি বিশেষত কাচ্চি, মনে হচ্ছে যেন স্বাদে ভরপুর, আর সেই মুহূর্তের স্মৃতি! আপনি যে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ধারণ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এভাবে প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে সম্পর্কিত আপনার অনুভূতি এবং দর্শন শেয়ার করাটা খুবই আনন্দদায়ক।
সুন্দর ও গঠনমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে কাজে আরো উৎসাহিত করে তোলার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনি পোস্টের মাধ্যমে এত চমৎকার সব ফটোগ্রাফি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এখনও পর্যন্ত আপনার ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে ফুল রয়েছে দেখে সত্যিই অবাক হলাম। কারণ ফুল দেওয়ার কিছুক্ষণ পরে সব পরিস্কার করে ফেলা হয়। কিন্তু আপনার ফটোগ্রাফির মধ্যে দেখা যাচ্ছে শহীদ মিনারের সামনে থেকে একটা ফুল ও সরানো হয়নি। তাছাড়া গাছ ভর্তি পলাশ ফুল দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। লোভনীয় কাচ্ছি দেখে তো জিভে জল চলে আসলো। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রকাশ করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
আমার কাছে মনে হয় যে বাংলাদেশে এই কাচ্চি ডাইনের কাচ্চি বিরিয়ানি অনেক বেশি জনপ্রিয়। আর পলাশ ফুলের ছবি আমার ভীষণ ভালো লাগে। এছাড়াও ভাষা শহীদদের শহীদ মিনারের ছবিটি আমার খুব ভালো লেগেছে। এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
কাচ্চি ডাইনের কাচ্চি বিরিয়ানি খেতে খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। ধন্যবাদ সুন্দর ও গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য।
আপনার শেয়ার করা রেনডম ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগলো। আপনি চমৎকার ভাবে বেশকিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। প্রতিটি ফটোগ্রাফি ও তার বর্ননা আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
আপনাদের ভাল লাগাই আমার এই কাজের সার্থকতা ধন্যবাদ সুন্দর ও গঠনমূল মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি চমৎকার হয়েছে আপু। সত্যি , শহীদ মিনার দেখলেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। শিমুল ফুলের ফটোগ্রাফি টি দেখে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম আপু। বসন্তকালের সৌন্দর্য শিমুল ফুল। বাকি ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার হয়েছে। আর্টিফিশিয়াল এলোভেরার গাছটি বেশ পছন্দ হলো। ঘর সাজানোর জন্য এরকম আর্টিফিশিয়াল ফুল কিংবা গাছ ভীষণ কাজে দেয়। চমৎকার ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
সুন্দরও গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার জন্য রইল শুভকামনা।
আপনার ফটোগ্রাফি পোস্টটি দারুণ লেগেছে।শহীদ মিনার, পলাশ ফুল থেকে পড়ন্ত বিকেল প্রতিটি ছবি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে শহীদ মিনারের ছবিটি ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
সুন্দর মন্তব্য করে আমাকে আউর উৎসাহিত করার জন্য ধন্যবাদ
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার মতো আমিও সবসময় চেষ্টা করি ভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি শেয়ার করতে। যাইহোক শহীদ মিনারের ফটোগ্রাফিটা জাস্ট অসাধারণ হয়েছে আপু। কাচ্চি ডাইনের ফিরনি খেতে আসলেই দারুণ লাগে। বেশ ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি গুলো দেখে। এতো সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাদের ভালোলাগাই আমার এই কাজের সার্থকতা সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।